আপনার সরকার কেন্দ্রে শাসন ক্ষমতায় থাকলে এবং অন্য কোনও রাজনৈতিক দল রাজ্যস্তরে একই কাজ করলে কী হতো?
তৃণমূলের রাজনৈতিক পরামর্শদাতা বেসরকারি সংস্থা আই-প্যাকের দপ্তরে তল্লাশি অভিযানে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর ফাইল কাড়া সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে মমতা ব্যানার্জির সরকারকে পাল্টা এই প্রশ্নটি করেছে সুপ্রিম কোর্ট।
কেন্দ্রীয় সংস্থা ইডি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির এবং রাজ্য প্রশাসনিক কর্তাদের বিরুদ্ধে তৃণমূলের ‘ভোট ম্যানেজার’ আই-প্যাকের দপ্তরে তদন্ত ও তল্লাশিতে হস্তক্ষেপ করার অভিযোগ করেছে।
অর্থ পাচার মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে চলতি বছরের জানুয়ারি মাসের শুরুতে এই অভিযান চালানো হয়েছিল ইডির তরফ থেকে। মুখ্যমন্ত্রী ফাইল কেড়ে নিয়েছিলেন আই-প্যাকের দপ্তরে ঢুকে। রাজ্যের মুখ্যসচিব, পুলিশের ডিজি তদন্তের মধ্যে পৌঁছে গিয়েছিলেন বেসরকারি এই সংস্থার দপ্তরে। রাজ্যের কয়লা পাচারের টাকা গোয়ায় পাঠানো সংক্রান্ত অভিযোগের তদন্তে আই-প্যাকের দপ্তরে তল্লাশি চালানোর কথা জানিয়েছিল ইডি।
মমতা ব্যানার্জির ফাইল কাড়ার মামলায় ইডি সংবিধানের ৩২ ধারায় মামলা দায়ের করে। এই আবেদনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে রাজ্য সরকার। বিচারপতি পিকে মিশ্র এবং এনভি অঞ্জারিয়ার বেঞ্চ বলেছে যে, আর্থিক অপরাধ তদন্তকারী সংস্থা ইডি-র কিছু আধিকারিকও ব্যক্তিগতভাবে আবেদন করেছেন। তাঁরা কর্মরত অবস্থায় একজন নাগরিকের মৌলিক অধিকার হরণের অভিযোগ তুলেছেন।
পশ্চিমবঙ্গ সরকারের আইনজীবী কপিল সিবাল যুক্তি দেন যে, যখন পুলিশের কাছে অভিযোগ জানানোর সুযোগ রয়েছে, তখন ইডি অনুচ্ছেদ ৩২-এর অধীনে আবেদন করতে পারে না।
আদালত পশ্চিমবঙ্গের আইনজীবীকে এই প্রশ্নের উত্তর দিতে বলেছেন যে, ইডি-র কর্মকর্তা হওয়ার তারা কী ভারতের নাগরিক নয়।
সংবিধানের ধারায় মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন হলে সরাসরি সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করা যায়।
বিচারপতি মিশ্র মন্তব্য করেন , "অনুগ্রহ করে ইডির কর্তাদের মৌলিক অধিকারের উপর মনোযোগ দিন, যাদের বিরুদ্ধে অপরাধ সংঘটিত হয়েছে। তা না হলে আপনারা মূল বিষয়টি বুঝতে পারবেন না।"
বামপন্থীরা বারংবার সেটিংয়ের কথা বলেছেন। এই ঘটনার পর তা বেয়াব্রু করেছে। ইডি রেডের সময় কেন্দ্রীয় বাহিনী নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকে। তারপরও কি ভাবে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ও প্রশাসনিক কর্তারা হস্তক্ষেপ করতে পারে।
I-PAC SUPREME COURT MAMATA
আইপ্যাক তল্লাশিতে মুখ্যমন্ত্রীর ভূমিকা সুপ্রিম কোর্টের কড়া প্রশ্নের মুখে
×
Comments :0