জয়ন্ত সাহা, কোচবিহার
জেলার বিভিন্ন কেন্দ্রে তৃনমুল আর বিজেপির টিকিট পাওয়া প্রার্থীরা ভোট প্রচারে না বেড়িয়ে টিকিট না পাওয়া নেতাদের আশীর্বাদ নিতে ছুটছেন। আসলে চোরাস্রোতে হারতে হবে তাই জেলাজুড়ে চলছে তৃনমুল আর বিজেপির 'আশীর্বাদের' নয়া রাজনীতি।
ভোটের মুখে বিজেপি প্রার্থী তুফানগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রে রীতিমত বেকায়দায়! তুফানগঞ্জের পদ্ম শিবিরে এখন পদত্যাগের হিড়িক পড়েছে। আবার পাশের কেন্দ্র নাটাবাড়িতে বেকায়দায় তৃনমুল। এখানে রবীন্দ্রনাথ ঘোষকে দল টিকিট দেয়নি। বদলে টিকিট পেয়েছেন শৈলেন বর্মন। রবীন্দ্রনাথ অনুগামীরা দলের কার্যালয়ে হামলা চালিয়েছে। ক্ষোভ ফুঁসছে তাঁর অনুগামীরা। এদিকে তুফানগঞ্জে গতবার জিতেছিলেন, বিজেপির মালতী রাভা। এবার প্রার্থীর নাম ঘোষনার পর দলের ছন্নছাড়া দশায় প্রার্থী বেসামাল।
তুফানগঞ্জের বামফ্রন্টের সিপিআই(এম) প্রার্থী ধনঞ্জয় রাভা বলেন, "বিজেপির নেতারা তৃনমুলের মতই কাটমানি আদায় করে চলে। এই বিবাদ আসলে বখরার ভাগাভাগি নিয়ে। শুধু শহরে নয়, বিজেপিতে বড় ভাঙ্গন আসছে বিভিন্ন গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায়।"
কোচবিহার দক্ষিন কেন্দ্রে প্রার্থী হয়েও অস্বস্তিতে পার্থপ্রতিম রায়। কারন ক্ষোভের চোরাস্রোত তিনি টের পাচ্ছেন বিধানসভা এলাকায় পা রেখেই।এমনিতে তিনি রবীন্দ্রনাথ ঘোষের অনুগামী। জেলার রাজনীতিতে তারা "কাকা-ভাইপো" নামেই পরিচিত। দল রবীন্দ্রনাথ ঘোষকে টিকিট না দিয়ে সেই আসনে "ভাইপো" পার্থকে টিকিট দেওয়ায় কাকা রবীন্দ্রনাথ ঘোষ প্রকাশ্যে "ভাইপো" পার্থর প্রশাংসা করলেও রবি অনুগামীরা পুরোপুরি বেঁকে বসেছে।
স্বস্তিতে নেই মাথাভাঙা কেন্দ্রে তৃনমুলের টিকিট পাওয়া সাবলু বর্মনও। তিনি প্রাক্তন বনমন্ত্রী বিনয় কৃষ্ণ বর্মন, দলের যুব সভাপতিকে টপকে টিকিট পেয়েছেন। তিনিও টিকিট পেয়ে প্রচারে নয় যাচ্ছেন যারা টিকিট পায় নি তাদের আশীর্বাদ নিতে। একই দশা শিতলকুচির বিজেপি প্রার্থী সাবিত্রী বর্মনেরও। বিধায়ক বরেন বর্মনকে টিকিট না দিয়ে দল তাকে টিকিট দিয়েছে। কিন্তু বিধানসভা এলাকায় দলের নিয়ন্ত্রন বরেন বর্মন অনুগামীদের হাতে। সাবিত্রী বর্মন স্পষ্ট জানেন বরেন বর্মনের আশীর্বাদ না পেলে ভোটে জেতা অসম্ভব।
Comments :0