প্রাথমিকে নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ইডি দপ্তরে হাজিরা দিলেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক ব্যানার্জি। সোমবার সকাল ১১টা নাগাদ আইনজীবীকে সাথে নিয়ে ইডি দপ্তরে হাজির হন তিনি। নিয়োগ দুর্নীতি কান্ডে কালীঘাটের কাকু সুজয় কৃষ্ণ ভদ্র মুখে প্রথম শোনা যায় অভিষেক ব্যানার্জির নাম। তৃণমূল সাংসদের লিপ্স এন্ড বাউন্সের নাম জড়ায়। দুর্নীতির টাকা সেই সংস্থায় খাটানো হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। ওই সংস্থার কর্মী সুজয় কৃষ্ণ।
২০২৩ সালে গ্রেপ্তার হন কালীঘাটের কাকু। তারপর থেকে তার কন্ঠস্বরের নমুনা পরীক্ষা হয়েছে কিন্তু তদন্তের কোন অগ্রগতি হয়নি। সেই সময় সংবাদমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দেওয়ার সময় সুজয়কৃষ্ণ ভদ্রকে বলতে শোনা যায় যে তার সাহেবের নাম অভিষেক ব্যানর্জি এবং তার সাহেবকে কেউ ধরতে পারবে না।
সূত্রের খবর এদিন ইডির পক্ষ থেকে অভিষেকের কাছে তার সংস্থা সম্পর্কে জানতে চাওয়া হবে। এছাড়া সুজয় কৃষ্ণ ভদ্রর কল রেকর্ডিং পাওয়া গিয়েছে যেখানে শুনতে পাওয়া যাচ্ছে অভিষেককে নিয়োগ দুর্নীতির কত টাকা দিতে হবে। এই সব দিক খতিয়ে দেখছে তদন্তকারিরা।
মমতা ব্যানার্জির পরিবারের অন্দরমহলের লোক সুজয় কৃষ্ণ, ভাইপো সাংসদ অভিষেক ব্যানার্জি যেমন তাঁর ‘সাহেব’ তেমনই অভিষেক ব্যানার্জির বাবা অমিত ব্যানার্জি কালীঘাটের কাকু ওরফে সান্টুদার ‘বন্ধু’ বলেই জানে গোটা পটুয়াপাড়া। সেই অন্দরমহলের ব্যক্তিই তৃণমূলের পাশাপাশি দীর্ঘদিনের সঙ্ঘ পরিবারেরও কর্মী!
আটের দশকের মাঝামাঝি পর্যন্ত চুটিয়ে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ করেছেন এই কালীঘাটের কাকু। তাঁর দুই দাদাও আরএসএস’র সঙ্গেই যুক্ত। কালীঘাটের কাকু আরএসএস-কে নিছক ‘সামাজিক দায়িত্বশীল’ সংগঠন বলেই মনে করেন। তাঁর বড় দাদা সঙ্ঘের সর্বক্ষণের কর্মী।
সঙ্ঘ পরিবারের সরাসরি সংশ্রবে থাকা কালীঘাটের কাকু কীভাবে মমতা ব্যানার্জির পরিবারের ঘনিষ্ঠ হয়ে উঠলেন, কীভাবে অভিষেক ব্যানার্জির পারিবারিক সন্দেহজনক সংস্থার ডিরেক্টর বনে গেলে তা রীতিমত রহস্যময়। ২০১১ সালে তৃণমূল সরকারে আসার পরে ভবানীপুরে উপনির্বাচন হয়। ততদিনে মমতা ব্যানার্জি মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ নিয়ে ফেলেছেন। ১১’র ভোটে তিনি প্রার্থী ছিলেন না। তাই উপনির্বাচন হয় ভবানীপুরে। মমতা ব্যানার্জি মুখ্যমন্ত্রী হিসাবেই তৃণমূলের প্রার্থী আর সেই ভোটে তৃণমূলের ‘ডামি ক্যান্ডিডেট’ হয়েছিলেন আদ্যোপান্ত আরএসএস’র সংশ্রবে বেড়ে ওঠা সুজয়কৃষ্ণ ভদ্র।
Abhishek Banarjee
ইডি দপ্তরে অভিষেক, চলছে জিজ্ঞাসাবাদ
×
Comments :0