Cooch Behar

মাথাভাঙায় সেচ দপ্তরের জমি দখল করে নার্সিংহোম ভাঙার দাবি

জেলা

জয়ন্ত সাহা: মাথাভাঙ্গা

২০১১ সালে রাজ্যে ক্ষমতায় আসতেই সেচ দপ্তরের জমি দখল করে তৃণমূলের এক রাজমিস্ত্রী পেল্লাই এক নার্সিংহোম গড়েছেন। যার মূল্য কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে! সামান্য এক রাজমিস্ত্রীর হেল্পার থেকে মাথাভাঙার উজির মিয়ার কোটি কোটি টাকার মালিক হয়ে ওঠার ঘটনা যেন রূপকথাকেও হার মানাবে! কি নেই এই মানুষটার! পেল্লাই বাড়ি গাড়ি আর আস্ত একটা নার্সিংহোম। যা খালি চোখে দেখা যায়। আর আছে নিজের ও পরিবারের সদস্যদের নামে কেনা প্রচুর চাষের জমি। কি করে গত ১৫ বছরে এত টাকার মালিক হলেন তিনি? এলাকাবাসী বলছেন,‘‘কেন উনি তো তৃণমূল করতেন! এখন অবশ্য তিনি তার ভাই ভাইপো সবাই বেপাত্তা!
মাথাভাঙা পৌরসভা এলাকার মহকুমা হাসপাতালের পশ্চিম দিকে গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার ‘কান্দুরার মোড়’  ইরিগেশনের কালো পীচের রাস্তার পাশে পেল্লাই নার্সিংহোম। রবিবার এলাকায় যেতেই এলাকার বাসিন্দা কান্দুরা মিয়া বললেন, সেচ দপ্তরের দশকাঠা জায়গা ২০১১ সালের দখল নেয় উজির মিয়া ও তার দলবল। প্রথম দিকে কিছুদিন তৃণমূল দলের অফিস হিসেবেই ছিল ওই জায়গা। তারপর শুরু হয় বিল্ডিং গড়ার কাজ।
স্থানীয় ব্যবসায়ী পীযূষ সরকার বলেন, এখানে তৃণমূলের অফিস সরিয়ে প্রথমে ওষুধের দোকান খোলা হয়। সময়টা ২০২১ সালের ১০ ডিসেম্বর। আমরা সবাই দেখেছি খুব ঘটা করে উদ্বোধন হয়েছিল। উদ্বোধন করেছিলেন তৃণমূলের জেলা চেয়ারপার্সন গিরীন্দ্রনাথ বর্মন। শহরের নামী ডাক্তারেরা বসতেন এখানে। এরপর শুরু হয় নার্সিংহোম গড়ার কাজ। ২০২৪ সালের বিধানসভা ভোটের কিছুদিন আগে নার্সিংহোমের উদ্বোধন হয়। তখনও উপস্থিত ছিলেন তৃণমূল পরিচালিত মাথাভাঙা পৌরসভার চেয়ারম্যান প্রবীর সরকার, কাউন্সিলার বিশ্বজিৎ রায়, কাকলী ঘোষেরা।
এলাকার বাসিন্দারা জানালেন, ‘‘ভোট এগিয়ে আসতেই উজির মিয়া বুঝতে পেরেছিলেন, তৃণমূলের হাওয়া ভালো নয়। ভোটের দিন কয়েক আগেই শিলিগুড়ির রাজু রায় নামে এক ব্যক্তিকে নার্সিংহোম লীজে দিয়ে দেন। তিনি নার্সিংহোমের হাল ধরে আইসিইউ খোলেন। তৃতীয়বার উদ্বোধন হয় নার্সিংহোমের! ভোটের ফল প্রকাশ হতেই লীজ নেওয়া রাজু রায় লীজ ছেড়ে ৮ মে পাকাপাকি ভাবে চলে যান। রবিবার নার্সিংহোমে গিয়ে দেখা গেল ম্যানেজার রূপম বর্মন নেই। রিসিপশনিস্ট সুব্রত বর্মন জানালেন, ‘‘এখন নার্সিংহোম চালাচ্ছেন মনোয়ার হোসেন। যিনি উজির মিয়ার নিকটাত্মীয়। আর নার্সিংহোমের ভেতরে যে ওষুধের দোকান আছে তার মালিক জেন্নাতুন বিবি। ইনিও উজির মিয়ার আত্মীয়।’’
যে এলালায় নার্সিংহোমটি অবস্থিত সেখানকার বাসিন্দারা এদিন অভিযোগ করেন, এলাকাটি ইরিগেশনের। রাস্তার বাঁ দিকে ইরিগেশনের ১৫০ ফুট জমি রয়েছে। সেই সরকারি জমিতে কি করে নার্সিংহোমের লাইসেন্স, ট্রেড লাইসেন্স দিল সংশ্লিষ্ট দপ্তর? এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ সরকারি জমি দখল করে এই নার্সিংহোম যাতে অনুমতি না পায় তার জন্য সংশ্লিষ্ট অফিসে লিখিত অভিযোগ দিলেও সব ধামা চাপা পড়ে গেছে।
এদিন এলাকার বাসিন্দারা সাংবাদিকদের কাছে মুখ খুলে বলেন, ‘‘শুধু সেচ দপ্তরের জমি দখল করে  নার্সিংহোম গড়া নয় ওই এলাকার যাত্রী প্রতীক্ষালয় এমন কি একটি মন্দিরের জমি দখল করে বিক্রি করে দিয়েছিলেন ওই ব্যক্তি। শুধু কান্দুরার মোড় এলাকায় সেচ দপ্তরের জমি হাত বদল করিয়ে কোটি কোটি টাকা কামিয়েছেন উজির মিয়া।’’ এলাকার মানুষের বক্তব্য,যখন জমি জবরদখল হয় উজির বাহিনীর নেতৃত্বে তখন পুলিশে অভিযোগ করার সাহস ছিল না কারুর। তবুও মন্দিরের জমি ও যাত্রী প্রতীক্ষালয় দখলের পর এলাকার বাসিন্দারা গোপনে পুলিশের আইসি’র সাথে যোগাযোগ করলে পুলিশ মন্দিরের জায়গা মন্দির কমিটিকে ফিরিয়ে দিয়েছিল। এবং যাত্রী প্রতীক্ষালয়ের জবর দখল করে বিক্রি করা ঘরটি উদ্ধার করে পুলিশের বসার জায়গা করেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ গত ১৫ বছরে উজির মিয়া এবং তার দলবল যাদের উচ্ছেদ করে জমি বিক্রি করেছে তাদের প্রত্যেকের জমি ব্যবসার জন্য ফিরিয়ে দিক। ভাঙা হোক বেআইনী নার্সিংহোম। অন্যায় ভাবে যেসব আধিকারিক নার্সিংহোমের লাইসেন্স এবং ট্রেড লাইসেন্স দিয়েছে তাদের বিরুদ্ধেও আইনী ব্যবস্থা নিক প্রশাসন।
সেচ দপ্তর সম্প্রতি ওই রাস্তায়(হাজরাহাট রোডে)তাদের জমির মাপ জোখ করে সীমানা চিহ্নিত করেছে। সকলার আশংকা একটাই ফের এলাকায় ফিরে উজির মিয়া ও তার দলবল ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করবে না তো? নতুন রাজ্য সরকারের প্রশাসন কি পদক্ষেপ নেয় সেদিকেই তাকিয়ে "কান্দুরার মোড়ে"র বাসিন্দারা।

Comments :0

Login to leave a comment