মাথাভাঙা মহকুমা হাসপাতালের চিকিৎসক থেকে স্বাস্থ্যকর্মীদের আন্দোলনের চাপেই রবিবার বদলির চিঠি পেয়েছেন থ্রেট কালচার ও দুর্নীতির মাস্টার মাইন্ড সুপার মাসুদ হাসান! তৃণমূল সাংসদ জগদীশচন্দ্র বর্মা বসুনীয়ার ঘনিষ্ট হাসপাতাল সুপার মাসুদ হাসান সোমবার মাথাভাঙা মহকুমা হাসপাতালে না আসায় চার্জ নিতে পারেন নি এসিএমওএইচ! সম্ভবত মঙ্গলবার তিনি কোচবিহারে সিএমওএইচের উপস্থিতিতে মাসুদ হাসানের থেকে দায়িত্ব নেবেন। থ্রেট কালচার, দুর্নীতি, অনিয়ম, স্বজনপোষন এমনকি সুপারের অনুপস্থিতিতে তাঁর স্ত্রীর ডাক্তারদের নির্দেশ দেওয়ার মত এক গুচ্ছ অভিযোগের প্রেক্ষিতে রবিবার বদলি করে দেওয়া হয় মাথাভাঙা মহকুমা হাসপাতালের সুপার মাসুদ হাসানকে! সোমবার তাঁর হাত থেকে আপাত সুপারের দায়িত্ব নেবেন এসিএমওএইচ ডাঃ সৈকত দাস।
উল্লেখ্য গত ৭ মার্চ হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীরা একযোগে সুপারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে শামিল হয়েছিলেন। মাসুদ হাসানকে থ্রেট কালচার চালাতে সাহায্য করতেন কনটাকচুয়াল কর্মী আলিবার হোসেন। তাঁকেও জেলা স্বাস্থ্য অধিকর্তার নির্দেশে কাজ থেকে ইতিমধ্যেই বরখাস্ত করেছে ঠিকাদার সংস্থা। গত শনিবার রাতে হাসপাতালের আবাসনের একটি ফ্ল্যাটে নিম্নমানের প্রচুর ওষুধ উদ্ধার হয়। আরেকটি আবাসনের ফ্ল্যাটে নিয়ম ভেঙে আলিবার হোসেনকে থাকার অনুমতি দিয়েছিল অভিযুক্ত সুপার। দুটি ফ্ল্যাটই পুলিশ সিল করে দিয়েছে। উদ্ধার হয়েছে প্রচুর নিম্নমানের ওষুধ এবং কিছু আপত্তিকর জিনিস। এই ঘটনার পর সুপার আলিবার হোসেনের বিরুদ্ধে মাথাভাঙা থানায় অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে থ্রেট কালচারের মাস্টার মাইন্ড মাসুদ হাসানের বিরুদ্ধে মুখ খুলে স্বাস্থ্যকর্মী আলমগীর হোসেনকে মহকুমা হাসপাতাল থেকে গত ১৪ মে নিশিগঞ্জ প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ডিটেলমেন্টে পাঠাতে কলকাঠি নেড়েছিলেন অভিযুক্ত মাসুদ হাসান।
সুপার মাসুদ হাসানকে বদলি করে দেওয়ায় খুশি মহকুমা হাসপাতালের চিকিৎসক থেকে স্বাস্থ্যকর্মী সকলেই। কিন্তু থ্রেট কালচারের মাস্টারমাইন্ড মাসুদ হাসানের এই বদলি রুটিন বদলি কিনা সেটা স্পষ্ট নয়। চিকিৎসকদের প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া "ওনাকে চেয়ার থেকে সরানোয় আমরা খুশি। কিন্তু থ্রেট কালচার কিংবা টেন্ডার দুর্নীতি, বিনা টেন্ডারে কাজ পাইয়ে দেওয়া, হাসপাতালের ভেতরের ক্যান্টিনের বরাত পছন্দের লোককে পাইয়ে দেওয়ার তদন্ত স্বাস্থ্য দপ্তর করুক সেটা আমরা চাই। মাসুদ হাসানকে যেন বদলি করে আড়াল করা না হয়। পাশাপাশি কনট্রাকটার নিযুক্ত কর্মী আলিবার হোসেনকে কেন এখনও গ্রেপ্তার করা হয় নি সে প্রশ্নও তোলেন হাসপাতালের কর্মীরা। আলিবার হোসেনের দাদা মৃনাল হোসেন কি করে গত ১৫ বছরে লক্ষ লক্ষ টাকার কাজের বরাত পেয়েছে তার পূর্নাঙ্গ তদন্তের দাবিও উঠেছে। মহকুমা হাসপাতালের থ্রেট কালচার সহ বিভিন্ন দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর কি ব্যবস্থা নেয় সেদিকেই তাকিয়ে হাসপাতালের চিকিৎসক থেকে স্বাস্থ্য কর্মীরা।
Mathabhanga Hospital
মাথাভাঙ্গা হাসপাতালের সুপার পদ থেকে অপসারিত ডা: মাসুদ হাসান
×
Comments :0