!প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ঢাকঢোল পিটিয়ে তাঁর ইজরায়েল সফর সেরে দেশে ফেরার দু’দিনের মধ্যেই আমেরিকা ও ইজরায়েল সামরিক অভিযান শুরু করে দিয়েছে ইরানের বিরুদ্ধে। ইতিমধ্যে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা খোমেনেই নিহত হয়েছেন ইজরায়েলি বিমান হানায়। সঙ্গে খোমেনেইর পরিবারের লোকজন, শীর্ষ পদাধিকারী সহ আরও অনেকের মৃত্যু হয়েছে। তার আগে অনেকটা গাজায় হামলার মতো একটি বালিকা বিদ্যালয়ে বোমা মেরে দেড় শতাধিক কিশোরীকে খুন করেছে ট্রাম্প-নেতানেয়াহুর জোট। সব মিলিয়ে মৃত্যু প্রায় তিন শতাধিক।
দু’দিন আগে ইজরায়েলের সংসদে ভাষণ দিয়ে ইজরায়েলের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়ে ভারত-ইজরায়েল বন্ধুত্বকে ঐতিহাসিক উত্তরণ আখ্যা দিতেও দ্বিধা করেননি। অকপটে প্রতিশ্রুতি দিয়ে ঘোষণা করেছেন ইজরায়েলের সামগ্রিক নীতি ও পদক্ষেপকে নিঃশর্তভাবে সমর্থন করবেন। সামরিক-স্ট্র্যাটেজিক একগুচ্ছ চুক্তিও স্বাক্ষর করেছেন ইজরায়েলের সঙ্গে। অথচ ভারতের বিশ্বগুরু ঘুণাক্ষরেও টের পেলেন না আমেরিকার সমর্থনে ও সহযোগিতায় ইজরায়েল ইরানে সামরিক আগ্রাসন চালানোর যাবতীয় প্রস্তুতি সেরে ফেলেছে। জয়শঙ্করের নেতৃত্বে বিদেশ মন্ত্রক এতটাই ব্যর্থ যে তারা আমেরিকা-ইজরায়েলের পরিকল্পনার কিছুই জানতে পারেনি। তেমনি ভারতের কূটনীতিও ডাহা ফেল হয়ে গেছে পশ্চিম এশিয়ায় অশান্তি ও অনিশ্চয়তা প্রশমনে।
মোদী সরকার যদি এই যুদ্ধ প্রস্তুতির বিন্দু বিসর্গও খবর রাখত তাহলে এই সময়ে ইজরায়েল সফর করে ভুলভাল বক্তৃতা দিয়ে এমন অস্বস্তিতে পড়তে হতো না। তিনি ইজরায়েলের সামগ্রিক নীতি ও পদক্ষেপকে নিঃশর্তে সমর্থন দিয়ে এসেছেন। তার অর্থ কি ইরানে সামরিক আক্রমণেরও কি আগাম সমর্থন জানিয়েছিলেন! অথচ ইরান ভারতের বহু পুরানো বিশ্বস্ত বন্ধু দেশ। ইরানের চাবাহার বন্দরে ভারত বিপুল বিনিয়োগ করেছে। ইরানের উপর দিয়ে সমগ্র পশ্চিম এশিয়া ও ইউরোপে বাণিজ্যের নতুন সম্ভাবনার পথ তৈরি হয়েছে। সেই বন্ধু দেশে যখন ইজরায়েল হামলার জন্য তৈরি হয়েছে ঠিক তার আগে মোদী ইজরায়েল সফর করে ইজরায়েলকে সামগ্রিকভাবে সমর্থন জানিয়ে এলেন। আগ্রাসী গণহত্যাকারী ইজরায়েলকে ভারতের তরফে বৈধতা দিয়ে এলেন।
এখন ইরানে আমেরিকা-ইজরায়েলি হানার প্রেক্ষাপটে নানাদিক থেকে বিশেষ করে অর্থনীতির ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি সঙ্কটে পড়ার আশঙ্কায় আছে ভারত। পশ্চিম এশিয়ায় অন্যতম প্রভাবশালী দেশ ইরান। ইরান আক্রান্ত হওয়ায় তার পরিণতির ব্যাপক প্রভাব পড়বে গোটা পশ্চিম এশিয়ায়। ভারতের তেল আমদানি দুই-তৃতীয়াংশ আসে হরমুজ প্রণালী দিয়ে। যুদ্ধের আবহে এই প্রণালী কার্যত বন্ধ হবার মুখে। ৭০০ উড়ান বাতিল সহ পশ্চিম এশিয়ায় আকাশ পথ ও জলপথ বন্ধ। বাণিজ্য ও যাতায়াত বন্ধ হবার মুখে। পশ্চিম এশিয়ায় ৯০ লক্ষ ভারতীয় কাজ করেন। এই দেশগুলি ভারতের রপ্তানির অন্যতম গন্তব্য। ফলে তেলের দাম বেড়ে যেমন অর্থনীতিতে ধাক্কা আসতে পারে তেমনি রপ্তানি থমকে যেতে পারে। ভারতের শেয়ার বাজার থেকে বিদেশি লগ্নি উবে যেতে পারে। টাকার মূল্য আরও কমতে পারে। অর্থাৎ বড়সড় সঙ্কটের মুখে ভারতের অর্থনীতি। ইজরায়েলে গিয়ে সমর্থন জানিয়ে এখন দেশে বসে উদ্বেগের বিবৃতি দেওয়া হচ্ছে। দু’পক্ষকে সংযত হবার আবেদন জানানো হয়েছে। এর আগে রাশিয়া, ইউক্রেনকেও অনুরূপ আবেদন করা হয়েছিল। কিন্তু বিশ্বগুরুকে কেউ পাত্তা দেয়নি। ট্রাম্প-নেতানেয়াহুর পাত্তা দেবার কোনও প্রশ্নই ওঠে না। কেন পাত্তা দেবে? মোদী হামাসের হামলার নিন্দা করেছেন। কিন্তু ইজরায়েলের ৭০ হাজার প্যালেস্তিনীয়কে হত্যার নিন্দা করেননি। পরোক্ষে সমর্থন করে এসেছেন। তার মূল্য চোকাতে হবে ভারতের সাধারণ মানুষকে।
Modi Israel
মোদীর সমর্থনে উজ্জীবিত ইজরায়েল
×
Comments :0