লাভের মুখ দেখা তো দূর অস্ত, হাড়ভাঙা খাটুনি দিয়ে ফলানো ফসলের উৎপাদন খরচটুকুও ঘরে না আসায় চরম ক্ষোভ আছড়ে পড়ল ধূপগুড়ি রেগুলেটেড মার্কেটে। আলু চাষে অনিশ্চয়তা ও লোকসানের আশঙ্কায় ধূপগুড়ি ব্লকের কৃষকরা এবার বিকল্প হিসেবে বিমস চাষে ঝুঁকেছিলেন। কিন্তু ফসল বাজারে আনতেই মাথায় আকাশ ভেঙে পড়েছে তাঁদের। বৃহস্পতিবার বাজারে ভিনরাজ্যের পাইকারের দেখা না মেলায় এবং দর তলানিতে ঠেকায় প্রতিবাদে রাস্তায় ফসল ঢেলে বিক্ষোভ দেখালেন কৃষকরা।
কৃষকদের অভিযোগ, বাজারে বিমসের দর এক ধাক্কায় কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ১০ টাকা কেজি। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পাইকার না থাকায় দর আরও পড়ে যাচ্ছে। অথচ অগ্নিমূল্যের বাজারে সার, বীজ এবং শ্রমিকের চড়া মজুরি দিয়ে এই সবজি ফলাতে যা খরচ হয়েছে, বর্তমান দরে তার কানাকড়িও ঘরে ফিরবে না। ক্ষোভে কৃষকরা বিমস বাড়ি ফিরিয়ে না নিয়ে গিয়ে রাস্তার ওপরই ফেলে দেন। অনেক প্রান্তিক চাষি মাত্র ৩০-৩৫ টাকা বস্তা দরে সেই সবজি পশুপালকদের কাছে নামমাত্র মূল্যে বিক্রি করতে বাধ্য হন।
সারা ভারত কৃষক সভার দাবি, সঠিক বিপণন, সংরক্ষণ ও রপ্তানি ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ার কারণেই এই চরম দরপতন। কৃষক সভার জেলা সম্পাদক প্রাণ গোপাল ভাওয়াল অভিযোগ করেন ধূপগুড়ি রেগুলেটেড মার্কেটের অব্যবস্থার কারণে বাইরের ব্যবসায়ীরা আসা কমিয়ে দিয়েছেন। তিনি আরও বলেন অবিলম্বে ধূপগুড়িতে কোল্ড স্টোর স্থাপন করতে হবে।
আন্দোলনকারী কৃষকরা রাজ্য সরকার ও কৃষি বিপণন দপ্তরের উদাসীনতার বিরুদ্ধে স্লোগান দেন। কৃষক সভার পক্ষ থেকে সাফ জানানো হয়েছে, প্রশাসন যদি অবিলম্বে হস্তক্ষেপ করে ভিনরাজ্যের পাইকারদের আনার ব্যবস্থা না করে এবং ফসলের লাভজনক দাম নিশ্চিত না করে, তবে আগামীতে উত্তরবঙ্গ জুড়ে বৃহত্তর আন্দোলনের পথ বেছে নেওয়া হবে। মাথার ঘাম পায়ে ফেলে ফলানো ফসল রাস্তায় গড়াগড়ি খাওয়ায় ধূপগুড়ির কৃষক মহলে এখন শুধুই হাহাকার ও হতাশা।
Farmers Protest
রাস্তায় ফসল ঢেলে ধূপগুড়িতে কৃষক বিক্ষোভ
×
Comments :0