প্রশ্ন করো, সব কিছুকে প্রশ্ন করো। প্রশ্নের সঠিক উত্তর না পাওয়া পর্যন্ত কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছে যেও না। উগ্র দক্ষিণপন্থা যে ভাষ্য তোমার ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে তা ঠিক কিনা পরখ করে দেখো। লাঠি-জেলের মুখে পড়তে হচ্ছে ছাত্র আন্দোলনকে। রাস্তায় নামার পাশাপাশি মতাদর্শ নিয়েও পৌঁছাও জনতার কাছে।
এসএফআই পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটির মুখপাত্র ছাত্র সংগ্রাম পত্রিকার ৬১ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী অনুষ্ঠানে এই আহ্বান জানালেন ইতিহাসবিদ সোহেল হাসমি এবং অর্থনীতিবিদ সাত্যকি রায়। নয়া ফ্যাসিবাদের পর্বে চিন্তার জগতে বামপন্থার লড়াই বিশদে ব্যাখ্যা করেন তাঁরা।
এদিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এসএফআইয়ের সাধারণ সম্পাদক সৃজন ভট্টাচার্য, প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক সুজন চক্রবর্তী, প্রাক্তন এসএফআই নেতা সোমনাথ ভট্টাচার্য, মধুজা সেন রায় ও অভয়া আন্দোলনের প্রতিবাদী চিকিৎসক ডাঃ সুবর্ণ গোস্বামী এবং এসএফআইয়ের রাজ্য নেতৃত্ব।
‘ছাত্রসংগ্রাম’-র প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক অনিল বিশ্বাস এবং শহীদ ছাত্রনেতা সুদীপ্ত গুপ্তের প্রতিকৃতিতে মাল্যদান করেন তাঁরা।
এদিন প্রকাশিত হয় ছাত্র আন্দোলনের প্রাক্তন নেতা গৌতম দেবের রচনা সংকলন ‘আগুন থেকে অক্ষরে’। সভায় শোনানো হয় তাঁর ভিডিও বার্তা। অসুস্থতার জন্য আসতে পারেননি তিনি।
উচ্চমাধ্যমিকে একমাত্র রূপান্তরকামী পরীক্ষার্থী আলিয়া পালকে সম্বর্ধনা দেওয়া হয়। ‘ইচ্ছেমতো’-র প্রযোজনায় নাটক দেখানো হয়।
‘ইতিহাস: সত্য বনাম পুনর্লিখন’ শীর্ষক আলোচনায় সোহেল হাসমি বলেন, ইতিহাস হলো বিজ্ঞান। বিজ্ঞানে যেমন গবেষণা চলে। ইতিহাসও চলমান গবেষণার অংশ। তিনি বলেন, যাঁরা বিজ্ঞানসম্মত দৃষ্টিভঙ্গিতে ইতিহাসের চর্চা করেন তাঁরা কখনও মুখের কথায় বিশ্বাস করেন না। তাঁরা প্রমাণ চান। প্রমাণ না পেলে কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছান না। এই কাজ বামপন্থী ছাত্র আন্দোলনের কর্মীদেরও করতে হবে।
হাসমি বলেন, ‘হোয়াটসঅ্যাপ ইউনিভার্সিটি’ ইতিহাসের পুনর্লিখন করছে না। তারা ইতিহাস বিকৃত করছে। আরএসএস-বিজেপি ‘হোয়াটসঅ্যাপ ইউনিভার্সিটিকে‘ বিকৃত ইতিহাসকে স্বাভাবিক বলে দেখাতে চাইছে। ফলে মানুষের স্বাভাবিক চিন্তার পরিবর্তন ঘটছে। এই সময় সব থেকে কঠিন কাজ করতে হবে ছাত্রদের।
‘সমাজ অর্থনীতির দৃষ্টিতে নয়া ফ্যাসিবাদ‘ অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক সাত্যকি রায় বলেছেন যে পুঁজিবাদের তীব্র সঙ্কটের পরিস্থিতিতেই ফ্যাসিবাদের নতুন পর্বে উত্থান। বামপন্থার ওপর আঘাত তীব্র হবেই। কিন্তু এ সময়েই হচ্ছে প্রতিরোধও।
রায় বলেন, নয়া উদারবাদের হাতে সমাধানের রাস্তা নেই। যে কোনও সময়ে আগুন জ্বলতে পারে। স্ফুলিঙ্গ হতে পারে বাম। সে কারণে কেবল দুর্বল নয়, বামপন্থাকে নিশ্চিহ্ন করতে চায়। মেহনতি মানুষের ঐক্যের ওপর বারবার আঘাত হানে।
তিনি বলেন, নয়ডায় শ্রমিকরা প্রতিরোধ করেছেন। আজকে কুড়ি হাজার টাকা বেতনে দিল্লিতে তাঁদের জীবন চালানো সম্ভব হচ্ছে না। এরাজ্যে হকার উচ্ছেদের বিরুদ্ধে লড়াই চলছে। উগ্র দক্ষিণপন্থার অস্ত্র ভোঁতা হয়ে পড়ছে। আজকে এরাজ্যে বাম ছাত্র আন্দোলনের কর্মীরা লাঠি, জেলের মুখে পড়ছেন। এ সময়েই ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে মতাদর্শের প্রচারও নিয়ে যেতে হবে জনতার কাছে।
সৃজন ভট্টাচার্য বলেন, নয়া ফ্যাসিবাদী শক্তি কেবল ক্ষমতা দখল নয়, মস্তিষ্ক দখলেরও চেষ্টা করছে। তার প্রতিফলন পড়ছে শিক্ষায়। ইউজিসি, নিট সহ কেন্দ্রীয় পরীক্ষায় দুর্নীতি চলছে। ছাত্ররা লড়ছে। তার একটি অংশ ‘ককরোচ জনতা পার্টি’। ১৯ জুন কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রকে যাবে এসএফআই।
Comments :0