নতুনপা
শারদ ১৪৩৩
গল্প : মিষ্টিমুখ
সায়ন সরকার
৩১ অক্টোবর ২০২৬ - ৪র্থ বর্ষ
রবীনবাবু রাস্তার মুখটায় এসেই দেখতে পেলেন কবিউলের গাড়ি এসে গিয়েছে ইতিমধ্যেই। তিনি এগিয়ে চললেন ঐদিকে।
এখন সকালবেলা। রবীনবাবুর হাতঘড়ি বলছে এখন কাটায়-কাটায় সাতটা। বাজার করতে যাচ্ছেন তিনি। হাতে একটা মাঝারি সাইজের থলি।
আগে, কাঠগোলার কাছে যে বাজারটা বসে, সেখানে গিয়েই বাজার করতেন তিনি। তবে, ঐ বাজারটা ছিল রবীনবাবুর বাড়ি থেকে একটু দূর। তাই মাস চারেক আগে থেকে যখন কবিউল গাড়ি নিয়ে আসতে শুরু করল তাঁর পাড়াতেই সবজি-টবজি নিয়ে, তিনিও ওখান থেকেই তাঁর সবজি বাজার করতে থাকলেন।
যাই হোক। এরমধ্যেই রবীনবাবু পৌঁছে গেছেন কবিউলের গাড়ির কাছে। অন্যান্য দিন তিনি ঐ গাড়িতে রাখা থাকা বাস্কেটগুলোর মধ্য থেকে একটা নিয়ে বাজার করা শুরু করে দেন আসা মাত্রই। আজ কিন্তু তিনি তা না করে, এসে দাঁড়ালেন কবিউলের সামনে। রবীনবাবু কে দেখেই কবিউল বলে উঠলো, "বাবু ভাল আছেন তো?"
গাড়ি নিয়ে প্রতি দিন এলেও পুজোর ক'দিন আসে নি কবিউল। শেষ এসছিল সে সেই চতুর্থীতে। পুজো পেরিয়ে আজ একাদশীতে এসছে সে ফের। তাই বেশ ক'দিন বাদে দেখা হচ্ছে তাঁদের দু'জনের। এই জিজ্ঞাসা তাই কবিউলের।
"ভাল আছি রে।" উত্তরে বললেন রবীনবাবু। বলতে বলতেই হাতের থলিটায় হাত ঢোকালেন তিনি। তারপর সেটা থেকে বের করলেন একটা মিষ্টির প্যাকেট। সেটা এবার কবিউলের দিকে এগিয়ে দিলেন তিনি। বললেন, "নে, এটা ধর।"
"মিষ্টি হঠাৎ বাবু?" শুধোয় কবিউল।
"পুজোর পর পরিচিতজনদের একটু মিষ্টিমুখ করাতে হয়। তুইও তো আমার পরিচিতজনই, না কি? ধর ধর প্যাকেটটা। আজ তাড়া আছে খুব। বাজারটা ঝটপট করে ফেলি।" কথাকটা বলেই কবিউলের হাতে মিষ্টির বাক্সটা ধরিয়ে কবিউলের সামনে থেকে সরে কয়েক পা এগিয়ে গিয়ে দাঁড়ালেন রবীনবাবু, যেখানে বাস্কেট করে করে রাখা থাকে নানান সবজি-ফল সেইখানটায়।
কিংকর্তব্যবিমূঢ় কবিউল মিষ্টির বাক্সখানা হাতে ধরে ঝাপসা চোখে তাকিয়েই থাকে রবীনবাবুর দিকে।
Comments :0