Disaster in Bhutan

ভুটানের বিপর্যয়, সংকোশে নদীতে মৃত মাছ ও কাঠের স্রোত, জারি সতর্কতা

জেলা

দীপশুভ্র সান্যাল: জলপাইগুড়ি

২০২৩ সালের সিকিমের হ্রদ বিপর্যয়ের স্মৃতি ফিরিয়ে দিল ভুটানের শিনতাফু হ্রদ বিপর্যয়ের ঘটনা। তবে এবার তিস্তা নয়, ভুটানের পাহাড় থেকে নেমে আসা জলপ্রবাহের প্রভাব পড়েছে সংকোশ নদীতে। শনিবার সকাল থেকে নদীতে ভেসে আসতে দেখা যায় প্রচুর কাঠের গুঁড়ি ও বড় আকারের মৃত মাছ। মাছ সংগ্রহ করতে নদীর পাড়ে ভিড় জমান স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ। মাছ ধরতে নদীতে নেমে পড়েছেন স্থানীয় মৎস্যজীবীরাও। আশঙ্কা বেশ কিছু মাছ ইতিমধ্যেই বাজারেও বিক্রি হয়ে গিয়েছে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে নদীতে ভেসে আসা মাছ সংগ্রহ ও খাওয়া থেকে বিরত থাকার আবেদন জানিয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং করা হয়। সংগৃহীত মাছ বালিতে পুঁতে ফেলার ব্যবস্থাও করা হয়েছে। মাছের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে পরীক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে সাধারণ মানুষকে ওই মাছ না কেনা এবং না খাওয়ার আবেদনও জানানো হয়েছে। 
২০২৩ সালের ৪ অক্টোবর উত্তর সিকিমে বিপর্যয়ে তিস্তা নদীতে ভয়াবহ বন্যা হয়েছিল। সেই বিপর্যয়ে সেনাবাহিনীর মুন্সিথাংয়ের অস্ত্র ও গোলাবারুদের ডিপো ভেসে যাওয়ার ঘটনা সামনে আসে। পরবর্তী সময়ে তিস্তার বিভিন্ন চর ও নদীসংলগ্ন এলাকায় মর্টার শেল-সহ বিস্ফোরক উদ্ধারের ঘটনা ঘটে। এমনকী জলপাইগুড়ির ক্রান্তি এলাকায় নদী থেকে কুড়িয়ে আনা মর্টার শেল বিস্ফোরণে এক শিশুর মৃত্যু ও কয়েকজন আহত হয়েছিলেন। ফলে দীর্ঘদিন নদীর চরগুলিতে সতর্কতা জারি ছিল। এবারের ভুটানের বিপর্যয়ের ক্ষেত্রেও সেই আশঙ্কা একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। তবে এখনও পর্যন্ত ভুটানের কোনও সেনা ছাউনি বা অস্ত্রভাণ্ডার ভেসে যাওয়ার নির্ভরযোগ্য সরকারি তথ্য সামনে আসেনি। 
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ২৯ অক্টোবর ভুটানে বিপর্যয়ে প্রায় ৬০-৭০ লক্ষ ঘনমিটার জল নেমে আসে। সংকোশে জলস্তর সাময়িকভাবে বাড়লেও শুক্রবার থেকেই পরিস্থিতির উন্নতি হয়। শনিবার নদীতে মৃত মাছ ভেসে আসার কারণ এখনও অজানা। শুধু মৃত মাছ নয়, নদীতে ভেসে আসা অচেনা ধাতব বস্তু, বাক্স কিংবা সন্দেহজনক সামগ্রীও স্পর্শ না করার বিষয়ে মানুষকে সতর্ক করা জরুরি। মাছের নমুনা ও নদীর জলের রাসায়নিক পরীক্ষা করে প্রকৃত কারণ প্রকাশ্যে আনার দাবি উঠছে। 

Comments :0

Login to leave a comment