লড়াইয়ের ময়দান তাঁর কাছে নতুন নয়। কখনও পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য হিসেবে প্রশাসনিক দায়িত্ব সামলেছেন, আবার কখনও ভয়াবহ বন্যায় বিপর্যস্ত মানুষের মুখে অন্ন তুলে দিতে টানা দু’মাস খুন্তি হাতে কমিউনিটি কিচেনের তদারকি করেছেন। ধূপগুড়ির সেই ঘরের ছেলে, মেটেলি পাবলিক লাইব্রেরির কর্মী নিরঞ্জন রায়কেই এবার ২০২৬'র বিধানসভা নির্বাচনে ধূপগুড়ি কেন্দ্র থেকে প্রার্থী করল সিপিআই(এম)।
ছাত্র আন্দোলনের লড়াকু পথ পেরিয়ে নিরঞ্জন রায়ের মূল রাজনীতিতে হাতেখড়ি। বাম জমানায় ২০০৩ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত ধূপগুড়ি পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য হিসেবে সাফল্যের সঙ্গে কাজ করেছেন তিনি। পরবর্তীতে ২০০৮ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত জেলা পরিষদের সদস্য হিসেবেও তাঁর কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে। গধেয়াকুঠীর ভান্ডানির এই বাসিন্দার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সততা ও মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতার ওপর ভরসা রেখেই দল তাঁকে এবার বড় দায়িত্ব দিয়েছে।
রাজনৈতিক মহলের মতে, নিরঞ্জন রায়ের প্রার্থীপদ পাওয়ার পেছনে বড় কারণ সাম্প্রতিক বন্যায় তাঁর নিঃস্বার্থ ভূমিকা। কয়েক মাস আগে ধূপগুড়ি ব্লকের গধেয়াকুঠী গ্রাম পঞ্চায়েতে যখন ভয়াবহ বন্যা থাবা বসিয়েছিল, তখন দুর্গতদের পাশে ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন তিনি। নিজের উদ্যোগে টানা দু’মাস লঙ্গরখানা বা রান্নাঘর চালিয়েছেন। দলের কর্মীদের নিয়ে রাতদিন এক করে বন্যার্তদের দু’বেলা খাবারের সংস্থান করেছেন। প্রচারের আড়ালে থেকে সাধারণ মানুষের খিদে মেটানোর এই নিরলস পরিশ্রমই তাঁকে সাধারণ মানুষের মনের মণিকোঠায় নিয়ে এসেছে।
প্রার্থী তালিকা ঘোষণার পর থেকেই কোমর বেঁধে ময়দানে নেমে পড়েছেন নিরঞ্জন বাবু। এদিন সন্ধ্যায় ধূপগুড়ি শহরের হাসপাতাল এলাকা থেকে তিনি প্রচার শুরু করেন। সাধারণ মানুষের সঙ্গে হাত মেলানো আর অভাব-অভিযোগ শোনার মধ্য দিয়েই শুরু হল তাঁর লড়াই।
নিরঞ্জন রায় বলেন, "দল আমার ওপর ভরসা রেখেছে, এটা অত্যন্ত আনন্দের। জীবনের বড় সময়টা মানুষের সঙ্গেই থেকেছি। এবার বিধানসভাতেও মানুষের কণ্ঠস্বর হয়ে উঠতে চাই। ধূপগুড়ি ব্লকের কৃষকদের দীর্ঘদিনের বঞ্চনা এবং তাঁদের জীবন-জীবিকার দাবিগুলি বিধানসভায় তুলে ধরাই হবে আমার মূল লক্ষ্য।"
Election Campaign
জনসেবাই হাতিয়ার, ধূপগুড়িতে প্রার্থী ‘আমাদের রান্নাঘরের’ নিরঞ্জন
×
Comments :0