জানা অজানা | প্রাকৃতিক সৌরপর্দা
তপন কুমার বৈরাগ্য
নতুনপাতা | ৪র্থ বর্ষ | ৩ জুলাই ২০২৬
আমাদের ভূপৃষ্ঠ থেকে ১৫--৩০কিমি উচ্চতায় আছে ওজোন
গ্যাসের স্তর।পৃথিবীর জীবমন্ডলের পক্ষে খুবই উপকারী এবং
খুবই গুরুত্বপূর্ণ।এটা বায়ুমন্ডলে ছাতা বা পর্দার মতো অবস্থান
করে।এই সৌর পর্দা সৌর বিকিরণের ক্ষতিকারক তিনটি অতিবেগুনি রশ্মিকে প্রতিহত করে।ওজোন স্তর যদি না থাকতো
জীবদেহে এবং আমাদের দেহে নানা বিপরীত প্রতিক্রিয়া দেখা যেতো।অতি বেগুনি রশ্মির দ্বারা আমাদের ত্বকে ম্যালিগন্যান্ট এবং নন-ম্যালিগন্যান্ট ক্যান্সার সৃষ্টি হয়।সৌর পর্দা নষ্ট হয়ে গেলে বিশ্বউষ্ণায়ন ঘটে।অ্যাসিড বৃষ্টি ঘটে।ধোঁয়াশা সৃষ্টির প্রবণতা বাড়ে।দিনের পর দিন প্রাকৃতিক বিপর্যয় বৃদ্ধি পায় ।ওজোন ক্ষয়ের ফলে চোখে ছানি পড়ে।মানুষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। উভচর প্রাণীর সংখ্যা হ্রাস পায়।সালোকসংশ্লেষ হ্রাস পায়।জলজ
প্রাণীর সংখ্যা হ্রাস পায়।জীবজন্তুর প্রজনন ক্ষমতা হ্রাস পায়।
খাদ্য উৎপাদন ব্যাহত হয়।পৃথিবীতে বাস্তুতন্ত্রের ব্যাঘাত ঘটে।
পৃথিবীর উত্তাপের সমতা নষ্ট হয়।বাষ্পীভবনের হার বৃদ্ধি পায়।
ওজোন স্তর বিনাশের মূল কারণ পৃথিবীর এই মানুষ।আমরা
যে হিমায়ক পদার্থরূপে রেফ্রিজারেটর,এয়ার কন্ডিশনার ব্যবহার
করি তাতে প্রচুর পরিমাণে ক্লোরোফ্লুরো কার্বন উৎপন্ন হয় যা
ওজোনস্তর ধ্বংসের প্রধান কারণ।এছাড়া কীটনাশক,প্লাস্টিক,
বিমানের প্রপেলার ,কম্পিউটার শিল্প থেকেও ক্লোরোফ্লুরো কার্বন
উৎপন্ন হয়।বিভিন্ন কারখানা,তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র,জেট বিমান,পারমাণবিক বিস্ফোরণের ফলে নাইট্রোজেন ডাই অক্সাইড,
নাইট্রিক অক্সাইড,নাইট্রোজেন অক্সাইড,নাইট্রাস অক্সাইড সরাসরি ওজোনের বিনাশ ঘটায়।
ওজোন স্তর সংরক্ষণে ১৯৮৭খ্রিস্টাব্দের ১৬সেপ্টেম্বর কানাডার
মন্ট্রিলে মন্ট্রিল প্রোটোকল সাক্ষরিত হয় ।এতে বলা হয় ওজোন
ধ্বংসকারী গ্যাসগুলির উৎস সন্ধান করে সেগুলোর ব্যবহার কমিয়ে আনতে হবে।বর্তমানে ক্লোরোফ্লুরো কার্বনের ব্যবহার
মাথাপিছু সাড়ে বারো কেজি থেকে কমিয়ে ০.৩কেজি করতে
হবে।যার ফলশ্রুতি সারা পৃথিবীতে ক্লোরোফ্লুরো কার্বন এবং
হ্যালোন যৌগের উৎপাদন বন্ধ হয়েছে।কার্বন টেট্রাক্লোরাইড
এবং ট্রাইক্লোরোইথেনের উৎপাদন ধীরে ধীরে বন্ধ করতে হবে।
সুকান্ত ভট্টাচার্যের ভাষায় বলতে গেলে--তবু যতক্ষণ দেহে আছে প্রাণ,প্রাণপণে পৃথিবীর সরাবো জঞ্জাল,এ বিশ্বকে এশিশুর বাসযোগ্য করে যাবো আমি,নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার।
পৃথিবীকে রক্ষা করার দায়িত্ব আজ আমাদের সকলের।৫ই জুন
বিশ্ব পরিবেশ দিবস এবং ১৬ই সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক ওজোনস্তর
সুরক্ষাদিবস কথায় ও কাজে পালন করে দেখিয়ে দেবার সময় এসেছে।
Comments :0