Chargesheet BJP-TMC

‘চার্জশিট‘ তরজা বিভাজনের দুই শক্তির

রাজ্য বাংলা বাঁচানোর ভোট

ধর্মীয় মেরুকরণ করে ভোট জিততে ব্যস্ত দুই দল শনিবার ‘চার্জশিট‘ দিল একে অন্যকে।
রাজ্যের তৃণমূল সরকারের সঙ্গে ছত্রে ছত্রে মিল কেন্দ্রে নিজের সরকারের। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী তিনিই। রাজ্যের তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে ‘১৪ অভিযোগের চার্জশিট‘ আবার প্রকাশ করেছেন সেই অমিত শাহই।
রাজ্যে এসে সাংবাদিক সম্মেলন করে শাহ বলেছেন, ‘‘ভয় না ভরসা, এবারের নির্বাচনে এই দুয়ের মধ্যে বেছে নিতে হবে বাংলার মানুষকে।’’ 
এদিন আবার কলকাতার তৃণমূল ভবনে তৃণমূল পালটা চার্জশিট প্রকাশ করেছে। সাংবিধানিক অধিকার, সংসদ এবং বিধানসভাকে খর্ব করা থেকে বিরোধীদের আক্রমণের মতো অগণতান্ত্রিক পদক্ষেপ নিতে দেখা গিয়েছে দুই সরকারকেই। ফলে নির্বাচনের আগে দু’পক্ষের তরজা হিসেবেই ‘চার্জশিট‘ ভাষ্যকে চিহ্নিত করছেন রাজ্যের বড় অংশ।
শাহ অনুপ্রবেশের পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্য, শিল্পের দুর্গতির জন্য দায়ী করেছেন রাজ্যের তৃণমূল সরকারকে। তাঁর সরকার তৃণমূলের দুর্নীতিকে কাজে লাগিয়ে বন্ধ করেছে একশো দিনের কাজ!
ঘটনা হলো, শাহের মন্ত্রকের নির্দেশেই অনুপ্রবেশকারী বলে অত্যাচার চালানো হয়েছে বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকদের ওপর। বামপন্থীরা বারবারই মনে করিয়েছেন যে আন্তর্জাতিক সীমান্তে নজরদারির দায়িত্ব কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের। কেন্দ্রের বিএসএফ এবং রাজ্যের পুলিশের মধ্যে যোগসাজশ না থাকলে আন্তর্জাতিক সীমান্তে অনুপ্রবেশ হয় না।  শাহ এদিন বলেছেন, ‘‘দেশের সুরক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই নির্বাচন’’। প্রশ্ন উঠেছে পহেলগামে কোন বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী সন্ত্রাস চালিয়েছে? এসআইআর-এ কেন রোহিঙ্গা, বাংলাদেশির সংখ্যা জানানো যাচ্ছে না?  
বিজেপি শাসিত বিভিন্ন রাজ্যে হেনস্তা, মারধরের শিকার বাংলাভাষী পরিযায়ীরা। বিশেষ করে সংখ্যালঘু অংশকে লক্ষ্য বানানো হচ্ছে সমানে। কোনও শুনানি বা বিচার প্রক্রিয়াকে অনুসরণ না করেই বিভিন্ন রাজ্যে পুলিশ ‘বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী’ চিহ্নিত করতে নামে। সব বৈধ নথি থাকা সত্ত্বেও ধাক্কা দিয়ে সীমান্তের ওপারে পাঠানো হয় বেআইনিভাবে।
সেই অমিত শাহ কলকাতায় বসে দাবি করেছেন যে আইন শাসন এবং আইন-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার জন্য বিজেপিকে ভোট দেওয়ার আবেদন জানাচ্ছেন।
কর্মসংস্থানের প্রশ্নেও তৃণমূল এবং বিজেপি, দুই সরকারই বিপুল সরকারি পদ শূন্য রেখে দিয়েছে। দুই সরকারই স্থায়ী পদ তুলে দিয়ে কম বেতনে অস্থায়ী অনিশ্চিত কাজ দেওয়ার রাস্তা নিয়েছে। 
লক্ষ্যণীয়, এসআইআর প্রক্রিয়ার সময়েও একতরফা এবং বিভিন্ন অংশকে নির্দিষ্ট করে ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার অভিযোগে সরব বামপন্থী থেকে বিরোধী বিভিন্ন অংশ। তাঁরা আরও বলছেন, মমতা ব্যানার্জি যেমন সংসদীয় গণতন্ত্রের পরোয়া না করে সরকার চালান সেই একই পথে চলে নরেন্দ্র মোদী সরকারও। প্রতিবাদী এবং বিরোধী স্বর হলেই দিল্লির সরকার কেন্দ্রীয় সংস্থা এবং রাজ্যের তৃণমূল পুলিশকে পিছনে লেলিয়ে দিচ্ছে।  
পালটা প্রশ্ন হলো দেশে বা বিজেপি পরিচালিত রাজ্যে কী পরিস্থিতি ভিন্ন? ভারতের রাজনীতিতে বিজেপি বিশেষ অবদান হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে ‘বুলডোজার ন্যায়‘। প্রতিবাদী, সংখ্যালঘুদের ঘরবাড়ি বিনা বিচারে বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা উত্তর প্রদেশের মতো রয়েছে বিজেপি পরিচালিত রাজ্যগুলিতে। দিল্লিতে পুলিশ পরিচালনা করে অমিত শাহের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। সেখানেও একই কায়দায় অভিযান চলেছে। 
ভয় দেখানোর এই প্রশাসনিক কৌশলকে বেআইনি এবং অসাংবিধানিক আখ্যা দিয়েছে সুপ্রিম কোর্টও। 
দেশের সর্বত্র মেরুকরণ এবং ঘৃণা ভাষণ চালিয়েছে উগ্র হিন্দুত্ববাদী শক্তি। অমিত শাহ বা নরেন্দ্র মোদীর সরকার মুখ পর্যন্ত খোলেনি। প্রশ্ন উঠেছে। বিজেপি কিভাবে বাংলায় তৃণমূলের বিকল্প হবে। অনুপ্রবেশের ফলে জনবিন্যাস বদলে যাওয়ার অভিযোগ তুলছে। কিন্তু ২০১১ সালের পর আর জন গণনার ফল প্রকাশ করেনি কেন্দ্রীয় সরকার। ২০২১ সালে কোভিডের নাম করে পিছিয়ে দেয়। অতি সম্প্রতি কাজ শুরু হলেও রিপোর্ট পেতে দেরি আছে। 
এদিকে তৃণমূলের ‘চার্জশিট’ প্রকাশ করে রাজ্যের মন্ত্রী ব্রাত্য বসু বিজেপি শাসিত রাজ্যে নারীসুরক্ষার হাল নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। এরাজ্যে পার্ক স্ট্রিট, আরজি কর থেকে কামদুনি, রাজ্যের সর্বত্র অপরাধীদের পাশে তৃণমূলের প্রশাসনিক মদতের অভিযোগ সম্পর্কে কার্যত নিশ্চুপ থেকেছেন।

Comments :0

Login to leave a comment