Pinarayi Vijayan

২০১৬ সালে নেমোমে কংগ্রেস-বিজেপি গোপন আঁতাত ছিল: বিরোধীদের অভিযোগ উড়িয়ে দাবি পিনারাই বিজয়নের

জাতীয়

কেরালার মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন সোমবার অভিযোগ করেছেন যে, ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নেমোম কেন্দ্রে কংগ্রেস এবং বিজেপির মধ্যে একটি গোপন বোঝাপড়া হয়েছিল, যার ফলেই সেখানে জয়লাভ করেছিল বিজেপি। কেরালায় সিপিআই(এম) বিজেপি বোঝাপড়া নিয়ে রাহুল গান্ধীর তোলা অভিযোগের নিশানা করে একথা বলেছেন পিনারাই বিজয়ন। 
একইসঙ্গে, আসন্ন নির্বাচনে বিভিন্ন কেন্দ্রে 'সিপিএম-বিজেপি আঁতাত' নিয়ে বিরোধীদের তোলা সাম্প্রতিক অভিযোগও তিনি পুরোপুরি খারিজ করে দিয়েছেন।
এদিন এক সাংবাদিক সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী কংগ্রেসের সেই অভিযোগ উড়িয়ে দেন। 
কংগ্রেসের দিকেই অভিযোগের আঙুল তুলে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, অতীতেও বিজেপির সঙ্গে গোপন সম্পর্ক স্থাপনের ইতিহাস রয়েছে কংগ্রেসের। এর প্রধান উদাহরণ হিসেবে তিনি ২০১৬ সালের নেমোম কেন্দ্রের কথা তুলে ধরেন। তার দাবি, ওই কেন্দ্রে কংগ্রেসের ভোট উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ার ফলেই বিজেপি বিধানসভায় তাদের একমাত্র আসনটি জিততে পেরেছিল। অন্য একটি কেন্দ্রে অন্য দলের প্রার্থীর জয় নিশ্চিত করার জন্যই এই ‘ইচ্ছাকৃত রাজনৈতিক সমঝোতা’ করা হয়েছিল বলে তিনি বর্ণনা করেন।
বিজয়ন বলেন, ‘বামপন্থী দলগুলি, বিশেষ করে সিপিআই(এম) সব সময়ই আরএসএস এবং বিজেপির বিরুদ্ধে আপসহীন অবস্থান নিয়ে এসেছে। কেউ তা অস্বীকার করতে পারবে না।’
বিজয়ন কংগ্রেস এবং রাহুল গান্ধী সহ দলটির শীর্ষ নেতৃত্বকে বিভিন্ন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিজেপির "বি-টিম" হিসেবে কাজ করার জন্য অভিযুক্ত করেন। দিল্লির রাজনৈতিক পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, আপ (AAP) নেতা অরবিন্দ কেজরিওয়ালের গ্রেপ্তারি উদযাপন করতে কংগ্রেস কর্মীরা বাজি ফাটিয়েছিলেন। বিজেপির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার পরিবর্তে কংগ্রেস আপ-এর বিরোধিতা করাকেই বেছে নিয়েছিল বলে তার অভিযোগ।
বিজয়ন অতীতে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে আরএসএসের সাথে সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টার অভিযোগ তোলেন। তিনি জানান, বাম গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট (LDF) ধারাবাহিকভাবে আরএসএস এবং বিজেপি উভয়ের বিরুদ্ধেই কঠোর অবস্থান বজায় রেখেছে। কেরালার রাজনীতিতে বহুল চর্চিত "কো-লি-বি" (কংগ্রেস, ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লিগ এবং বিজেপি) জোটের তত্ত্ব স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, অতীতে বামপন্থীদের হারাতে তৈরি হওয়া এই ধরনের গোপন আঁতাতকে সাধারণ ভোটাররা শেষ পর্যন্ত প্রত্যাখ্যান করেছিল।
বিরোধী দলনেতা ভি ডি সতীশনের সাম্প্রতিক দাবির প্রেক্ষিতেই এই রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে। সতীশন সম্প্রতি অভিযোগ করেছিলেন যে, আগামী ৯ এপ্রিলের বিধানসভা নির্বাচনে পালঘাট সহ প্রায় ১০টি কেন্দ্রে সিপিআই(এম) এবং বিজেপির মধ্যে একটি সমঝোতা হয়েছে। এর উত্তরে বিজয়ন বলেন, দেশজুড়ে বিজেপির মোকাবিলা করার জন্য বিরোধী শক্তিগুলিকে একত্রিত করতে কংগ্রেস চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে।
রাজনৈতিক বিতর্কের পাশাপাশি রাজ্যের আর্থিক পরিস্থিতি নিয়েও মুখ খোলেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, কেরালায় কর এবং কর-বহির্ভূত রাজস্ব বৃদ্ধির ফলে রাজ্যের আর্থিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে। তবে, তার অভিযোগ, কেন্দ্র কেরালাকে তার ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত করছে এবং বিজেপি-নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকার রাজ্যের উন্নয়নমূলক কাজগুলিতে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করছে। এত চ্যালেঞ্জ থাকা সত্ত্বেও কেরালা উন্নয়নের পথে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে বলে মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন।

Comments :0

Login to leave a comment