Md Salim at Tollyganj

টালিগঞ্জ: বাঁচাতে হবে বাংলাকে, শিক্ষা-কাজ-সম্প্রীতিকে, জনসভায় সেলিম

রাজ্য কলকাতা বাংলা বাঁচানোর ভোট

বাঁশদ্রোণীতে টালিগঞ্জ কেন্দ্রের প্রার্থী পার্থপ্রতিম বিশ্বাসের সমর্থনে জনসভায় মহম্মদ সেলিম। ছবি ও ভিডিও: প্রিতম ঘোষ

অরিজিৎ মণ্ডল

সবাই বলেছিল লাল হটাও দেশ বাঁচাও। তখন শুভেন্দু আর মমতা আলাদা নন। লাল হটেছে কিন্তু দেশ বাঁচেনি। তাই দেশ বাঁচাতে হলে লালঝাণ্ডাকে শক্তিশালী করা ছাড়া অন্য উপায় নেই।
শনিবার টালিগঞ্জ কেন্দ্রে সিপিআই(এম) প্রার্থী পার্থপ্রতিম বিশ্বাসকে জয়ী করার আহ্বানে আয়োজিত জনসভায় একথা বলেছেন রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। বাঁশদ্রোণী চিরন্তনী পার্কে হয় এই জনসভা।


এদিন জনসভায় বক্তব্য রাখেন  প্রার্থী পার্থ প্রতিম বিশ্বাস, সিপিআই(এম) দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা সম্পাদক রতন বাগচী, কলকাতা জেলা সম্পাদকমণ্ডলী সদস্য সুব্রত দত্তও। সভাপতিত্ব করেন রাজ্য কমিটির সদস্য হিমগ্নরাজ ভট্টাচার্য। মঞ্চে ছিলেন সিপিআই(এম) নেতা শুভঙ্কর গাঙ্গুলি, রোশন মণ্ডল, দেবাশিস দে।   
সেলিম বলেন, দেশ বাঁচাতে হলে বাংলাকে বাঁচাতে হবে। নয়া ফ্যাসিবাদী চরিত্র আজ ফুটে উঠছে। ওরা আসলে বাংলাকে ধ্বংস করতে চেয়েছিল। যাতে অন্ধকারে দেশ ডুবলে পথ দেখানোর কেউ না থাকে। 
তিনি বলেন, আমাদের যে ঐতিহ্য ছিল ভাষা, ঐক্য, সংস্কৃতির- যা কিছু ভালো, সুন্দর, মঙ্গলময় সব কিছুকে ধ্বংস করছে।
সেলিম বলেন, আমরা বলছি না এককভাবে সিপিআই(এম) বা বামফ্রন্ট এ কাজ করবে। তার বাইরে মানবাধিকার, গণতান্ত্রিক অধিকার, পরিবেশ, সম্প্রীতির কথা বলেন তাঁদের সবাইকে এককাট্টা হতে হবে।
সেলিম বলেন, স্কুল বন্ধ হচ্ছে মাদ্রাসাও বন্ধ হচ্ছে। বিজেপি বলল স্কুল আলাদা, মাদ্রাসা আলাদা। কার লাভ হলো? বামফ্রন্ট সরকারের সময়ে চেয়েছিলাম একশো শতাংশ এনরোলমেন্ট। তার জন্য নতুন স্কুল হলো, মাধ্যমিক হায়ার সেকেন্ডারি হলো। বৃত্তিশিক্ষা চালু হলো। এখন সারা দেশে স্কুল বন্ধ, রাজ্যে স্কুল বন্ধ। বাম মানে শিক্ষার প্রসার। 
সেলিম বলেন, বামফ্রন্ট সরকার আসীন হওয়ার পর গণতন্ত্র পুণপ্রতিষ্ঠা হয়েছিল। গণতান্ত্রিক অধিকার সম্প্রসারিত হলো। ত্রিস্তর পঞ্চায়েত, পৌরসভা হলো। নিয়মিত নির্বাচন হলো। স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিচালন সমিতির নির্বাচন হতো। এগুলো হঠাৎ করে তুলে দেওয়া হয়নি। গণতন্ত্রকে ধ্বংস করার জন্য করা হয়েছে। প্রতিবাদ আটকাতে সিপিআই(এম) কর্মীদের জেলে পাঠানো হয়েছে, মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে। 
সেলিম বলেন, উদ্বাস্তু কলেনিতে যেখানে ছিন্নমূল মানুষ এসেছিলেন, তাঁরা লালঝান্ডার জোরে বসতি স্থাপন করলেন। দরদ দিয়ে বসতি গড়ে তুললেন। ক্লাব, স্কুল ,মাঠ, পাঠাগার গড়ে তুললেন সবাইকে জড়িয়ে নিয়ে। 
সেলিম বলেন, সংবিধান অনুযায়ী ভোটাধিকার সবার। কিন্তু অর্থনৈতিক-সামাজিক সমানাধিকার নেই। বামপন্থীরা সেই সমানাধিকারের লড়াই করে। 
ভোটার তালিকা নিয়ে এত গেলমাল কেন? এত কম্পিউটার, এত প্রযুক্তি সত্ত্বেও ভোটার তালিকা করতে পারল না? আসলে এরা চায় সঙ্কোচন। আর বামপন্থীরা চায় সম্প্রসারণ।
তিনি বলেন, বিজেপি বলছে ছ’মাসে সরকারি পদ পূরণ করবে। বিজেপি বারো বছর দেশের সরকারে। পোস্ট অফিস, ব্যাঙ্ক, বিমায় ক’বার নিয়োগের বিজ্ঞাপন দেখেছেন? বরং সেনাবাহিনীতেও চুক্তিতে নিয়োগ করছে। 
তিনি বলেন, ভাঙা বুকের পাঁজর দিয়ে বাংলা গড়ব বলছি। আর এখানে প্রার্থী পার্থপ্রতিম বিশ্বাস একজন স্থপতি, অধ্যাপক। তিনি একাজে যোগ্য। তাঁকে নির্বাচিত করার আহ্বান জানানো হচ্ছে । 
শমীক লাহিড়ী বলেছেন, বাংলার চেহারা সবাই দেখছি। প্রশ্ন হচ্ছে অন্ধকারেই থাকব না আলোর দিকে এগনোর চেষ্টা করব। কোটি কোটি যুবক বাইরের রাজ্যে যাবে তারপর লাশ হয়ে ফিরবে, প্রতিদিন ধর্ষণ-লুট। এখানেই দাঁড়িয়ে থাকব না এগব?
তিনি বলেন, আমরা চেয়েছে বাম গণতান্ত্রিক ধর্মনিরপেক্ষ সব শক্তিকে বিজেপি-তৃণমূলের বিরুদ্ধে একজোট করতে। ভোট মানে মন্দির-মসজিদ নয়, মদ-মাংস নয়। ভোট মানে বাংলাকে কিভাবে গড়ব সেই লক্ষ্য জানানো। বাংলায় তা হয় না। এত খুনোখুনি আর কোথাও তো হয় না। এসআইআর নিয়ে এত বিশৃঙ্খলা কেন? এক, নির্বাচন কমিশনের অপদার্থতা। দুই, রাজ্য প্রশাসনকে দলদাসে পরিণত করা। এই প্রথম দেশে ভোটার তালিকা তৈরি করতে হচ্ছে বিচার ব্যবস্থাকে। আমাদের পালটাতে হবে। 
লাহিড়ী বলেন, মাঠে আলু পচছে। চাষি দাম পাচ্ছেন না। এর আগে কৃষক ধান কম দামে ফড়ে দালালদের বেচতে বাধ্য হলেন। আর সেই চাল বাজারে সত্তর টাকা। হিন্দু-মুসলিম, তৃণমূল বা অন্য দলের সমর্থক,সবাইকে এক দামই দিতে হয়েছে। তিনি বলেন, বামফ্রন্ট সরকারের সময় ১৩ টাকা কেজি ছিল চালের দাম। ৯টাকা কৃষক পেতেন। কারণ সরকার কৃষকের থেকে ফসল কিনত। কারণ মাঝে ফড়ে দালালরা ছিল না। আজ এদেরই দাপট। তাই পালটাতে হবে।  
তিনি বলেন, কোনও মানুষের কাজ নেই। একশো দিনের কাজ বন্ধ। কেন? তৃণমূল টাকা চুরি করেছে। ঠিক। কিন্তু চোরকে ধরল না প্রকল্প বন্ধ করে দিল। আমরা বলেছি গ্রামে ২০০দিন কাজ। ৬শো টাকা মজুরি। শহরে ১২০ দিন কাজ। কেবল তাঁরাই লাভবান হবেন না। বাজারে চাহিদা বাড়বে। নতুন কাজের সুযোগ তৈরি হবে। শুধু মদ আর লটারি দিয়ে সরকার চলতে পারে না। কাজ দিতে হবে মানুষকে। বামফ্রন্ট প্রার্থীকে সমর্থনের আহ্বান জানান তিনি। পার্থ বিশ্বাস বলেন, দুর্নীতিকে প্রাতিষ্ঠানিক করা হয়েছে শেষ পনের বছরে। মানুষের অধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা চলেছে লাগাতার। শিক্ষা-স্বাস্থ্য সহ সব ক্ষেত্রে দুর্নীতি। এই দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দিতেই সাম্প্রদায়িক রাজনীতিকে ব্যবহার করেছে বিজেপি। ‘সেটিং’ বা মেকি লড়াইয়ের বিরুদ্ধে রুটি-রুজির লড়াইকে সামনে আনছে বাম শক্তি। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বাঁচাতে হলে বামপন্থীদের লড়াইকে শক্তিশালী করুন।

Comments :0

Login to leave a comment