ভাস্কর দাশগুপ্ত: মানবাজার
একটানা পনের বছরের বিধায়ক। তিনি আবার পশ্চিমাঞ্চল উন্নয়ন দপ্তরের মন্ত্রীও। তবুও মানবাজার বিধানসভা কেন্দ্রের বিভিন্ন এলাকা ঘুরলে দেখা যাবে অনুন্নয়নের ছবি। বিধায়ক আদিবাসী সম্প্রদায়ের হলেও এই এলাকার আদিবাসীরা সবচেয়ে উপেক্ষিত। একাধিক আদিবাসী স্কুলের হোস্টেল বন্ধ হয়ে পড়ে আছে। সমন্বিত উন্নয়নের লক্ষ্যে গঠিত ‘ল্যাম্পস‘ বন্ধ।
বুধবার মানবাজার বিধানসভা কেন্দ্রের বামফ্রন্ট মনোনীত সিপিআই(এম) প্রার্থী প্রচারে বেরিয়েছিলেন। হুড়া ব্লকের চাটুমাদার গ্রাম পঞ্চায়েতের আদিবাসী গ্রামে আটপৌরে মেয়ের মত বৈঠকি সভায় প্রার্থী সোনামণি টুডুকে পেয়ে মেতে উঠেছিলেন সেখানকার প্রান্তিক মানুষজন। কেউ এগিয়ে দিলেন মুড়ির থালা। কেউ আবার বাড়ি থেকে চা করে নিয়ে এসে প্রার্থীর সামনে রাখলেন।
ঘরের মানুষকে কাছে পেয়ে মানুষজনের বক্তব্য বিধায়ক সন্ধ্যারানি টুডু আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষ মন্ত্রী। অথচ এখানকার বিভিন্ন আদিবাসী পরিবারে একজন যুবকও বাড়িতে নেই। কেন নেই জিজ্ঞেস করাতে বাড়ির মহিলাদের বক্তব্য কাজ নেই তাই চলে গেছে ভিন রাজ্যে পরিযায়ী শ্রমিক হয়ে।
কখনও আমতলায় বসে বৈঠকি সভা, কখনও বাড়ির সামনে দাওয়ায় বসে ঘরোয়া আলোচনার মাধ্যমে মানুষজন জানালেন তাদের বঞ্চনার কথা, তাদের ক্ষোভের কথা। প্রার্থী সোনামনি টুডু তাঁদের কাছে ঘরেরই মেয়ে। কথাতেও উঠে আসছিল পরিবর্তনের কথা। বলছিলেন মানুষগুলো এবার মুক্তি চাইছেন। সিপিআই(এম) পুরুলিয়া জেলা সম্পাদক মন্ডলী সদস্য ত্রিদিব চৌধুরী বলেছেন, “বিরোধীরা নয় - শাসকদলের নেতা কর্মীরাই মন্ত্রীর বিরুদ্ধে পোস্টার সেঁটে বলেছিলেন এই প্রার্থী তাঁরা চান না। প্রবাদ আছে কাক হয়ে কাকের মাংস খাওয়া। এখানেও মন্ত্রী এবং তার স্বামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ দলের ছেলেদের কাছ থেকেও চাকরি দেওয়ার নাম করে টাকা তোলা হয়েছে। গোটা বিধানসভা এলাকায় ঘুরলেই ব্যাপক ক্ষোভ মানুষের মধ্যে থেকে উঠে এসেছে। সেই জায়গা থেকে দাঁড়িয়ে একেবারে প্রান্তিক পরিবারের সোনামণি টুডুকে পেয়ে মানুষজন বলছেন এবার পরিবর্তন আনতেই হবে।”
Comments :0