Birati Akash Kar

আক্রান্ত ছাত্রনেতাই জেলে! আকাশ করের মুক্তির দাবিতে মিছিল এসএফআই-র

রাজ্য জেলা

এসএফআই নেতা আকাশ কর বারাকপুর আদালত চত্বরে।

বিজেপি বাহিনীর আক্রমণকারীদের গ্রেপ্তার করে থানা থেকেই ছেড়ে দেওয়া হলো, সাজানো অভিযোগ হল আক্রান্তদের বিরুদ্ধেই। এসএফআই উত্তর ২৪ পরগনা জেলা সম্পাদক আকাশ করকে দুই দিনের জেল হেফাজত দেওয়া হল। তৃণমূল জামানার ঠিক একই পুনরাবৃত্তি দেখা যাচ্ছে এই সরকারের সময়ও। আকাশ করের গ্রেপ্তারির প্রতিবাদ করেছে এসএফআই কেন্দ্রীয় কমিটি। শনিবার বিরাটিতে হামলার তীব্র নিন্দা করেছে সিপিআই(এম) কেন্দ্রীয় কমিটিও। সোশাল মিডিয়ায় সিপিআই(এম) বলেছে পুলিশের অনুমতি থাকা সত্ত্বেও ছাত্রনেদের পথসভায় হামলা চালিয়েছে বিজেপি দুষ্কৃতী বাহিনী।
নিমতা থানার পুলিশ আকাশ করের বিরুদ্ধে ধারায় মামলা রুজু করে। এর মধ্যে দুটি ধারা রয়েছে জামিন অযোগ্য, একটি শ্লীলতাহানি এবং অপর একটি স্ল্যাশিং এর মামলা। এদিন বারাকপুর মহকুমা আদালতের থার্ড জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের আন্ডারে আকাশ করের মামলা ওঠে। বিকেলে জানানো হয়, বিচারপতি আকাশকে দুই দিনের জেল হেফাজতের আদেশ দিয়েছেন। পরবর্তী শুনানির দিন আগামী সোমবার। ওই দিন আকাশ করকে ফের মহকুমা আদালতে তোলা হবে। নিমতা থানার করা মামলা অনুযায়ী শনিবার ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে চারজন অভিযোগকারী গোপন জবানবন্দি দেয়।
আকাশ করের পক্ষে সওয়ালকারী আইনজীবীদের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, সমাবেশের পুলিশি অনুমতি নেওয়া ছিল। তা সত্ত্বেও অভিযোগ কারীরা বলেছে সমাবেশের নাকি অনুমতি ছিলনা। প্রশ্ন হচ্ছে তাদের কথা অনুযায়ী অনুমতি যদি নাও থাকে তাহলে সেখানে অভিযোগকারীরা যাবে কেন? অভিযোগকারীরা থানায় জানাতে পারতো। তারা আইনকে নিজেদের হাতে তুলে নিতে সমাবেশস্থলে গেল কোন আইনে? সমাবেশ কারীদের ওপরে হামলা চালানো এবং মারধর করা হয়েছে। সমাবেশে আসা মহিলারা আক্রান্ত এবং নিগৃহীত হয়েছেন। গুরুতর জখম হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছে সমাবেশকারীদেরই। তাহলে এই সমাবেশের অন্যতম বক্তা আকাশ কর। তাহলে সে কী ভাবে অভিযুক্ত হতে পারে?
বারাকপুর মহকুমা আদালতে উপস্থিত ছিলেন, সিপিআই(এম) জেলা সম্পাদক পলাশ দাশ সহ আয়েত্রী গুহ, সায়নদীপ মিত্র, ঝন্টু মজুমদার, রাজিব বিশ্বাস, সত্যসেবী কর, বাবুল কর, রুনু ব্যানার্জি প্রমূখ নেতৃবৃন্দ ছাড়াও এসএফআই রাজ্য সম্পাদক দেবাঞ্জন দে, জেলা সভাপতি  ডাঃ দীপ্তজিৎ দাস, বর্ণালী মুখার্জি, সোনালী মজুমদার সহ ছাত্র-যুব- মহিলা নেতৃবৃন্দ এবং আরও অনেক মানুষজন।
এসএফআই রাজ্য সম্পাদক দেবাঞ্জন দে বলেছে, “গোটা রাজ্যজুড়ে নির্দিষ্ট কায়দায় আরএসএস বিজেপি ছাত্রদের উপর আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে। আক্রমণ হলো এসএফআইয়ের উপর আবার জেল খাটতে হচ্ছে এসএফআই নেতাকেই। পুলিশের মধ্যে বিজেপি আরএসএস চতুর্দিকে এই তান্ডব চালাচ্ছে। আমরাই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি আকাশগড়ের মুক্তির দাবিতে ক্যাম্পাস থেকে রাজপথ লড়াই আরও বাড়বে। আগামী সোমবার এসএফআই রাজ্য কমিটির ডাকে শিয়ালদহ থেকে কলেজস্ট্রিট পর্যন্ত কেন্দ্রীয় মিছিল হবে।”
উল্লেখ্য, প্রকাশ্য সমাবেশ করার জন্য পুলিশের অনুমতি নিয়েই গান্ধী জয়ন্তীর দিনে বিরাটির বণিক মোড়ে সমাবেশের ডাক দিয়েছিল এসএফআই। অথচ শুক্রবারের সেই সমাবেশ বন্ধ করে দেওয়ার জন্য প্রকাশ্যেই দফায় দফায় হামলা চালিয়েছিল বিজেপি বাহিনী। চেয়ার টেবিল পোস্টার এমনকি গান্ধীজীর ফ্লেক্স ছেড়ে দিয়ে রক্তাক্ত করা হয়েছে এসএফআই নেতা এবং কর্মীদের। মারধর করা হয়েছে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের নেতৃবৃন্দকেও। আক্রান্ত হয়েছিলেন সমাবেশের বক্তারা। আক্রমণকারীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হলে, বিজেপি হামলাকারীদের মধ্যে ৭ জন আটক করে থানা থেকেই ছেড়ে দেওয়া হয়। অথচ, ওই সমাবেশের অন্যতম বক্তা এসএফআই উত্তর ২৪ পরগনা জেলা সম্পাদক আকাশ কর সহ অঙ্কিতা দত্ত চৌধুরী, অনুভব নিয়োগী তিনজনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। পুলিশের কারাসাজিতে তাদের বিরুদ্ধে সাজানো মামলা দায়ের হয়। এর মধ্যে অঙ্কিতা দত্ত চৌধুরীকে শুক্রবার রাতে থানা থেকে জামিন দেওয়া হয়। অনুভব নিয়োগীর বয়স ১৮ র কম থাকায় শনিবার তাকে বিধাননগর জুভেনাইল আদালতে তোলা হয়। আদালত থেকে তার জামিন মঞ্জুর হয়। ছাত্রনেতা আকাশ করকে শনিবার বারাকপুর মহকুমা আদালতে তোলা হয়। ৫ অক্টোবর পর্যন্ত অর্থাৎ দুই দিনের জেল হেফাজত হয়েছে আকাশের।

Comments :0

Login to leave a comment