নির্বাচনের সময় সরকারি মাধ্যমকে ব্যবহার করে প্রচার চালানো যায় না। আদর্শ আচরণ বিধির এই নির্দেশ ভেঙেছেন প্রধানমন্ত্রী নিজে। নির্বাচন কমিশনে এই অভিযোগ দায়ের করেছে সিপিআই(এম)। ডিলিমিটেশন বিল সংসদে আটকে যাওয়ার পর প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ দেন শনিবার রাত সাড়ে আটটায়। বিল আটকে যাওয়াব বিরোধীদের ‘মহিলা বিরোধী‘ থেকে ‘ভ্রূণ হত্যায় দায়ী‘ বলে প্রচার চালান। বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির নাম করে চলে প্রধানমন্ত্রীর এই ভাষণ। ‘প্রধানমন্ত্রীর দেশবাসীর উদ্দেশ্যে ভাষণ‘ শিরোনামে চলে এই নির্বাচনী প্রচার।
নির্বাচন কমিশনে দায়ের অভিযোগে সিপিআই(এম) বলেছে, পশ্চিমবঙ্গ এবং তামিলনাডুতে নির্বাচন সামনে। আদর্শ আচরণ বিধি জারি রয়েছে। তার মাঝেই সরকারি প্রচারমাধ্যম দূরদর্শনকে ব্যবহার করে রাজনৈতিক ভাষণ দিয়েছে প্রধানমন্ত্রী।
মহিলা সংরক্ষণ বিল আগেই পাশ হয়, ২০২৩ সালে। কিন্তু কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদী সরকারই তা চালু করেনি। তার বদলে আইনে নতুন সংশোধন এনে তিনটি বিল পেশ করে সংসদে। সেখানে বিষয়ই ছিল ডিলিমিটেশন করে লোকসভার আসন বৃদ্ধি করা। মহিলা সংরক্ষণ চালুর বিষয়টি অজুহাত খাড়া করে দু’বছর আগে পাশ বিলে সংশোধনী আনে মোদী সরকার। ডিলিমটেশনে প্রস্তাবিত সূত্র অনুযায়ী উত্তর ভারতের রাজ্যগুলিতে আসনবৃদ্ধি হবে আনুপাতিক হারে বেশি। যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো ভারসাম্য বদলানোর এই প্রয়াস আটকে গিয়েছে লোকসভায়।
রবিবার পশ্চিমবঙ্গে প্রচারে এসে ফের বিরোধীদের মোদী দায়ী করেছেন ‘মহিলাদের এক তৃতীয়াংশ আসন সংরক্ষণ আটকানোর’ অভিযোগ তুলে।
সিপিআই(এম) সহ বামপন্থীরা বারবারই বলেছে মহিলা সংরক্ষণ আইন, যা দু’বছর আগে পাশ হয়েছে, তাকেই প্রয়োগ করা যায়। ডিলিমটেশন এবং জনগণনার শর্ত বাদ দিলে প্রয়োগে অসুবিধা থাকে না। কিন্তু মোদী সরকারের সদিচ্ছা নেই। বরং মহিলা সংরক্ষণকে দেখিয়ে ২০২৯-এ লোকসভা ভোটের আগে নিজের জোরের এলাকায় আসন বাড়ি দেওয়ার কৌশল নিয়েছে। মহিলাদের দাবার ছকে বোড়ো করা হচ্ছে।
পশ্চিমবঙ্গে বামপন্থীরা মনে করিয়েছেন যে এরাজ্যের বামফ্রন্ট সরকারের সময়ে পঞ্চায়েত ও পৌরসভায় মহিলাদের আসন সংরক্ষন চালু হয়েছে। সারা দেশে উদাহরণ থেকেছে পশ্চিমবঙ্গ। বামফ্রন্ট সরকারের সদিচ্ছা ছিল বলেই তা চালু করতে সমস্যা হয়নি সেসময়।
CPI-M Modi EC
দূরদর্শনে ভোটের প্রচার, মোদীর বিরুদ্ধে কমিশনে সিপিআই(এম)
×
Comments :0