Message of Harmony in Nagrakata

সম্প্রীতির বার্তা নাগরাকাটায়

জেলা

আদিবাসী সংস্কৃতির ঐতিহ্য আর সম্প্রীতির মেলবন্ধনে রবিবার উৎসবের মেজাজে মাতল নাগরাকাটা ব্লকের সুলকাপাড়া নয়ালাইন এলাকা। নয়ালাইন সুলকাপাড়া সারহুল কমিটির উদ্যোগে এদিন সাড়ম্বরে আয়োজিত হলো ‘সারহুল মিলন সমারোহ’। চিরাচরিত প্রথা মেনে আদিবাসী সংস্কৃতির এই অন্যতম প্রধান উৎসবকে ঘিরে এদিন নয়ালাইন এলাকায় উন্মাদনা ছিল চোখে পড়ার মতো।
সাধারণত কৃষ্ণপক্ষে সারহুল উৎসব পালিত হলেও, এ বছর পঞ্জিকার গণনায় কিছুটা পরিবর্তন আসায় ২ তারিখের পর শুক্লপক্ষ শুরু হয়েছে। সেই কারণেই গ্রামবাসীরা সম্মিলিতভাবে আলোচনার মাধ্যমে রবিবারের দিনটিকেই সারহুল পালনের জন্য বেছে নেন। একদিকে সারহুল, অন্যদিকে হোলি— এই দুই উৎসবের আমেজকে একসূত্রে বাঁধতেই কমিটির পক্ষ থেকে এই ‘মিলন সমারোহ’-এর পরিকল্পনা নেওয়া হয়।
এদিন নয়ালাইন এলাকায় উৎসবের মূল মঞ্চ থেকে ভ্রাতৃত্ববোধ ও সংহতির আহ্বান জানানো হয়। আয়োজক কমিটির পক্ষে কৃষ্ণা ওঁরাও বলেন, "এই অনুষ্ঠানের মূল লক্ষ্য হলো আমাদের আদিবাসী সংস্কৃতির ঐতিহ্যকে পরবর্তী প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা এবং সমাজের সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধ ও ঐক্যকে আরও শক্তিশালী করা। জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে গ্রামবাসীদের এই স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণই আমাদের সার্থকতা।"
এদিন খেরকাটা বনবস্তি এলাকায় নির্বাচনী প্রচার সেরে সারহুল উৎসবে যোগ দেন নাগরাকাটা বিধানসভা কেন্দ্রের বামফ্রন্ট সমর্থিত প্রার্থী দিল কুমার ওঁরাও। উৎসবে শামিল হয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে জনসংযোগ সারেন তিনি।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে দিল কুমার ওঁরাও বলেন, "আদিবাসী সংস্কৃতির এই বৈচিত্র্যই আমাদের সম্পদ। সারহুল প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের নিবিড় সম্পর্কের কথা বলে। নয়ালাইন সুলকাপাড়া সারহুল কমিটি যেভাবে হোলি এবং সারহুল— দুই উৎসবের মানুষকে একত্রিত করে সম্প্রীতির নজির গড়ল, তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। বিভাজনের রাজনীতির বিপরীতে এই ঐক্যই আমাদের আগামীর পথ দেখাবে।"
বিকেলের দিকে আদিবাসী বাদ্যযন্ত্রের তালে স্থানীয় বাসিন্দাদের নাচ-গানে উৎসব প্রাঙ্গণ এক বর্ণাঢ্য রূপ নেয়। সব মিলিয়ে রবিবাসরীয় নাগরাকাটায় সারহুল উৎসব হয়ে উঠল জনজাতি ঐক্যের এক অনন্য মঞ্চ।
 

Comments :0

Login to leave a comment