মুক্তধারা
উৎসব ১৪৩৩
প্রবন্ধ
শারদোৎসব নিষিদ্ধ হলে রবীন্দ্রনাথ কোথায় দাঁড়াবেন
অয়ন মুখোপাধ্যায়
১৮ অক্টোবর ২০২৬
৪র্থ বর্ষ
তৃতীয় পর্ব
বাঙালি কী খাবেন, তা যেমন অন্য কেউ ঠিক করতে পারেন না, তেমনই তাঁর উৎসবকে কোন নামে ডাকবেন, সেটা তাঁর নিজের অধিকার।
তাই এবারের পুজোয় কবি ডাঃ অলোক সরকারের ভাষায় বলতে ইচ্ছে করে—
“অভ্যাগত! শারদ উৎসব হোক
প্রজ্ঞাস্নিগ্ধ আলোর জ্বলন্ত শিখা,
হোক শ্বাসরুদ্ধ সময়ের অন্ধকার বিনাশী
দাউ-দাউ করে জ্বলে ওঠা দীপ্যমান সবিতা।”
কবি এই ‘শারদ উৎসব’-কে দুর্গার প্রতিপক্ষ করেননি। তিনি শরতের মধ্যে আলো খুঁজেছেন, শ্বাসরুদ্ধ সময়ের অন্ধকার কাটানোর ইচ্ছা খুঁজেছেন। রবীন্দ্রনাথও উৎসবের দরজা খুলেছিলেন প্রকৃতি ও মানুষের দিকে। আজ রাজনীতি যদি পরিচিত একটি বাংলা শব্দের কাছে রাজনৈতিক পরিচয়পত্র চায়, তবে সমস্যা শব্দটির নয়; সমস্যা সেই রাজনীতির, যা মানুষের অনুভবের সরকারি নাম ঠিক করতে চায়।
ভাষা শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়। মানুষ যে নামে নিজের পৃথিবীকে চেনে, তার স্মৃতি, অভ্যাস ও অভিজ্ঞতা সেই নামের সঙ্গেই থাকে। শাসক যদি সেই নামও বেছে দিতে শুরু করেন, তবে প্রশ্নটা আর শব্দে আটকে থাকে না। তখন প্রশ্ন ওঠে—কোন ইতিহাস মনে রাখব, কোন প্রশ্ন করব, কোন শব্দ মুখে আনব—সরকার কি সেখানেও নির্দেশ দেবে?
আগামীকাল
Comments :0