Microfinance

ঋণের চাপে রায়গঞ্জে আত্মঘাতী গৃহবধূ

জেলা

বিশ্বনাথ সিংহ: রায়গঞ্জ

মাইক্রোফ্রিনান্সের ঋণের বোঝা নিয়ে রায়গঞ্জ শহরে আত্মঘাতী হলেন এক গৃহবধূ। গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মঘাতী হয়েছেন শেফালী সরকার ছেত্রী নামে ওই গৃহবধূ। মৃতার বয়স ৩৫ বছর।
রায়গঞ্জ শহরের শিলিগুড়ি মোড়ের বাসিন্দা ছিলেন পূজা। বুধবার সকালে স্বাভাবিক নিয়মে টিফিনের পর্ব মিটিয়ে নিজের বাড়ির ছাদে উঠে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মঘাতী গৃহবধূ শেফালী
জানা গিয়েছে, একটি বেসরকারি ঋণদাণ সংস্থা থেকে ঋণ নিয়েছিলেন শেফালী। ঋণের টাকা দিয়ে ছোট খাট ব্যবসা করে উপার্জন শুরু করেন। ব্যাবসার জন্যে গ্রামীণ ব্যঙ্ক থেকে সাড়ে ৪ লক্ষ টাকা ঋণ নিয়েছেন। ফের বন্ধন ব্যঙ্ক দেড় লক্ষ টাকা ঋণ ছাড়াও সামান্য কিছু গয়না সেটুকুন বন্ধক রেখে ঋণ নেন। গৃহবধুর ঋণের দায়ে আত্মঘাতী হয়েছেন দাবি করেন তাঁর মা বকুল সরকার। তাঁর অভিযোগ প্রতিদিন ঋণের টাকা মেটাতে ব্যঙ্কের এজেন্টদের চাপ বাড়তে থাকে। সেই কারণেই ভেঙে পড়েন শেফালী। এক প্রকার নাওয়া খাওয়াও করতেন না। যদিও তিনি একাধিকবার তাঁকে বোঝানোর চেষ্টা করেন। প্রতিদিনই মেয়ের কাছে কি হয়েছে জানতে চাইলেও মুখ খুলতে রাজি ছিলো না শেফালী। মৃত্যুর আগে পর্যন্ত কিছুই জানা যায়নি। 
মৃতের স্বামী সুরজ ছেত্রী বলেন, প্রতিদিনের মতো বুধবার সকালে চা খেয়ে কাজে চলে যাই। হটাৎ বাড়ি থেকে ফোন আসে শেফালী ছাদে গলায় দড়ি দিয়ে ঝুলছে। তিনি বলেন, অভাব তো ছিলো ঠিকই তবে খেয়ে পরে কোনোরকমে সংসার চলছিলো। তিনি অভিযোগ করে বলেন, "বন্ধন ব্যাংক কতৃপক্ষ এতটাই অমানবিক রায়গঞ্জ হাসপাতালে ময়না তদন্ত চলছে স্ত্রীর। সেই সময় ব্যাঙ্ক কতৃপক্ষ ফোনে রীতিমতো হুমকি দিয়ে বলেন এখনি ঋণের টাকা জমা দিতে হবে। জানানো হয়েছে স্ত্রী আত্মহত্যা করেছেন, ময়নাতদন্ত চলছে তখনও ফোনের ওপার থেকে বলছে ইয়ার্কি করার জায়গা পাননা। ঋণের টাকা পৌছান।" 
স্ত্রীর মৃত্যুতে ভেঙে পড়েছেন স্বামী সুরজ ছেত্রী। তিনি বারবার এই প্রশ্ন করে চলেছেন কিভাবে চলবে সংসার! কি হবে একমাত্র কন্যার ভবিষ্যত! 
মৃতের মা কাঁদত কাঁদতে বলেন ঋণের বোঝা নিয়েই নিজেকে শেষ করে দিল মেয়েটা। একবারের জন্যেও নিজের মেয়ে ক্লাস ফোরের ছাত্রী আরোহীর ভবিষ্যতের কথা ভাবলো না। 
ঘটনার খবর পেয়েই এদিন আত্মঘাতী গৃহবধূর বাড়িতে পৌছান সিপিআই(এম) নেতৃত্ব পার্থ দে নির্মল কুণ্ডু। সন্তান হারা মায়ের সঙ্গে কথা বলে সমবেদনা জানান।

 

Comments :0

Login to leave a comment