শুক্রবার সন্ধ্যায় নাগরাকাটা ব্লকের নয়া সাইলি চা বাগান সংলগ্ন রাস্তায় চা শ্রমিক বোঝাই একটি পিকআপ ভ্যান উল্টে আহত ৪২ জন শ্রমিক। আহতদের অধিকাংশই মহিলা শ্রমিক। গুরুতর আহত অবস্থায় ১৩ জন নাগরাকাটা গ্রামীণ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ৪ জনকে মাল সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে।
জানা গেছে, হোপ চা বাগান থেকে কাজ সেরে বামনডাঙ্গা চা বাগানের দিকে ফিরছিলেন শ্রমিকরা। সেই সময় একটি বাঁকের মুখে স্কুটিকে বাঁচাতে গিয়ে গাড়ির নিয়ন্ত্রণ হারায় চালক দাবি এমনটাই। দুর্ঘটনার পর এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। যদিও দুর্ঘটনা প্রসঙ্গ স্থানীয়দের একাংশ বলছেন স্কুটিকে বাঁচাতে গিয়েই দুর্ঘটনা, নাকি চালকের অসতর্কতা ও অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই গাড়িই এই বিপর্যয়ের মূল কারণ।
স্থানীয় ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, দুর্ঘটনায় আহত শ্রমিকদের অনেকেরই হাত-পা ভেঙেছে, মাথা ও শরীরের বিভিন্ন অংশে গুরুতর আঘাত লেগেছে। স্থানীয়দের বক্তব্য, গাড়িটি আরও দ্রুতগতিতে থাকলে বড়সড় দুর্ঘটনার এমনকি প্রাণহানির ঘটনাও ঘটতে পারত। তাদের অভিযোগ, ডুয়ার্সের বিভিন্ন চা বাগানে এখন নিয়মিত শ্রমিকদের এক বাগান থেকে অন্য বাগানে ঠিকা শ্রমিক হিসেবে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে মালবাহী পিকআপ ভ্যানে। চা পাতা বহনের ছোট গাড়িতেই গাদাগাদি করে শ্রমিকদের নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, নেই কোনও নিরাপত্তা ব্যবস্থা। বর্ষা ও শীতপ্রধান ডুয়ার্স অঞ্চলের পিচ্ছিল রাস্তা, কুয়াশা ও দৃশ্যমানতার অভাবের মধ্যেও এভাবেই প্রতিদিন যাতায়াত করতে বাধ্য হচ্ছেন শ্রমিকরা।
চা বাগান মজদুর ইউনিয়নের জলপাইগুড়ি জেলা সভাপতি রামলাল মুর্মু অভিযোগ করেন, ‘‘নিজের বাগানে কাজ কমে যাওয়ায় শ্রমিকরা বাধ্য হয়ে অন্য বাগানে কাজ করতে যাচ্ছেন। এক শ্রেণির ঠিকাদার শ্রমিকদের কম মজুরিতে কাজে লাগিয়ে মালবাহী গাড়িতে করে নিয়ে যাচ্ছে। অথচ যাত্রীবাহী গাড়ির ব্যবস্থা করা হচ্ছে না। শুধুমাত্র কুর্তি চা বাগানে স্কুল বাসে করে শ্রমিকদের কাজে নিয়ে যাওয়া হয়। বাকি অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অনভিজ্ঞ চালকদের হাতে এই ঝুঁকিপূর্ণ গাড়ি তুলে দেওয়া হচ্ছে। সকাল থেকে অতিরিক্ত পরিশ্রমের পর সন্ধ্যায় ফেরার সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা আরও বেড়ে যায়।’’
আহত শ্রমিকের পরিবারের নরেশ এক্কা জানালেন, তৃণমূল সরকারের আমলে ঠিকাদারদের শ্রমিক পরিবহনে এ ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রা বেড়েছে। রাজ্যে নতুন সরকার এসেছে। ভোটের আগে তারা চা শ্রমিকদের অনেক প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। এখন তা পুরন করা দরকার। দ্রুত মালবাহী গাড়িতে শ্রমিক পরিবহন বন্ধ করা এবং শ্রমিকদের নিরাপদ যাত্রীবাহী যান বাধ্যতামূলক করার দাবি করেন তিনি।
Comments :0