SALIM

জ্ঞানেশ অপসারণের দাবিতে মিছিল বামপন্থী দলসমুহের, আরএসএস’এর এজেন্ট বলে কটাক্ষ সেলিমের

রাজ্য

নাথুরামের সমর্থকদের হাত থেকে রক্ষা করতে হবে গান্ধী-নেতাজীর ভারতকে। শুক্রবার এই স্লোগানকে সামনে রেখে কলকাতায় মিছিল করলো বামপন্থী দলসমূহ গুলো। শহীদ ভগৎ সিংয়ের জন্মদিন থেকে গান্ধী জয়ন্তী পর্যন্ত দেশ জুড়ে জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণ এবং সংবিধান রক্ষার দাবিকে সামনে রেখে দেশ জুড়ে প্রতিবাদ আন্দোলনের ডাক দিয়েছিল সিপিআই(এম)। পাশাপাশি ২-৮ অক্টোবর দেশ জুড়ে এই একই দাবিতে প্রতিবাদের ডাক দিয়েছে বিরোধী ঐক্য ইন্ডিয়া। সেই কর্মসূচির অংশ হিসাবে কলকাতায় মিছিল করলো বামপন্থী দলগুলোকে।
এদিন মিছিল শুরু হওয়ার আগে রানী রাসমণি অ্যাভিনিউয়ে হয় সংক্ষিপ্ত সভা। সেই সভায় বক্তব্য রাখেন বামপন্থী দলগুলোর নেতৃত্ব। সভাপতিত্ব করেন সিপিআই(এম) পলিটব্যুরো সদস্য শ্রীদীপ ভট্টাচার্য।
সভায় সিপিআই(এম) রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম বলেন, ‘আজ মহাত্মা গান্ধীর জন্মদিন। আমাদের স্বাধীনতা আন্দোলন এবং গণ আন্দোলনকে এক সূত্রে বেঁধে ১৯০ বছরের ঔপনিবেশিক শাসন শেষ করা সম্ভব হয়েছিল। আমাদের স্বাধীনতা আন্দোলনের ভিত্তি আমাদের সংবিধান। আজ সেই সংবিধান এবং মানুষের অধিকারকে শেষ করা হচ্ছে।’ 
সেলিম বলেন, ‘দেশের সার্বভৌমত্বকে শেষ করা হচ্ছে। মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের কাছে মাথা নত করা হচ্ছে। আমাদের স্বাধীন বিদেশ নীতিকে শেষ করে দিয়েছে মোদী সরকার। স্বাধীনতার ঐতিহ্যকে ম্লান করা হচ্ছে। যারা স্বাধীনতার কথা বলেছেন, ঐকের কথা বলেছেন, বিজ্ঞান মনস্কতার কথা বলেছেন আজ সেই ধারাকে শেষ করছে বিজেপি। আমাদের যুক্ত রাষ্ট্রীয় কাঠামোকে শেষ করছে। আগে বড়লোকদের ভোটাধিকার ছিল লড়াই করে আমরা ভোটাধিকার অর্জন করেছি। এরাজ্যে বামপন্থীরা ২১ বছর থেকে ১৮ বছর বয়সে ভোটাধিকার চালু করেছিল। আজ কমিশনকে ব্যবহার করে মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নিচ্ছে বিজেপি। মানুষের মধ্যে বিভাজন তৈরি করছে।’ 


তিনি বলেন, ‘অনেক ত্রুটি থাকা সত্ত্বেও পূর্বে আমাদের দেশের নির্বাচন কমিশন স্বাধীন ভাবে কাজ করেছিল। আজ জ্ঞানেশ কুমারকে বসিয়ে সাংবিধানিক অধিকারকে কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা হয়েছে। বিহারে বাংলায় এই কাজ করা হয়েছে। আমরা বলেছিলাম এসআইআর কোন সাংবিধানিক ব্যবস্থা নয়। নির্ভুল ভোটার তালিকা তৈরির দায়িত্ব রাজ্য নির্বাচন কমিশনের। কিন্তু এখানে অমিত শাহের নীতি অনুযায়ী মানুষের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। আরএসএসের এজেন্ট জ্ঞানেশ কুমার।’
সম্প্রতি জাতীয় নির্বাচন কমিশন সিইও দপ্তর গুলোকে নির্দেশ দিয়েছে যেখানে এসআইআর সম্পন্ন সেখানে যেই নাম গুলো বাদ গিয়েছে সেই গুলোকে বার্তি গুরুত্ব দিয়ে তালিকায় তোলার। কমিশনের এই নির্দেশকে কটাক্ষ করে সেলিম বলেন, ‘কমিশন এখন নিজের বমি নিজে চাটছে।’ 
সিপিআই(এম) রাজ্য সম্পাদক বলেন, ‘আমাদের রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্প গুলো কর্পোরেটদের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে। মানুষের সাধারণ অধিকার গুলো তুলে নেওয়া হচ্ছে। এটা ফ্যাসিস্ট শক্তির নিদর্শন। ওরা বিভাজন করছে। আমরা এই বিভাজনের বিরুদ্ধে লড়বো। যত নাম বাদ গিয়েছে তাদের ভোটাধিকার ফেরত দিতে হবে, তার আগে জ্ঞানেশ কুমারকে অপসারণ করতে হবে। সংঘ পরিবারের কথায় সে কাজ করেছে। অনেক বামপন্থীরা মানুষের অধিকারের দাবিতে শহীদ হয়েছে। আমরা নেতাজির মূর্তিতে শ্রদ্ধা জানাতে চেয়েছিলাম ওরা এখন বলছে যেতে দেবে না।  প্রতিদিন সংঘ পরিবারের নাম করে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় তাণ্ডব চালাচ্ছে। এই তাণ্ডব করে বামপন্থীদের লড়াইকে থামানো যাবে না।’
শুক্রবার মুম্বাইয়ে জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনের ডাক দিয়েছে। দিল্লিতে পথে নেমেছে এসএফআই, ডিওয়াইএফআই। গ্রেপ্তার হয়েছেন সৃজন ভট্টাচার্য, এএ রহিম। এই প্রসঙ্গে সেলিম বলেন, ‘যৌবন আজ বিদ্রোহ ঘোষণা করেছে। তাদের দমাতে চাইছে মোদী - শাহ। ব্রিটিশরা চেষ্টা করেও পারেনি। ১০০ বছর আগে পথের দাবি নিষিদ্ধ করেছিল ব্রিটিশরা। প্রতিবাদকে কখনও দমানো যায় না।’
এদিন নেতাজী মূর্তিতে মালা দিতে দেয়নি রাজ্য প্রশাসন। রানী রাসমণি থেকে মিছিল শুরু হয়ে শেষ হয় কলকাতা প্রেস ক্লাবের সমানে। সেখানে পুলিশ মিছিল আটকে দিলে সিপিআই(এম) রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম, শ্রীদীপ ভট্টাচার্য, সিপিআই(এমএল) লিবারেশনের নেতা কার্তিক পাল, বাসুদেব বোস আলাদা ভাবে গিয়ে শ্রদ্ধা জানান।

Comments :0

Login to leave a comment