Iran Conflict India

আমেরিকার যুদ্ধে ভারতের সঙ্কট সার, ভোজ্য তেলেও

জাতীয়

ইরান- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সংঘর্ষের ফলে ভারতে সূর্যমুখী তেলের মতো ভোজ্য তেল এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সার আমদানি সমস্যায় পড়ছে। তেমনি মধ্যপ্রাচ্য এবং ইউরোপ থেকে কৃষিপণ্য আমদানির ক্ষেত্রেও জোর ধাক্কা লাগতে পারে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন অংশ। 
পাশাপাশি সংঘর্ষকে সামনে রেখে বিভিন্ন জাহাজ পরিবহণ সংস্থা পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে মাশুল ও বিমা বাবদ টাকা বাড়িয়েছে। উল্লেখ্য, আমেরিকা-ইজরায়েল অক্ষের হামলার কারণেই সংঘাত বেঁধেছে ইরানের সঙ্গে। 
এসএফআইএ সভাপতি রাজীব চক্রবর্তী সংবাদ সংস্থাকে জানিয়েছেন, "মধ্যপ্রাচ্য থেকে আমদানি এখন স্থগিত রয়েছে।" তিনি আরও বলেন, "যদি এই সংঘর্ষ চলতে থাকে তাহলে এই আশংকা আরও বৃদ্ধি পাবে এবং পণ্যপরিবাহী জাহাজ সংস্থাগুলি তাদের বীমা শুল্ক এবং মাশুল আরও বাড়াতে পারে।" 
জুন মাসে ভারতের খরিফ ফসল চাষের মরশুমের আগে ডিএপি এবং এসএসপি'র মতো সার তৈরির ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সালফার এবং সালফিউরিক অ্যাসিডের জোগানের ক্ষেত্রেও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তিনি। কাতার,  সংযুক্ত আরব আমিরশাহী সহ ওমান থেকে ভারতে ৭৬ শতাংশ সালফার আমদানি করা হয়।
তিনি উল্লেখ করেন, "একাধিক বন্দর বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে জটিলতা প্রবল।  কন্টেনারের ঘাটতিও দেখা যেতে পরে।" 
ভারত বছরে প্রায় ১ কোটি ৬০ লক্ষ টন ভোজ্য তেল আমদানি করে, যার মধ্যে সূর্যমুখী তেল প্রায় ২০ শতাংশ, যা মূলত রাশিয়া, ইউক্রেন এবং আর্জেন্টিনা থেকে আসে। লোহিত সাগর থেকে জাহাজগুলিকে অন্যত্র যেতে বাধ্য করা হলে পণ্য পরিবহন বিলম্বিত হতে পারে। পাশাপাশি, জ্বালানি খরচ, সরবরাহ এবং বিশ্বব্যাপী জৈব জ্বালানি বাজারের মধ্যে যোগসূত্রের কারণে অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধি পরিবহণের খরচ আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে।  
রপ্তানির দিক থেকে, ভারত তার সোয়াবিনের মতো 'অয়েল মিল‘ জাতীয় পণ্যের রপ্তানির ২০ শতাংশ মধ্যপ্রাচ্যে এবং ১৫ শতাংশ ইউরোপে পাঠায়। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই অঞ্চলে পরিবহণকারী তেলখনি, কৃষি, উদ্যানপালন এবং ফুলের চাষের পণ্যের চালানও ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।

Comments :0

Login to leave a comment