নির্বাচন প্রক্রিয়ায় অনিয়ম এবং এসআইআর'র বিরুদ্ধে, প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগেরও দাবিতে শুক্রবার দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করা প্রায় ১,১০০ বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছে। সিপিআই(এম) সিপিআই(এম)'র সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবি, সহ বেশ কয়েকজন দলীয় কর্মীকে আটক করা হয়েছে। পাশাপাশি, আপ নেতা সৌরভ ভরদ্বাজ, অতিশি ও সঞ্জয় সিং-কেও আটক করে পুলিশ। আম আদমি পার্টি, আরজেডি, সিপিআই(এম) ও কংগ্রেস সহ বিভিন্ন বিরোধী দল, ছাত্র সংগঠন এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা এই বিক্ষোভে অংশগ্রহণ করেন। জননিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং যান চলাচল স্বাভাবিক রাখার স্বার্থে দিল্লি পুলিশ নয়াদিল্লি'র একধিক এলাকায় বিএনএসএস (BNSS)-এর ১৬৩ ধারার অধীনে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। পাশাপাশি বন্ধ করা হয়েছে দিল্লির ১১ টি মেট্রো স্টেশন।.
দিল্লি পুলিশ সূত্রে খবর বিক্ষোভ চলাকালীন এখনও অবধি প্রায় ১,১০০ জনকে আটক করা হয়েছিল। আটককৃতদের মধ্যে কয়েকজনকে ইতিমধ্যে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। বিক্ষোভের সময় কয়েকজন পুলিশ সদস্যও আহত হয়েছেন বলেও জানা যাচ্ছে ।
দিল্লি পুলিশের তরফে আটক করার পর সিপিআই(এম) নেত্রী বৃন্দা কারাত বলেন, দিল্লির প্রতিটি রাস্তা আজ যন্তর মন্তরে পরিণত হয়েছে।
সেইসঙ্গে, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফা এবং স্থায়ী কাজের দাবিতে দিল্লির রাজপথে উত্তাল মিছিল করল যুবরা। দিল্লি পুলিশের প্রশাসনিক বাধা অতিক্রম করে সারা দেশ থেকে আসা প্রায় ২,০০০ যুবকর্মী পুলিশের একাধিক ব্যারিকেড ভেঙে মিছিল নিয়ে এগিয়ে যান। শেষ পর্যন্ত মিছিল পৌঁছে যায় যন্তরমন্তরে।
মিছিলের নেতৃত্ব দেন ডিওয়াইএফআই সাধারণ সম্পাদক হিমগ্নরাজ ভট্টাচার্য, সভাপতি এ এ রহিম, এসএফআই সাধারণ সম্পাদক সৃজন ভট্টাচার্য এবং সভাপতি আদর্শ এম সাজি। এছাড়াও মিছিলে নেতৃত্ব দেন সহ নেতৃত্ব।
প্রায় দু’মাস আগে এই কর্মসূচির জন্য দিল্লি পুলিশের কাছে অনুমতি চেয়েছিল ডিওয়াইএফআই। নানা টালবাহানার পর দিল্লি পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, মিছিলের অনুমতি দেওয়া হবে না। এরপর ১ অক্টোবর সাংবাদিক সম্মেলন করে ডিওয়াইএফআই'র পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়, অনুমতি না দেওয়া হলেও কর্মসূচি থেকে তারা পিছিয়ে যাবে না।
সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২ অক্টোবর সকাল ১১টায় এআইকেএস-র কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে যুবদের মিছিল শুরু হয়। পথে পুলিশের একাধিক ব্যারিকেড অতিক্রম করে মিছিল যন্তরমন্তর পর্যন্ত পৌঁছে যায়। মিছিল আটকাতে দিল্লি পুলিশের তৎপরতা ছিল চোখে পড়ার মতো। পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হন হিমগ্নরাজ ভট্টাচার্য, বিকাশ ঝাঁ, এ এ রহিম, সৃজন ভট্টাচার্য, আদর্শ এম সাজি সহ একাধিক নেতৃত্ব এবং কর্মী-সমর্থক।
হিমগ্নরাজ ভট্টাচার্য বলেন, জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লিতে যুবদের এই আন্দোলন ঐতিহাসিক। দিল্লির পর সারা দেশেও এই দাবিতে আরও আন্দোলন সংগঠিত করা হবে বলে জানান তিনি।
পশ্চিমবঙ্গ থেকে ৩০০-র বেশি কর্মী এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন। উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটির সভাপতি অয়নাংশু সরকার, সহ-সভাপতি সপ্তর্ষি দেব এবং রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য সুনীল মাহাতো, চন্দন সোম, শ্রীজীব গোস্বামী সহ সোহম মুখার্জি।
Delhi 2 Oct protest
জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিতে সিপিআই(এম) সহ বিরোধীদের বিক্ষোভে উত্তাল দিল্লির রাজপথ, আটক হাজারেরও বেশি
ছবি- জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিতে দিল্লির বিক্ষোভে প্রবীণ সিপিআই(এম) নেত্রী বৃন্দা কারাত।
×
Comments :0