ইরানে ঘোষিত উদ্দেশ্য বা লক্ষ্য পূরণ না করেই কি শেষ পর্যন্ত ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ঘরে ফিরতে হচ্ছে? সংবাদ সংস্থা রয়টারকে দেওয়া সাক্ষাৎকার এবং নিজের সোশাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে ট্রাম্প যা বলেছেন বা বলতে চেয়েছেন যে ইরানের বিরুদ্ধে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ চালানোর মতো কোমরের জোর তার নেই। মাত্রাতিরিক্ত ইজরায়েল প্রীতির কারণে অগ্রপশ্চাৎ না ভেবে নেতানেয়াহুর কথায় প্রবল বিক্রমে যুদ্ধে নেমে পড়েছিলেন। ধরেই নিয়েছিলেন এটা দু’-চার দিনের মামলা। অত্যাধুনিক সমরাস্ত্র ও যুদ্ধকৌশলের মুখে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়বে ইরান। ইসলামিক রিপাবলিক জমানার অবসান ঘটে প্রতিষ্ঠিত হবে আমেরিকা নিয়ন্ত্রিত নতুন জমানা। মধ্য প্রাচ্যে তথা তেল সাম্রাজ্যে আমেরিকাকে প্রত্যাখ্যান করার মতো আর কোনও শক্তি থাকবে না। কিন্তু ট্রাম্পকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে পাঁচ সপ্তাহ ধরে অসম যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে বীরত্বের সঙ্গে। ঘোষণা করেছে আরও অন্তত ছ’মাস যুদ্ধ চালিয়ে যেতে তারা প্রস্তুত।
আমেরিকা-ইজরায়েলের বিধ্বংসী আক্রমণে ইরান বিপুল ক্ষয়ক্ষতি ও ধ্বংসের শিকার। প্রাণ হারিয়েছে দু’হাজারের ওপর মানুষ। কিন্তু পালটা আঘাতেও ইরান ইজরায়েলের কম ক্ষতি করেনি। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে যে সব দেশে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি আছে এবং যেখান থেকে ইরানে হামলা চালানো হচ্ছে সেখানেও ইরানের পালটা আঘাতে বিপুল ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ছাড় দেয়নি তেল ও গ্যাস ক্ষেত্রগুলিও। ফলে তেল ও গ্যাসের উৎপাদন ও সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। সর্বোপরি হরমুজ প্রণালী অবরোধ করে ইরান বিশ্বের এক পঞ্চমাংস জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই তেল বিশ্বে প্রবল আতঙ্ক ছড়িয়েছে। বিশেষ করে যে সব দেশ তেল আমদানির উপর নির্ভরশীল সে সব দেশে সঙ্কট ভয়াবহ আকার নিতে থাকে। বিশ্ব বাজারে তেলের দাম ৭০ ডলার থেকে উঠে যায় ১২০ ডলার পর্যন্ত। দেশে দেশে বাড়তে থাকে পেট্রোপণ্যের দাম। ক্ষোভ-অসন্তোষ থেকে বাড়তে থাকে প্রতিবাদ বিক্ষোভ। সর্বত্র মার্কিন বিরোধী মনোভাব তীব্র হতে থাকে। খোদ আমেরিকাতেই ট্রাম্প বিরোধী বিক্ষোভ উত্তাল চেহারা নেয়।
হরমুজ প্রণালী বন্ধ হওয়ার পর আশপাশের মার্কিন রণতরীগুলিকেও টার্গেট করে ইরান। তাই হরমুজের অবরোধ ভাঙতে একা যেতে সাহস পাচ্ছে না ট্রাম্প। তিনি মার্কিন মিত্র দেশ এবং ন্যাটোভুক্ত দেশগুলিকে হরমুজে নৌবাহিনী পাঠানোর অনুরোধ করেন। কিন্তু তাতে সাড়া দেয়নি। অবশেষে মাথা হেঁট করে চীনের কাছেও আবেদন করেন যুদ্ধ জাহাজ পাঠানোর। চীন টু শব্দও করেনি। ইউরোপ জানিয়েছে এই যুদ্ধে তাদের কোনও স্বার্থ নেই। মার্কিন জনগণও বলছে এই যুদ্ধ ট্রাম্পের যুদ্ধ, আমেরিকার তাতে কোনও স্বার্থ নেই।
এই অবস্থায় সারা বিশ্বের প্রবল চাপের মুখে রণে ভঙ্গ দেওয়া ছাড়া বিকল্প কিছু খুঁজে পাচ্ছেন না ট্রাম্প। ইজরায়েলের পাশে দাঁড়াতে গিয়ে তিনি এখন কার্যত একা। হাতড়ে বেড়াচ্ছে কোনও যুক্তি বা অজুহাত খাড়া করে যুদ্ধ ছেড়ে পলানো যায়। আর সেটা করতে গিয়ে বারবার অসংলগ্ন ও পরস্পর বিরোধী কথা বলছেন। শেষ পর্যন্ত কোনও এক সমঝোতা সূত্রে যুদ্ধ হয়তো থামবে কিন্তু ইতিমধ্যে যে ক্ষতি হয়েছে তার মূল্য দিতে হবে সারা বিশ্বের মানুষকে অনেকদিন ধরে।
Trump and Iran War
পালানোর পথ খুঁজছেন ট্রাম্প
×
Comments :0