মুক্তধারা
উৎসব ১৪৩৩
প্রবন্ধ
আসছে বছর আবার হবে
সৌরভ দত্ত
২১ অক্টোবর ২০২৬
৪র্থ বর্ষ
একটা ফিঙে উড়ে এসে বসেছে কলাগাছে।হেলে পড়ছে রোদ্দুর। স্নান করতে করতে নিকুঞ্জ ভাবছে পুজোটা কি তাড়াতাড়ি শেষ হয়ে গেল! দে আবার একটা বছরের অপেক্ষা।রাত ফুরোলেই ফাঁকা হয়ে যাবে মণ্ডপ।ঠাকুর চলে যাবে ভাসানে।
দু-এক যুগ আগে দুর্গোৎসবকে নিয়ে কত হইচই।
একান্নবর্তী পরিবার এখন পায়রার খোপের মতো টুকরো টুকরো।একটা সময় দশমীর দিন অন্যরকম ছিল।নিতাই ভাণ্ডারী সিদ্ধি গুলত ।সেই সিদ্ধির এত গুণ ঘুরিয়ে মারত দিগ্বিদিক।বাড়ি বাড়ি পৌঁছে যেত নারকেল নাড়ু, ছাপা, মিহিদানা।
কে মহিষাসুরের কাতান নেবে সেই নিয়ে মারপিট চলত বন্ধু বান্ধবদের মধ্যে। মহিষাসুরকে সবাই তখন চোরা বলার চল ছিল। ঠাকুরের মেড় থেকে কলকা খুলে নেওয়া হত।মশাল জ্বেলে কৌশিকী নদীতে দুর্গা ভাসান। নদীর জলে কেউ কেউ ইচ্ছাকৃত দূরে চলে যাবে।হেঁদল গাছের ডালে ঝুলে থাকবে।তাদের টর্চ জ্বেলে তুলে আনা।দশমী সকালে পার্বতী নিতে আসবে সহিস আর মানিক পীরের ঘোড়া।কানা মদন বাউল একতারা বাজিয়ে গান শুনিয়ে যেত। সকাল থেকে বিকেল চলবে তাসের কম্পিটিশন।
উঠনে আলপনা আঁকা হবে।ঠাকুর নামিয়ে দেওয়ার পর দিদা বরণ করবে ঠাকুর দাদু নেবে কনকাঞ্জলি।সারা পর বড় থেকে ছোটরা।সদরে চলবে সিঁদুর খেলা।এরপর দুপাশে বাঁশ দিতে বাঁধা হবে প্রতিমা।ঢাকের তালে নাচ ।নন্দ মোড়ল , গৌতম কাকারা ঢাকের কাঠিতে সুর তুলবে। প্রতিমা বিসর্জনের পর পোপী দাদুর হাত থেকে গজা নিয়ে পাড়ার সবাই বাড়ি ফিরবে।এরপর ঠাকুর ঘরে কলাপাতায় শ্রী শ্রী দুর্গা মাতা সহায় লিখতে হবে বড় থেকে ছোটদের। তারপর চলবে প্রণাম পর্ব ও পারস্পরিক আলিঙ্গন বা কোলাকুলি।
ছবিগুলো চোখের সামনে ভাসতে থাকে নিকুঞ্জর।মনে পড়ে যায় দিদা দশমীর রাত্রেই মারা গিয়েছিল।সেই সময়টা মনে পড়ে ।জগন্ময় মিত্রের সেই বিখ্যাত গান--আবার এসেছে বিজয়া দশমী দশটি বছর পরে।এখন ঢাকের বদলে কুড়কুড়ি বাজনা,ডি.জে বক্সের রমরমা। গাছে গাছে জোনাকির দেখা নেই।
দশমী মানেই মনখারাপ আর বিষণ্ণতার দিন।দশমী এলেই দিদার কথা মনে পড়ে।জগন্ময় মিত্রের সেই বিখ্যাত গানটা বেজে ওঠে নিকুঞ্জর কানে--আবার এসেছে বিজয়া দশমী সাতটি বছর পরে...
Comments :0