চারটি বড় রাজ্যে বিধান পরিষদের ২৮টি আসনের নির্বাচনে বিজেপি’র লজ্জাজনক ফলাফল দলের শীর্ষ নেতাদের দুঃশ্চিন্তা কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। বিশেষ করে খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কেন্দ্র বারাণসীতে দু’টি কেন্দ্রে, প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথের লক্ষ্ণৌ কেন্দ্রে, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নীতিন গড়কড়ি, মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশের নির্বাচন ক্ষেত্র ও আরএসএস’র সদর দপ্তর নাগপুরে বিজেপি’র পরাজয়ে দলের অভ্যন্তরে বিমর্ষ অবস্থা। আগ্রায় ৫০ ঘণ্টা ধরে একাধিকবার গণনা-পুনর্গণনা করেও জেতা সম্ভব হয়নি। মুখ্যমন্ত্রী যোগীর গোরক্ষপুরে হারতে হারতে কোনোরকমে টেনেটুনে জিতে মুখ রক্ষা হয়েছে। মহারাষ্ট্রের পুনে, ঔরঙ্গাবাদেও গোহারা হেরেছে মোদীর দল। সভাপতি নীতিন নবীনের পাটনাতেও হেরেছে বিজেপি। ২৮ আসনের মধ্যে কোনোমতে ১৩ আসনে জিতেছে শাসক দল। স্বাভাবিকভাবেই বিরোধীরা উজ্জীবিত, উল্লসিত।
পশ্চিমবঙ্গে না থাকলেও কিছু রাজ্যে রাজ্যসভার মতো বিধান পরিষদ আছে। বিধানসভা নিম্নকক্ষ এবং বিধান পরিষদ উচ্চকক্ষ। বিধান পরিষদের সিংহভাগ সদস্য নির্বাচিত হন বিধায়ক, পৌর কাউন্সিলর এবং পঞ্চায়েতের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের ভোটে। বাকি সদস্যদের অর্ধেক রাজ্যপালের মনোনীত। অবশিষ্টরা প্রধানত শিক্ষক ও স্নাতকদের ভোটে নির্বাচিত হন। যে ২৮টি আসনে নির্বাচন হয়েছে সেগুলিতে ভোটার ছিলেন শিক্ষক ও স্নাতকরা। ফলত এমন একটা ধারণা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে যে দেশের শিক্ষিত সমাজ বিজেপি বিরোধী। তাছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে শিক্ষার প্রসার ও উন্নয়ন, শিক্ষান্তে চাকরির প্রশ্নে, ছাত্র-যুবদের ভবিষ্যতের প্রশ্নে চলমান আন্দোলন থেকেই পরিষ্কার হয়ে যাচ্ছে বর্তমান ও আগামীর শিক্ষিত সমাজ সরকারের কাজে ক্ষুব্ধ। তারা এই সরকারকে পছন্দ করছেন না। দেশজুড়ে ক্রমবর্ধমান জেন-জি’দের প্রতিবাদ-বিক্ষোভ আন্দোলন যে সরকার পরিবর্তনের মনোভাবের প্রকাশ তা ছোট পরিসরে বিধান পরিষদের নির্বাচনী ফলাফলে ইঙ্গিত মিলেছে। সত্য এবং বাস্তবতা এটাই যে ডাবল ইঞ্জিনের সরকারে মানুষের আস্থা ও ভরসা কমছে। মোদী জনপ্রিয়তা বা ভাবমূর্তি ফিকে হচ্ছে। ভয় দেখিয়ে, হুঙ্কার দিয়ে, দমনপীড়ন চালিয়ে, গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নিয়ে জোরজবরদস্তি ক্ষমতায় টিকে থাকার প্রয়াস সফল হবে না। তাতে মানুষের ক্ষোভ জেদে রূপান্তরিত হবে।
এই সত্য মোদীরা উপলব্ধি করলেও প্রকাশ্যে নিজেদের অপরাজেয় ভাবমূর্তি তুলে ধরতে ব্যস্ত। ভোট গণনার প্রথম দিকে প্রবণতা দেখে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী প্রবল আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে কংগ্রেসকে কটাক্ষ করে বলেছেন ব্যালটে ভোট হলো, কংগ্রেস ক’টা আসন পেয়েছে। দ্বিগুণ উৎসাহে ফড়নবিশের প্রতিক্রিয়া বিরাট শূন্য। পরে যখন বারাণসী, নাগপুরের মতো আরএসএস-বিজেপি’র ঘাঁটিতে পরাজয় হয় তখন সব নেতা-মন্ত্রীরা মুখে কুলুপ এঁটে দেন। তবে সাহস করে যোগী মন্ত্রীসভার সদস্য ওম প্রকাশ রাজভড় অপ্রিয় সত্য কথাটি প্রকাশ্যে বলে দিয়েছেন— এটা তো শিক্ষিতদের ভোট, আমজনতার নয়। বিজেপি যে শিক্ষিতদের ভোট পায় না বা শিক্ষিত সমাজ যে বিজেপি’কে সমর্থন করে না সেই মনের কথাটা তিনি গোপন করেননি।
কয়েক মাস পরে যে উত্তর প্রদেশে বিধানসভা নির্বাচন সেখানে ডাবল ইঞ্জিনের এমন হাল দেখে উদ্বিগ্ন দলের নেতারা। কে না জানে মোদী সরকারের ভবিষ্যৎ উত্তর প্রদেশের জয়-পরাজয়ের উপর অনেকটাই নির্ভর করছে।
MLC Election BJP
দুঃশ্চিন্তা গাঢ় হলো
×
Comments :0