Dhupguri

পাকিস্তানে অর্থ লেনদেনের অভিযোগে ধৃত যুবককে নিয়ে ধূপগুড়িতে তল্লাশি কর্ণাটক পুলিশের

জেলা

মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে পাকিস্তানে অর্থ লেনদেনের অভিযোগে গ্রেপ্তার এক যুবককে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ালো ধূপগুড়িতে। ধৃত যুবকের নাম আলিফ ইসলাম। তদন্তের প্রয়োজনে কর্ণাটক পুলিশের একটি বিশেষ দল ধৃতকে সঙ্গে নিয়ে মঙ্গলবার ধূপগুড়ি ব্লকের বারোঘরিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের পাটকিদহ ও ভেমটিয়া এলাকায় পুনর্নির্মাণ ও তল্লাশিতে আসে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, ধৃত যুবক আদতে বাংলাদেশের বাসিন্দা এবং বেআইনিভাবে সীমান্ত পেরিয়ে এ দেশে প্রবেশ করেছিল।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কয়েক বছর আগে সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে পাটকিদহ এলাকার বাসিন্দা মৌসুমী পারভিনের সাথে পরিচয় হয় আলিফের। ক্রমে সেই সম্পর্ক প্রেমে গড়ায়। অভিযোগ, নিজের পরিচয় গোপন করে কাঁটাতার পেরিয়ে এ দেশে ঢুকে ধূপগুড়িতে এসে ওই যুবতীকে বিয়ে করে আলিফ। তাদের বর্তমানে দুটি সন্তানও রয়েছে। বিয়ের পর কাজের সূত্রে কেরালা চলে যায় সে। মাঝে মধ্যে ধূপগুড়িতে শ্বশুরবাড়িতে যাতায়াত ছিল তার। কয়েকমাস আগে স্ত্রীকে নিয়ে কেরালায় গেলেও সম্প্রতি ধূপগুড়িতে ফিরে আসেন।
পুলিশ সূত্রে খবর, আলিফের মোবাইল থেকে পাকিস্তানের একটি নম্বরে সন্দেহজনকভাবে অর্থ লেনদেন ও রিচার্জ করার হদিস মেলে। এই ডিজিটাল সংযোগের সূত্র ধরেই অভিযানে নামে কর্ণাটক পুলিশ। দিন পনেরো আগে তাকে ভিন রাজ্য থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। এদিন ধূপগুড়ি থানার পুলিশের সহযোগিতায় কর্ণাটক পুলিশের দল ভেমটিয়া এলাকায় পৌঁছালে গ্রামে শোরগোল পড়ে যায়। পুলিশ অভিযুক্তের স্ত্রী ও আত্মীয়দের জিজ্ঞাসাবাদ করার পাশাপাশি ওই বাড়িতে তল্লাশিও চালায়।
​ধৃতের স্ত্রীর বলেন,"তিন বছর আগে আমাদের বিয়ে হয়েছিল। পুলিশ ফোনে জানিয়েছে যে ও নাকি পাকিস্তানে মোবাইল রিচার্জ করে দিয়েছে। তবে আমার স্বামীর দাবি, ও নিজে কিছু করেনি, ওর এক বন্ধু মোবাইল নিয়ে এই কাণ্ড ঘটিয়েছে।"
এলাকার বাসিন্দা আবু তালেব জানান, "ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানোর অভিযোগে ওকে ধরা হয়েছে। এখন জানতে পারছি ছেলেটি আসলে বাংলাদেশি।" এদিকে পুলিশ ধৃতের বয়ানে সন্তুষ্ট নয়। কোনো বড় ধরণের অপরাধমূলক চক্র বা আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের সাথে আলিফ যুক্ত কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে পুলিশ ফের তাকে কর্ণাটকের উদ্দেশ্যে নিয়ে রওনা দেয়। এই ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ ছড়িয়েছে।

Comments :0

Login to leave a comment