সিপিআই(এম)’র উদ্যোগে প্রায় এক মাস ধরে উত্তর ভারতের প্রতিটি রাজ্যে জন আক্রোশ জাঠা হয়েছে। সেই জাঠাগুলির সম্মিলিত পরিণতি ঘটতে চলেছে মঙ্গলবার দিল্লির রামলীলা ময়দানে জন আক্রোশ সমাবেশের মধ্যে দিয়ে। এই সমাবেশকে সর্বতোভাবে সফল করে তোলাই এখন মূল লক্ষ্য। রবিবার সাংবাদিক সম্মেলনে একথা জানালেন সিপিআই(এম)’র সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবি।
২৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ২০ মার্চের মধ্যে ২১৩ দিন ধরে ৩৩টি যাত্রা জম্মু ও কাশ্মীর, হিমাচল প্রদেশ, উত্তরাখণ্ড, পাঞ্জাব, হরিয়ানা, রাজস্থান, গুজরাট, মধ্য প্রদেশ, ছত্তিশগড়, ঝাড়খণ্ড এবং বিহারে জন আক্রোশ জাঠা হয়। এই সময়কালে হাজারেরও বেশি জনসভা হয়েছে। সবমিলিয়ে দেড় লক্ষেরও বেশি মানুষ জাঠা এবং সমাবেশে অংশগ্রহণ করেছেন। কেন্দ্রের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়গুলির উপর প্রায় ৩৫,০০০টি পুস্তিকা বিক্রি এবং ১০,০০,০০০টি লিফলেট বিলি করা হয়েছে। যাত্রাপত্রে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনও অংশ নিয়ে পথনাটক ও গান পরিবেশন করেছে। সেই সমস্ত নাটক-গানে যে যে কারণে জন আক্রোশ জাঠা, সেই বিষয়গুলি তুলে ধরা হয়।
বেবি এদিন একথা জানিয়ে বলেন, মূলত পাঁচ দফা দাবিতে জন আক্রোশ জাঠা ২১৩ দিন ধরে পরিক্রমা করেছে উত্তর ভারত। সিপিআই(এম) প্রথম থেকেই মোদী সরকারের শ্রমিক-কৃষক-জনবিরোধী নীতির বিরুদ্ধে সরব। যে দাবিগুলির ভিত্তিতে জন আক্রোশ জাঠা এবং দিল্লির রামলীলা ময়দানে সমাবেশ সেগুলি হলো— চারটি শ্রম কোডের বিজ্ঞপ্তি প্রত্যাহার করতে হবে; ভিবি জি রাম জি বাতিল করতে হবে— যা গ্রামীণ কর্মসংস্থান গ্যারান্টি আইনের মৌলিক চরিত্রই বদলে দিয়েছে এবং গ্রামীণ শ্রমিকদের জীবিকা ক্ষুণ্ণ করেছে। এর পরিবর্তে মনরেগা-কেই শক্তিশালী করতে হবে; বিদ্যুৎ আইন সংশোধন না করা, বিদ্যুৎ বণ্টনকারী সংস্থা বেসরকারিকরণ করা চলবে না, পারস্পরিক ভরতুকি প্রত্যাহার না করা এবং স্মার্ট মিটার না বসানো। এর ফলে সারা দেশে বিদ্যুতের মাশুল বৃদ্ধি পাবে; বীজ বিল সংশোধন না করা। এর জেরে কৃষকদের নিজেদের বীজ উন্নয়নের অধিকার কেড়ে নেওয়া হবে এবং বীজ বাজারে বহুজাতিক কর্পোরেশনগুলির দখল আরও শক্তিশালী করবে এবং ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য চুক্তি বাতিল করতে হবে, যা স্পষ্টতই দেশের কৃষক, শ্রমিক এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের স্বার্থের পরিপন্থী।
জন আক্রোশ জাঠার সাফল্যের কথা উল্লেখ করে বেবি বলেছেন, যাত্রাপথে বিজেপি নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকারের জনবিরোধী নীতির জাঁতাকলে মানুষ যে চরম দুর্দশার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন, তা আবারও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ইরানের ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র–ইজরায়েলের হামলার প্রভাব সারা দেশেই সুস্পষ্টভাবে লক্ষ্য করা যাচ্ছে। রান্নার গ্যাস ও জ্বালানির দামবৃদ্ধি, গ্যাস সিলিন্ডারের সঙ্কট, খাদ্যের মূল্যবৃদ্ধির পাশাপাশি হোটেল-রেস্তোরাঁ-স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের হোস্টেলগুলি সম্পূর্ণ বা আংশিক বন্ধ হয়ে যাওয়া মানুষের জীবিকায় বিরূপ প্রভাব ফেলছে। এইসব দুর্ভোগের কণ্ঠস্বর হয়ে উঠবে রামলীলা ময়দানের সমাবেশ বলে জোরের সঙ্গেই জানান সিপিআই(এম)’র সাধারণ সম্পাদক।
বারাণসীর অন্নপূর্ণা মন্দিরের রান্নাঘর এলপিজি সিলিন্ডারের ঘাটতির কারণে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ার কথা উল্লেখ করে বেবি এদিন বলেন, তিন শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে যেখানে নিরবচ্ছিন্নভাবে খাদ্য বিতরণ চলেছে, সেই অন্নপূর্ণা মন্দিরে ইতিহাসে এই প্রথমবার বিনামূল্যের ভোজন পরিষেবা বন্ধ রাখতে বাধ্য হতে হয়েছে। লক্ষ্যণীয় বিষয় হলো, ঘটনাটি ঘটেছে প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী ক্ষেত্র বারাণসীতেই।
বেবি জানান, উত্তর ভারতের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষকে এই সমাবেশে অংশগ্রহণের জন্য সংগঠিত করা হবে। এই সমাবেশ শহীদ দিবসের (শহীদ-এ-আজম ভগত সিং, সুখদেব এবং রাজগুরুর শহীদ হওয়ার দিন) পরের দিন হতে চলেছে। এই সমাবেশে সিপিআই(এম) নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখবেন। তাঁরা আগামীদিনের কর্মসূচির আহ্বান জানাবেন।
এদিন সমাবেশের প্রস্তুতি দেখতে বেবি সহ পার্টি নেতৃবৃন্দ রামলীলা ময়দানে গিয়েছিলেন। প্রায় ১২ বছর পর সিপিআই(এম)’র আহ্বানে সমাবেশ হতে চলেছে রামলীলা ময়দানে।
CPIM
কাল জন আক্রোশ সমাবেশ, রামলীলা ময়দানে, প্রস্তুতি তুঙ্গে
রামলীলা ময়দানে প্রস্তুতি খতিয়ে দেখছেন সিপিআই(এম) সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবি।
×
Comments :0