Potato farmer died

দাম নেই, ঋণের চাপ: চন্দ্রকোনায় জমিতেই অসুস্থ হয়ে মৃত্যু আলুচাষির

রাজ্য জেলা

আলু চাষির মৃত্যুতে ভেঙে পড়েছে পরিবার। ছবি- চিন্ময় কর।

একদিকে আলুর দাম তলানিতে। অপর দিকে ঝড়বৃষ্টিতে চাষের জমি জলের তলায়। সর্বস্বান্ত হওয়ার মুখে আলু জমিতেই অসুস্থ হয়ে মারা গেলেন দিনমজুর ৩৬ বছর বয়সের তরতাজা যুবক হরিপদ বাগ।
সোমবার দুপুরে ঘটনাটি পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার চন্দ্রকোনা-১ নম্বর ব্লকের ঝাড়ুল গ্রামে।
দুই সপ্তাহের মধ্যে চন্দ্রকোনায় ২ জন আলুচাষির মৃত্যু। মমতা ব্যানার্জির রাজত্বে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় এই নিয়ে ১৩৫জন আলু চাষির মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার জেরে এলাকায় তীব্র ক্ষোভ। কৃষকরা বলছেন, সরকার যদি সরাসরি আলু কিনত এবং বাইরে রপ্তানির নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে তাহলে এতদিনে মাঠে আলু পড়ে থাকত না। তাঁরা বলছেন, একদিকে দাম নেই, অপর দিকে বাইরের রাজ্যে বিক্রি বন্ধ। তিন বছর ধরে সর্বস্বান্ত হতে হচ্ছে। 
মৃত যুবকের বাবা লক্ষ্মণ বাগ বলেন, ‘‘গত তিন দিন ধরে নাওয়া খাওয়া ভুলে জমির আলু বাঁচাতে চাইছিল। ক্ষতির মুখে সর্বস্বান্ত হয়েছে। ঋণের চাপে মাঠের মধ্যেই অসুস্থ হয়ে পড়ে। মাঠ থেকে হাসপাতাল নিয়ে যাওয়ার পথেই মারা যায়। ক্ষীরপাই ব্লক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে গেলেও চিকিৎসার সুযোগ হয়নি।’’
এক মাস অতিক্রান্ত। মমতা ব্যানার্জির সরকার ৯৫০ টাকা কুইন্টাল দরে আলু কিনবে ঘোষণা করলেও বাস্তবে আলুচাষিরা বিক্রি করতে পারেননি। আলু বিক্রি করার জন্য বিডিও দপ্তর, কিষান মান্ডিতে হন্যে হয়ে ঘুরে খালি হাতে ফিরেছেন কৃষকরা। সেই আলু ফড়েদের নিয়ন্ত্রণে বিক্রি হচ্ছে ২৮০-৩০০ টাকা কুইন্টালে। আর ফড়েদের আলুই হিমঘরে স্থান পেয়েছে। 
পাশাপাশি রয়েছে আলুর বস্তার সংকট, কালোবাজারিতে ৮-১০ টাকার বস্তা এখন বাজারে ৪০-৪৫ টাকায় কিনতে বাধ্য হচ্ছে কৃষকরা। মাঠ থেকে আলু তুলতে সমস্যায় পড়ছেন আলুচাষিরা।

Comments :0

Login to leave a comment