তৃণমূল বিজেপির সংঘর্ষকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত গিরিশ পার্ক। অভিযোগ ব্রিগেড সমাবেশে যোগ দেওয়ার জন্য বিজেপি কর্মী সমর্থকরা বাসে করে যাচ্ছিলেন। মন্ত্রী শশী পাঁজার বাড়ির সামনে তারা বাস দাঁড় করিয়ে বয়কট বিজেপি লেখা একটি ফ্লেক্স ছিঁড়ে দেয়। সেখান থেকেই ঘটনার সূত্রপাত বলে দাবি করা হয়েছে।
স্থানীয় তৃণমূল কর্মী সমর্থকদের কথায় শশী পাঁজা এবং কয়েকজন তৃণমূল কর্মী সমর্থক সেই কাজে বাধা দিলে তাদের সাথে বচসা হয়। দুই পক্ষের মধ্যে শুরু হয় হাতাহাতি তারপর চলে পাথর ছোঁড়া। আহত হন রাজ্যের মন্ত্রী শশী পাঁজা। তার বাড়ির সামনে ভাঙচুড় করাও হয়েছে বলে তৃণমূলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। পাল্টা বিজেপির দাবি তাদের বাস ঘিরে হামলা করে তৃণমূল, নীরব থেকেছে পুলিশ।
দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘ সময় চলতে থাকে পাথর ছোঁড়া। দুই পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। তাদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। প্রত্যদর্শীদের কথায়, রাস্তায় পড়ে রয়েছে কাঁচ এবং পাথরের টুকরো। তৃণমূল এবং বিজেপির বচসাকে কেন্দ্র করে দীর্ঘ সময় বন্ধ ছিল গিরিশ পার্ক অঞ্চল।
এদিন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শশী পাজা বলেন, "বাড়ির সামনে ফ্লেক্স ছেড়ার প্রতিবাদ জানাই। তারপরই আশঙ্কা বীর বৃষ্টি শুরু করেছে বিজেপির দুষ্কৃতীরা। বাস থেকে লাঠি, ইট,কাচের বোতল ক্রমাগত ছড়া হতে থাকে। আমার নিজের গায়ে ইট লেগেছে। এরা পরিবর্তন যাত্রার শেষ করে ব্রিগেড সমাবেশ করতে এসেছে বিজেপি আসলে নারীবিদ্বেষী। সমস্ত গুন্ডাদের জড়ো করেছে বিজেপি।
উল্লেখ্য কয়েকদিন পর রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন। বামপন্থীরা যখন ‘বাংলা বাঁচানোঁ’ ডাক দিয়েছে তখন তৃণমূল এবং বিজেপি শুরু করেছে সাম্প্রদায়িক রাজনীতি। এসআইআরের নাম করে মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার চক্রান্ত চলছে। তৃণমূল দায় ঠেলছে নির্বাচন কমিশনের দিকে, পাল্টা কমিশন বলছে রাজ্য সরকারি কর্মীদের ভুলের জন্য ৬০ লক্ষ নাম বিবেচনাধীন রয়েছে।
২০১১ সালের পর থেকে রাজ্যের প্রতিটা নির্বাচনকে প্রহসনে পরিনত করেছে তৃণমূল। পঞ্চায়েত থেকে পৌরসভা বিরোধী শূন্য করেছে তারা। অবাধে হয়েছে ভোট লুঠ। অন্যদিকে আমাদের পাশের রাজ্য ত্রিপুরা, এরাজ্যে তৃণমূল যেই কায়দায় ভোট লুঠ করছে। বিরোধীদের ওপর বিশেষ করে বামপন্থীদের ওপর আক্রমণ করছে, এরাজ্যে একই কায়দায় সেই কাজ করছে তৃণমূল।
রাজ্যে বিজেপি তৃণমূলের সেটিংয়ের অভিযোগ খুব জোরালো। হাটে মাঠে শোনা যাচ্ছে কান পাতলেই। সেটিকে হিসেবে রেখে এই ধরণের উত্তেজনা তৈরি করা হচ্ছে বলেও অনুমান রয়েছে। প্রতিটি নির্বাচনের আগে রাজ্যে এমন পরিস্থিতি রুটিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
Comments :0