ভোটার তালিকায় নাম নাম অন্তর্ভুক্ত না হওয়ার অভিযোগে বৃহস্পতিবার উত্তপ্ত হয়ে উঠল ময়নাগুড়ির চূড়াভান্ডার এলাকা। এদিন বেলা ১২টা নাগাদ স্থানীয় বাসিন্দারা জাতীয় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভে শামিল হন। দীর্ঘ প্রায় তিন ঘণ্টা অবরোধ চলায় জাতীয় সড়কের বিস্তীর্ণ অংশে ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়। চরম দুর্ভোগের শিকার হন সাধারণ যাত্রী থেকে শুরু করে পরিবহণ কর্মীরা।
এসআইআর’র নামে গত কয়েকমাস ধরে এক অস্থিরতার পরিবেশ তৈরি হয়েছে রাজ্যে। ভোটার তালিকা বেরোনোর পরেও পরিস্থিতি বদল হয়নি। গত ২৮ ফেব্রুয়ারী এসআইআর'র চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ হওয়ার পরেও ৬০ লক্ষেরও কিছু বেশি সংখ্যক মানুষ ' বিবেচনাধীন'- এর তালিকায় ছিলেন। পরে ধাপে ধাপে সাপ্লিমেন্টারি লিস্ট প্রকাশ হয়। যদিও এখনও ৬০ লক্ষ নামের নিস্পত্তি হয়নি। যতগুলি নামের নিস্পত্তি হয়েছে তাদের মধ্যে এখনও পর্যন্ত কতজন ভোটারের নাম খারিজ, কতজন যোগ্য সেই তথ্য দিতে পারেনি নির্বাচন কমিশন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ময়নাগুড়ির চূড়াভান্ডার এলাকায় বিবেচনাধীন তালিকায় থাকা সত্ত্বেও বেশ কয়েকজন ভোটারের নাম চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় ওঠেনি বলে অভিযোগ। এর প্রতিবাদে এবং নাম অন্তর্ভুক্তির দাবিতে এদিন দুপুর থেকেই চূড়াভান্ডার এলাকায় জাতীয় সড়কের ওপর বসে পড়েন বাসিন্দারা। মুহূর্তের মধ্যে অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে উত্তরবঙ্গের লাইফ-লাইন হিসেবে পরিচিত এই সড়ক। টোল প্লাজা সংলগ্ন এলাকায় সারি সারি পণ্যবাহী ট্রাক দাঁড়িয়ে পড়ে। যাত্রীবাহী বাস ও ছোট গাড়ি আটকে পড়ায় সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস ওঠার জোগাড় হয়। বিক্ষোভের সামনের সারিতে থাকা আন্দোলনকারী জিয়াউর হোসেন প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ উগরে দেন। তিনি বলেন, ‘‘আমরা এই দেশেরই ভূমিপুত্র। সমস্ত বৈধ নথি থাকা সত্ত্বেও উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভোটার তালিকা থেকে আমাদের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে। সাপ্লিমেন্টারি তালিকাতেও নাম নেই। কতদিন আমরা এই অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকব? আজ আমরা বাধ্য হয়ে রাস্তায় নেমেছি। যতক্ষণ না প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্তারা এসে আমাদের সুনির্দিষ্ট গ্যারান্টি দিচ্ছেন, আমরা এক চুলও নড়ব না।’’ একইভাবে ক্ষোভ প্রকাশ করে খুরশিদ আলম জানান, ‘‘ভোটের সময় রাজনৈতিক দলগুলো দরজায় আসে, কিন্তু যখন আমাদের নাগরিকত্বের অধিকার নিয়ে ছিনিমিনি খেলা হয়, তখন কেউ পাশে থাকে না। ট্রাইব্যুনালের চক্কর কাটতে কাটতে সাধারণ মানুষ নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছে। আমরা পরিষ্কার বলছি, আমাদের নাম তালিকায় না ওঠা পর্যন্ত এই লড়াই চলবে।’’ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে বিশাল পুলিশ বাহিনী পৌঁছায়। তবে বিক্ষোভকারীরা জেলা প্রশাসনের উচ্চপদস্থ আধিকারিক বা নির্বাচন কমিশনের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে সুনির্দিষ্ট আশ্বাসের দাবিতে অনড় থাকেন। পরবর্তীতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে এবং আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়। এই প্রসঙ্গে জলপাইগুড়ি সদর মহকুমা শাসক মঈন আহমেদ জানান, ‘‘আন্দোলনকারীরা ময়নাগুড়ি ব্লকের বাসিন্দা ছিলেন। সাপ্লিমেন্টারি তালিকায় নাম না আসায় তারা ক্ষুব্ধ ছিলেন। আমরা তাঁদের বুঝিয়েছি যে নির্দিষ্ট ট্রাইব্যুনালে আবেদন করার সুযোগ রয়েছে। ট্রাইব্যুনালে আবেদনের জন্য যে ধরনের নথিপত্র বা প্রশাসনিক সহায়তার প্রয়োজন, তা দ্রুত দেওয়ার বিষয়ে প্রশাসন আশ্বাস দিয়েছে। এই আলোচনার পর ওনারা অবরোধ তুলে নিতে রাজি হন।’’
প্রশাসনের এই আশ্বাসের পর প্রায় তিন ঘণ্টা বাদে জাতীয় সড়কে যান চলাচল ফের শুরু হয়। তবে ভোটার তালিকায় নাম বাদ যাওয়াকে কেন্দ্র করে সীমান্তবর্তী এই জেলায় যে ক্ষোভের বাতাবরণ তৈরি হয়েছে, এদিনের ঘটনা তারই বড় ইঙ্গিত বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। নাগরিকত্বের অধিকার রক্ষার এই লড়াই আগামীতে আরও বড় আকার নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এসআইআর তালিকায় নাম না থাকার প্রতিবাদে এদিন রাজ্যের একাধিক জেলায় বিক্ষোভ পথ অবরোধের খবর পাওয়া গেছে।
SIR
ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ, ময়নাগুড়িতে পথ অবরোধ
×
Comments :0