TMC Rebels Speaker

ত্রিপুরার এক দলে মিশে যাচ্ছেন, তৃণমূলের বিক্ষুব্ধরা জানালেন অধ্যক্ষকে

জাতীয় রাজ্য

বিজেপি নেতা ভূপেন্দ্র যাদবের সঙ্গে বৈঠকের মুখে।

সরাসরি বিজেপি-তে নয়, ত্রিপুরার একটি দল ন্যাশনালিস্ট সিটিজেনস পার্টির সঙ্গে মিশে যেতে চাইছেন তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ সাংসদরা। রবিবার লোকসভা অধ্যক্ষ ওম বিড়লার সঙ্গে দেখা করার পর এই পরিকল্পনা জানিয়েছেন বিক্ষুব্ধদের অন্যতম কাকলি ঘোষ দস্তিদার। বিজেপি’র পরামর্শেই এই সিদ্ধান্ত।
অধ্যক্ষের বাসভবন থেকে বেরিয়ে ঘোষ দস্তিদার বলেন, ‘‘আমরা বলেছি তৃণমূলের থেকে আলাদা বসার ব্যবস্থা করার জন্য। আমরা ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন পার্টি অব ইন্ডিয়া সঙ্গে মিশে যাচ্ছি। এই সিদ্ধান্ত অধ্যক্ষকে জানানো হয়েছে।’’ তিনি জানিয়েছেন বিজেপি’র জোট এনডিএ-কে সমর্থন করবেন তাঁরা।
যে মমতা ব্যানার্জি পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে দল ভাঙানোর খেলাকে প্রাতিষ্ঠানিক চেহারা দিয়েছিলেন তাঁর পনের বছরের মেয়াদে, তাঁর দলকেই সংসদে এবং বিধানসভায় ভেঙে যেতে দেখা যাচ্ছে। ন্যাশনালিস্ট সিটিজেনস পার্টি ত্রিপুরার একটি রাজনৈতিক দল।
তার কিছু আগেই দলের বিক্ষুব্ধদের বক্তব্যকে স্বীকৃতি না দেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে অধ্যক্ষকে চিঠি দেন তৃণমূল সাংসদ এবং দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জি। তাঁর চিঠি নিয়ে অধ্যক্ষের বাসভবনে যান মমতা ব্যানার্জির পক্ষে থাকা দুই সাংসদ কীর্তি আজাদ এবং সাগরিকা ঘোষ। 
দুই সাংসদ জানান যে অধ্যক্ষকে বলা হয়েছে যাতে জানানো হয়েছে ভেঙে বেরনো সাংসদদের পৃথক গোষ্ঠী হিসেবে স্বীকৃতি দিলে তা অসাংবিধানিক হবে। এই বিক্ষুব্ধদের বক্তব্যকে দল অনুমোদন করে না। এই বিক্ষুব্ধদের ‘প্রকৃত‘ তৃণমূল কংগ্রেস  হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া যাবে না। 
এদিকে অধ্যক্ষের সঙ্গে দেখা করার আগে দিল্লিতে বিজেপি নেতা ভূপেন্দ্র যাদবের বাসভবনে দীর্ঘ বৈঠক করেন কাকলী ঘোষ দস্তিদার, সুদীপ ব্যানার্জি, মালা রায়, সায়নী ঘোষ, জুন মালিয়া, ইউসুফ পাঠানের মতো বিক্ষুব্ধরা। 
রাজনৈতিক মহলের মত, বিজেপি’র পরামর্শেই সংসদে নতুন গোষ্ঠীর স্বীকৃতির বদলে অন্য দলে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। একাংশের বক্তব্য, রাজ্য বিজেপি’র কোনও কোনও নেতা সরাসরি বিক্ষুব্ধদের দলে নেওয়ার ক্ষেত্রে ভিন্ন মত জানিয়েছিলেন।   


রবিবার সকালেই দিল্লিতে কাকলি ঘোষ দস্তিদার দাবি করেন যে তাঁদের সঙ্গে সাংসদের সংখ্যা ২০ থেকে বেড়ে ২২ হয়েছে। জানা গিয়েছে নামের একটি তালিকা অধ্যক্ষের কাছে জমা করা হয়েছে। তবে তালিকায় নাম রয়েছে এমন সব সাংসদই এদিন অধ্যক্ষের সঙ্গে দেখা করেছেন কিনা স্পষ্ট নয়। 
সুদীপ-কাকলি শিবির থেকে বলা হতে থাকে যে ‘আটকে পড়ার কারণে‘ কোনও কোনও সাংসদ আসতে পারেননি। রাতের বদলে বিকেলেই ভূপেন্দ্র যাদবের সঙ্গে বৈঠক হয়। অধ্যক্ষের সঙ্গে দেখাও করা হয় সোমবারের বদলে রবিবারই। সময় এগিয়ে আসায় সব সদস্য আসতে পারেননি, ছড়ানো হয় এমন গুঞ্জনও। 
প্রশ্ন রয়েছে যে দলত্যাগ বিরোধী আইন অনুযায়ী যে দুই-তৃতীয়াংশের একসঙ্গে তাকার কথা সেই সংখ্যা রয়েছে কিনা। সেক্ষেত্রে অন্তত ২০ সাংসদকে দরকার। 
সংশয় রয়েছে সুদীপ ব্যানার্জির কথাতেও। বিকেলে তিনি বলেছেন যে মমতা ব্যানার্জিকে উপদেষ্টা রেখে পৃথক গোষ্ঠী করার কথা তাঁকে বলেন বিক্ষুব্ধরা। তবে অধ্যক্ষকে পাঠানো চিঠিতে তিনি সই করেননি। তিনি বলেন, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এলে সই করব। এর কিছু পর, রাতে অধ্যক্ষের সঙ্গে দেখা করেন কাকলিরা। ছিলেন সুদীপ।

Comments :0

Login to leave a comment