বাছাই করে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদের ছক চলছে। প্রথম থেকেই ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধনের নামে এরাজ্যের নাগরিকদের একধরনের নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে ফেলেছে নির্বাচন কমিশন। আরএসএস-বিজেপি’র সাজানো প্রকল্পকে এসআইআর’র নামে নির্বাচন কমিশন রূপায়ণ করছে তৃণমূলের দলদাস প্রশাসনের অফিসারদের দিয়ে। সেই জন্যই বাছাই করা এলাকায় বাছাই করে সংখ্যালঘু এবং গরিব প্রান্তিক অংশের মানুষদের নাম বাদ দেওয়ার চক্রান্ত হচ্ছে। নির্বাচনের আগে এটাই ওদের রাজনীতি। ভোটার তালিকা থেকে প্রকৃত ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার চেষ্টা কোনোভাবেই মেনে নেবেন না এরাজ্যের মানুষ।
যে প্রশাসনিক কর্তারা বছরের পর বছর তৃণমূল সরকারের ধামাধরা, তৃণমূলের হয়ে ভোট লুট সংগঠিত করেছে, যারা এতদিন কয়লা, গোরু, বালি পাচার আর শিক্ষক নিয়োগের নামে দুর্নীতি চক্রের দালালি করেছে, তারাই এসআইআর’র নামে ভোটার তালিকা থেকে মানুষের নাম বাদ দিতে বিজেপি’র পরিকল্পনাকে কার্যকর করতে বড় ভূমিকা পালন করেছে। বিজেপি’র হাতের পুতুল নির্বাচন কমিশনের উদ্দেশ্যকে সফল করতে কাজ করেছে তৃণমূলের প্রশাসন । এরাজ্যে বিজেপি এবং তৃণমূলের বিরুদ্ধে মানুষের মনোভাব স্পষ্ট, তাঁরা চাইছেন বাংলা বাঁচুক, ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা পাক এরাজ্যে মানুষের জীবন-জীবিকা, স্বাভাবিক ছন্দে ফিরুক রাজ্যের জীবন প্রবাহ। বিজেপি বুঝতে পেরেছে, তৃণমূলও বুঝছে, ধর্মীয় উসকানি, উত্তেজনা সৃষ্টিতে মানুষের সাড়া না পেয়ে তারা প্রমাদ গুনেছে এবং বিভাজনের রাজনীতিতে নিজেদের মেরুকরণ টিকিয়ে রাখতে বেছে বেছে ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার চক্রান্ত করেছে। মানুষের মনোভাব দেখেই ওরা যৌথ পরিকল্পনা নিয়েছে এবং দাঙ্গা অশান্তি পাকানোর চেষ্টা করছে। কিন্তু মানুষ এই চক্রান্তও সফল হতে দেবে না। কোনও প্রকৃত ভোটারের নাম যাতে বাদ না যায় তার জন্য তীব্র প্রতিবাদ শুরু হয়েছে রাজ্যজুড়ে। নির্বাচন কমিশন যে ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছে সেখানে রাজ্যের ৬০ লক্ষের বেশি ভোটারের নাম ‘বিবেচনাধীন’ বলে দেখানো হয়েছে। এই তালিকা অনুযায়ী রাজ্যের লক্ষ লক্ষ বৈধ ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এই তালিকা থেকে স্পষ্ট বিশেষ করে সংখ্যালঘু অংশের বড় সংখ্যক ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার পরিকল্পনা হচ্ছে। আসলে এসআইআর প্রক্রিয়ার নামে বিজেপি'র রাজনৈতিক বয়ানকে কাজে রূপ দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে। বাস্তব সত্য হলো, রাজ্যের সামনের সারির প্রশাসনিক অফিসার, জেলা শাসক, এসডিও, বিডিও-রা এই কাজে কমিশনকে সাহায্য করেছেন। ভোটার তালিকা ত্রুটিমুক্ত হোক, ভুয়ো, মৃত ভোটার বাদ যাক। কিন্তু বাংলার মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেবার চক্রান্তকে রুখতেই হবে। ভোটাধিকার গণতন্ত্রের প্রাথমিক শর্ত। তাই ভোটাধিকার রক্ষায় সর্বাত্মক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। বামপন্থীদের দাবি খুব স্পষ্ট, প্রথমত, ২০০২-এর সঙ্গে যাঁদের ম্যাপিং হয়ে গিয়েছে, তাঁদের নাম অবিলম্বে বৈধ বলে ঘোষণা করতে হবে। তাঁদের কোনোভাবেই বিচারাধীন রাখা যাবে না। দ্বিতীয়ত, বাকি নাম কেন বিবেচনাধীন তা কারণ সহ এখনই প্রকাশ করতে হবে। গোপনে ভোটার তালিকা থেকে কারও নাম বাদ দেওয়া যাবে না।
ভোটাধিকার সাংবিধানিক অধিকার, সেই অধিকার রক্ষার লড়াইতে সবাইকে কোমর বেঁধে নামতে হবেই। এসআইআর’র নামে ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার চক্রান্ত রুখতে হবে। তৃণমূলের দুর্নীতি আর বিজেপি’র সাম্প্রদায়িক বিভাজনের রাজনীতি, এই দুই সাঁড়াশির আক্রমণ থেকে মানুষকে মুক্ত করতে বামপন্থীরাই একমাত্র বিকল্প। রুজি-রুটি ও মজুরির দাবিতে লড়াই আরও জোরদার করে বাম পথেই বাংলার পুনরুত্থান সম্ভব। ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার বিরুদ্ধে তাই রাস্তায় নামতে হবে, ঐক্যবদ্ধ গণপ্রতিরোধে শামিল হতেই হবে।
Voting rights
ভোটাধিকার রক্ষার লড়াই
×
Comments :0