JOURNEY — GOMUKHA — AVIK CHATARJEE — MUKTADHARA — 4th YEAR — 4 JULY 2026

ভ্রমণ — স্মৃতির মণিকোঠায় গোমুখ — অভীক চ্যাটার্জি — মুক্তধারা — ৪র্থ বর্ষ — ৪ জুলাই ২০২৬

নতুনপাতা/মুক্তধারা

JOURNEY  GOMUKHA  AVIK CHATARJEE  MUKTADHARA  4th YEAR  4 JULY 2026

ভ্রমণস্মৃতির মণিকোঠায় গোমুখ

          অভীক চ্যাটার্জী 

মুক্তধারা৪র্থ বর্ষ —  ৪ জুলাই ২০২৬

ঘুম যখন ভাঙলো, সকালের নরম রোদ লুটিয়ে পড়েছে আমার বিছানায়। পাহাড়ি পাখির ডাক, ঠান্ডা হাওয়ায় মিশে থাকা দেওদার আর পাইন বনের গন্ধ হিমালয়ের এই ছোট জনপদকে করে তোলে আরও নৈসর্গিক। ভাগীরথীর অবিরাম ছুটে চলা গর্জন যেন নৈঃশব্দকে ভেঙে দেয়, ঠিক যে ভাবে জলের বেগবান ধারা পাথরের আঘাতে ভেঙে যায় লক্ষ কোটি ভাগে। সবুজের কম্বলের আলতো ওমে আর পাইন বনের গন্ধে সকাল হয় আমার।

আজ আমাদের কোথাও যাবার তাড়া নেই। আমরা মূলত ঘুরে দেখব এই ছোট্ট জনপদ। ঘোরার আগেভাগে একটু শহর পরিচয় হয়ে যাক? উত্তরকাশী ছোট্ট হলেও এটি উত্তরকাশি জেলার জেলাসদর। উত্তরাখণ্ডের গাড়োয়াল হিমালয়ের কোলে অবস্থিত একটি ছোট কিন্তু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জেলা শহর। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১,১৫৮ মিটার (৩,৭৯৯ ফুট) উচ্চতায় অবস্থিত এই শহরটি ভাগীরথীর তীরে গড়ে উঠেছে। উত্তরকাশী নামের অর্থই হলো "উত্তরের কাশী"। শহরের ধর্মীয় গুরুত্বের অন্যতম কারণ হল প্রাচীন বিশ্বনাথ মন্দির, যাকে বারাণসীর বিশ্বনাথ মন্দিরের সঙ্গে আধ্যাত্মিকভাবে তুলনা করা হয়।

তবে উত্তরকাশী শুধু তীর্থস্থান নয়, এটি ভারতের অন্যতম অ্যাডভেঞ্চার ও মাউন্টেনিয়ারিং হাব। এখানেই অবস্থিত Nehru Institute of Mountaineering (NIM), যেখানে দেশের বহু বিখ্যাত পর্বতারোহী ও উদ্ধারকারী দল প্রশিক্ষণ নিয়েছেন।

পরে জেনেছি, উত্তরকাশী থেকে বহু গাড়োয়াল হিমালয়ের ট্রেক শুরু হয়। যেমন গোমূখ, যেপথে আমরা চলেছি, এছাড়াও কেদারতাল, দায়রা বুগিয়াল, দোদিতাল, নচিকেতা তাল এবং অন্যান্য।

প্রথমেই আমরা চললাম বিশ্বনাথ মন্দির দর্শন করতে। এই মন্দিরশৈলীকে মূলতঃ বলা হয় নাগর স্থাপত্যকলা। তার সঙ্গে এটি একটি রেখা দেউল, অর্থাৎ উঁচু বাঁকা চূড়া আর তার উপর বসানো মঙ্গল কলশ। স্থানীয় গাড়োয়ালি প্রভাবের কারণে মন্দিরে পাথরের ব্যবহার এবং সরল, দৃঢ় নির্মাণশৈলীও লক্ষণীয়, যা হিমালয়ের ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলের উপযোগী।খুব বেশি ভিড় হয়না এখানে। তবে ভারী সুন্দর ভাবে সাজানো সে মন্দির। আমরা পুজো দিয়ে বেরিয়ে কিছু খেতে চললাম। পাহাড়ে আলুর পরোটা বড্ড ভালো লাগে আমার। আমরা আমাদের পাহাড়ের প্রথম সকাল আলুর পরোটার সাথেই শুরু করলাম।

এর পর আমরা চললাম নেহেরু ইনস্টিটিউট অফ মাউন্টেনিয়ারিং এর উদ্দেশ্যে। পাহাড়ের কোলে এই ইনস্টিটিউটটি বলে বলে গোল দিতে পারে দেশের যেকোনো প্রথম সারির কলেজকে। অসম্ভব সুন্দর সাজানো গোছানো নৈঃশব্দে ঘেরা ছিমছাম এক পাঠশালা, যে জন্ম দিয়েছে দেশ ও বিদেশের অগণিত পর্বতারোহীর। NIM এ একটি মিউজিয়াম রয়েছে যেখানে হয়েছে শেরপা তেনজিং নর্গে এর ব্যবহৃত সরঞ্জাম। অদ্ভুত শিহরণ জেগে ওঠে যেনো আমার মনে। হয়তো সে অবচেতনই আজও আমায় পাহাড় চড়ার রসদ জোগায়।

NIM বেশ কিছু পাহাড়ে চড়ার পাঠ্যক্রম পরিচালনা করে। বেসিক, এডভ্যান্স এবং ট্রাভেল এন্ড রেসকিউ। পরবর্তীতে আমি যাদের সাথে ট্রেক করেছি, তারা অনেকেই NIM থেকেই পাস করা। সে নন্দন সিং ধানু হোক বা দেবরাজ রাওয়াত। অদ্ভুত প্রশান্তি ঘেরা সেই প্রতিষ্ঠান থেকে যখন বেরিয়ে এলাম আমরা, তখন বেলা অনেকটাই গড়িয়েছে। পেট চুঁইচুঁই করছে খিদেতে। আমরা ছোটখাটো একটা ধাবা মতন দেখে ডাল রুটি খেয়ে নিলাম। তারপর বেরোলাম বাসস্ট্যান্ডের দিকে। কাল সকালে আমরা যাব গঙ্গোত্রী।

Comments :0

Login to leave a comment