Md Salim

প্রকৃত ভোটার বাদ গেলে বিক্ষোভ হবে, সেলিম

রাজ্য জেলা

রাজ্যের লক্ষ লক্ষ মানুষকে গত দুই আড়াই মাস লাইনে দাঁড় করিয়ে হায়রানি করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন ও রাজ্য প্রসাশন প্রস্ততি না নিয়েই এসআইআরের নাম করে নির্যাতন চালিয়েছে। ওরা আসামের মতো পিছনের দরজা দিয়ে এনআরসি করার মতলবে থাকলে তা আমরা করতে দেবো না। এরাজ্যে তালিকা প্রকাশের আগেই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করে দিলেন রাজ্যের ১ কোট ২০ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ যাবে। এই ভাষ্য তো আরএসএস ও বিজেপির। আর নির্বাচন কমিশন আরএসএস ও বিজেপির স্ক্রিপ্ট মতো সেই কাজই করছে। মমতার গলায়ও সেই বার্তা। সেটিং টা গভীরে না হলে মুখ্যমন্ত্রী জানলো কি করে। একজনও প্রকৃত ভোটার বাদ গেলে ঘোরতর বিক্ষোভ হবে। এতে তৃণমূল ও বিজেপি বিরোধী সমস্ত শক্তিকে এক হয়ে প্রতিবাদ প্রতিরোধে মুখর হওয়ার আহ্বান জানান সিপিআই(এম) রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম।
মেদিনীপুরে মীরবাজারে সিপিআই(এম) জেলা কমিটির সভায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখোমুখি কথাগুলি বলেন সেলিম। ভোটার তালিকা প্রকাশিত হওয়ার আগে এবং নির্বাচনের নির্ঘন্ট ঘোষণার আগে রাজ্যে কেন্দ্রীয় বাহিনী প্রসঙ্গে সেলিম বলেন, আসলে দক্ষিণপন্থার উত্থান হলে ফ্যাসিবাদের মাথা চাড়া দেয়। সেই বৈশিষ্ট্য হাজির হয়েছে দেশে ও রাজ্যে। বিজেপি ও তৃণমূলের রাজত্বে গণতন্ত্র সংকুচিত হয়েছে। জরুরী অবস্থায় গণতন্ত্রর সাথে মানুষের অধিকার সংকুচিত হয়েছিলো। ৭৭ সালে বামফ্রন্ট এসেই গণতন্ত্রের প্রসার ঘটিয়েছিলো। সময়মতো পঞ্চায়েত পৌরসভা, সমবায়, ছাত্রসংসদ সহ স্বশাসিত সংস্থায় নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে পরিচালিত হতো। বামপন্থীরাই দেশে সর্বপ্রথম ২১ বছরের পরিবর্তে ১৮ বছর বয়স্কদের ভোটাধিকার দিয়ে গণতন্ত্রকে প্রসারিত করেছিলো। এখন পঞ্চায়েত পৌরসভা সমবায় নির্বাচনে মনোনয়ন করতে দেওয়া হয়না। আবার বিরোধীরা জিতলে প্রসাশন লেলিয়ে শাসকদল কেনা বেচা করে। আমরা চাই গণতন্ত্রের প্রসার। মানুষের অধিকার রক্ষা, সংবিধান রক্ষা। তাতে বাংলার ঐতিহ্য পরম্পরা সংস্কৃতি পুনরুদ্ধার সংগ্রামে বামপন্থার পুনরুত্থান। তিনি আরও বলেন, গণতন্ত্র সংকুচিত হলে মানবিক অধিকার সংকুচিত হয়। কাজের অধিকার, শ্রমের মূল্য, শিক্ষা স্বাস্থ্যর অধিকার সংকুচিত হয়। মত প্রকাশের অধিকার, স্বাধীনভাবে ধর্মাচারনের অধিকারও সংকুচিত হয়। দক্ষিণপন্থার এই বিপদকে রুখে দিতে সিপিআই(এম) এরাজ্যে বামপন্থার পুনরুত্থান সংগ্রামে তৃণমূল ও বিজেপি বিরোধী সমস্ত শক্তিকে একজোট করে লড়াই সংগ্রামে অবতীর্ণ হতে চায়। তাতে বামফ্রন্ট সহ তার বাইরে বামপন্থী শক্তির সাথেও কথাবার্তা হয়েছে, প্রয়োজনে আরও কথা হবে বলে তিনি জানান।
তিনি বলেন নির্বাচন সামনে। বিজেপি তৃণমূলের বড় বড় হোডিং দেখতে পাবেন। তাতে কিন্তু মমতা ব্যানার্জী দূর্নীতি নিয়ে কোনও বক্তব্য নেই। তিনি বলেন, আগে গরীব মানুষের কিছু উদ্বৃত্ত অর্থ থাকতো। গ্রামগঞ্জে শিল্পজাত দ্রব্যের চাহিদা ও বাজার গড়ে উঠেছিলো। খাদ্যে স্ব-নির্ভর বাংলা আজ অনাহার অপুষ্টিতে এই জেলার ডেবরায় শবর জনজাতির মৃত্যু। আজ বাংলার গ্রাম মাইক্রোফিনান্স ঋণে জর্জরিত। যারা চিটফান্ডের মাথা ছিল সেই তৃণমূল কর্মীরা আজ ওই মাইক্রোফিনান্স সংস্থার বাউন্সার হয়ে গরীব মানুষের গরু ছাগল মহিষ সহ সাইকেল তুলে নিয়ে চলে যাচ্ছে।

Comments :0

Login to leave a comment