Amit Shah Demographic Committee

জনবিন্যাস কমিটিকে সীমান্তে যাওয়ার নির্দেশ শাহের

জাতীয়

শনিবার দিল্লিতে জনবিন্যাস কমিটির সঙ্গে বৈঠকে অমিত শাহ।

জনবিন্যাসের পরিবর্তন সংক্রান্ত উচ্চ পর্যায়ের কমিটিকে সীমান্ত এলাকায় যাওয়ার নির্দেশ দিল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। শনিবার কমিটির সঙ্গে বৈঠক করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ। 
সংবাদসংস্থা জানাচ্ছে যে সীমান্ত এলাকায় জনবিন্যাসে অস্বাভাবিক পরিবর্তনের কারণগুলি খতিয়ে দেখার নির্দেশ দিয়েছেন শাহ। অনুপ্রবেশের কারণে সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে জনবিন্যাসের অস্বাভাবিক পরিবর্তন হয়েছে কতটা, কমিটিকে তা দেখতে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। 
গত মাসেই এই কমিটির ঘোষণা করেন শাহ। সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি প্রকাশ প্রভাকর নাওলেকরের নেতৃত্বে তৈরি কমিটিতে রয়েছেন সেনসাস কমিশনার দুর্গা শঙ্কর মিশ্র, প্রাক্তন আইপিএস আধিকারিক বালাজী শ্রীবাস্তব এবং ডঃ শমীকা রবি। 
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী স্বাধীনতা দিবসের ভাষণে জনবিন্যাস সংক্রান্ত কমিটি গঠন করা হবে বলে ঘোষণা করেছিলেন। যদিও তিনি প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর দেশে জনগণনা বা সেনসাস হয়নি। ২০১১-তে শেষ সেনসাস রিপোর্ট বের হয়। দেশে দশ বছর অন্তর জনগণনা রিপোর্ট বের হলেও ২০২১ সালে করোনার কারণ দেখিয়ে তা পিছিয়ে দেয় কেন্দ্র।
গত মাসে এই কমিটি গঠনের সময় শাহ বলেছিলেন যে অবৈধ অনুপ্রবেশের কারণেই দেশে জনবিন্যাস বদলে যাচ্ছে। ধর্মীয় এবং সামাজিক গোষ্ঠীগুলির মধ্যে পরিবর্তন বিশ্লেষণ করবে এই কমিটি।’’ 
কমিটির দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে ‘অবৈধ অনুপ্রবেশকারী চিহ্নিতকরণ, আটক করা এবং নিজের দেশে পাঠিয়ে দেওয়ার জন্য স্থায়ী পদ্ধতির সুপারিশ করা‘।
পশ্চিমবঙ্গ এবং আসামের মতো রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনে অনুপ্রবেশকে হাতিয়ার করেই প্রচার করেছে বিজেপি। মুসলিম জনসংখ্যা বেড়ে যাওয়ার অভিযোগ তুলেছে। 
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকেরই অধীন সেনসাস রেজিস্ট্রার জেনারেল পরিচালিত নমুনা সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে দেশে প্রজনন হার ১.৯ শতাংশে নেমে গিয়েছে। জনসংখ্যা স্থির থাকতে হলে এই মাপকাঠিতে হার থাকার কথা ২.১। একে বলে ‘রিপ্লেসমেন্ট রেট‘। বেশিরভাগ রাজ্যে হার তার চেয়েও কম। 
রেজিস্ট্রার জেনারেলের সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে যে সীমান্তবর্তী রাজ্য হলেও পশ্চিমবঙ্গে এই হার ‘রিপ্লেসমেন্ট রেট’-র নিচে। কেরালায় মুসলিম জনসংখ্যা উল্লেখযোগ্য হলেও প্রজনন হার জাতীয় গড়ের তুলনায় কম।
যে ৬ রাজ্যে প্রজনন হার তুলনায় বেশি সেগুলি হলো বিহার, মধ্য প্রদেশ, উত্তর প্রদেশ, রাজস্থান এবং ছত্তিশগড়। এই রাজ্যগুলিতে দীর্ঘসময় আসীন থেকেছে বিজেপি।  
সরকারি ভাষ্য অনুযায়ী, জনবিন্যাস সম্পর্কিত উচ্চপর্যায়ের কমিটি দেশের সর্বত্র ‘অবৈধ অনুপ্রবেশের জন্য জনবিন্যাসের পরিবর্তন খতিয়ে দেখবে। অন্য অস্বাভাবিক বিষয়ও দেখবে কমিটি। 
শনিবার বৈঠকে শাহ কমিটিকে নির্দেশ দিয়েছেন সীমান্তবর্তী জেলার পাশাপাশি সংলগ্ন শহর এবং শিল্প এলাকার পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে।

Comments :0

Login to leave a comment