BJP leader murder Bolpur

বোলপুরে বিজেপি নেতা নেতা খুনে গ্রেপ্তার আরও এক

জেলা

বোলপুরের বিজেপি বুথ সভাপতিকে খুনের ঘটনায় আরও একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঘটনায় মোট গ্রেপ্তারীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে তিন। পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে গুলি করে খুন করা হয়েছিল বিজেপি নেতাকে। ধৃত তিনজনের মধ্যে আদৌ কী শ্যুটার রয়েছে তা কিন্তু এখনও পুলিশ খোলসা করে নি। বীরভূমের পুলিশ সুপার বিদিত রাজ ভূন্দেশ জানিয়েছেন, ‘‘নিহত চন্দন ভল্লার খুনের তদন্ত আমরা চালাচ্ছি। তাতে আরও একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনায় আগে দীপঙ্কর রায় এবং আনারুল সেখকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। আমরা আরও একজনকে অ্যারেস্ট করেছি যার নাম আমিরুল সেখ। ওর বাড়ি বাঁকুড়া। তবে তাঁকে কুমারগঞ্জ থানা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জমি সংক্রান্ত বিবাদেই এই ঘটনা, এটাই প্রাথমিকভাবে উঠে এসেছে। আরও অনেকেই ঘটনায় জড়িয়ে থাকতে পারে। কেউ ছাড় পাবে না। প্রত্যেককে আমরা ধরব।’’

গত ২৭ সেপ্টেম্বর রাতে বোলপুরের মিল পাড়ায় চন্দন ভল্লাকে পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে গুলি করে খুন করে বাইকে করে চম্পট দিয়েছিল দুই দুষ্কৃতি। এই চন্দন ভল্লা বিজেপির ১১ নম্বর ওয়ার্ডের বুথ সভাপতি পদে ছিলেন। তাঁকে বাড়ি থেকে ডেকে মাথায় গুলি করে খুন করা হয়েছিল। ঘটনার পরদিন শেখ আনারুল ও দীপঙ্কর রায় নামে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। বোলপুরের আরতি সিনেমা তলা মোড়ে মোবাইলের দোকান আছে আনারুলের। ধৃতের কাছ থেকেই ঘটনার একদিন আগে মোবাইলের একটি সিম কিনেছিল দীপঙ্কর রায়। এই দীপঙ্কর রায় এলাকায় জমির কারবারি হিসাবে পরিচিত। এর আগেও তার নামে একাধিক জমি দখল, বেআইনি ভাবে জমির চরিত্র বদল, বেআইনি নির্মাণ, আদিবাসীদের জমি হরফের একাধিক অভিযোগ রয়েছে। আনারুলের দোকান থেকে কেনা নতুন একটি ছোট ফোনে নতুন সিম ভরা হয়েছিল। সেই ফোন থেকেই বিজেপি নেতা চন্দন ভল্লাকে ঘটনার দিন সন্ধ্যায় ফোন করে ডেকেছিল দীপঙ্কর রায়। ফোনের কল লিস্ট যাচাই করে পুলিশের হাতে উঠে এসেছে এই তথ্য এবং তার জেরেই দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে দাবি পুলিশের। প্রথমে ধৃত দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তৃতীয় জনের নাম উঠে আসে। ভিন জেলার বাসিন্দা আমিরুলের সঙ্গে বাকিদের নিয়মিত যোগাযোগ ছিল বলেই উঠে এসেছে পুলিশি তদন্তে। তবে এঁদের মধ্যে কেউ গুলি চালিয়েছিল কীনা তা এখনও স্পষ্ট করেনি পুলিশ। তবে খুনের নেপথ্যে যে জমি সংক্রান্ত বিবাদ রয়েছে, তা প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে বলে দাবি পুলিশে। খুন হওয়া বিজেপি নেতা বোলপুরের ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরে মুহুরীর কাজ করতেন। চলত জমি কেনাবেচার কারবারেও যুক্ত ছিলেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বোলপুরের সিয়ান এলাকায় আনুমানিক ৩ কোটি টাকার একটি জমিকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে বিবাদ চলছিল মৃত চন্দন ভল্লার সঙ্গে জমি কারবারীদের।

Comments :0

Login to leave a comment