লাগাতার গরমের পর ফের স্বস্তির নিঃশ্বাস জলপাইগুড়িতে। সোমবার বিকাল থেকেই আকাশ ছিল কালো মেঘে ঢাকা। হঠাৎই নামে হালকা বৃষ্টি। আর এর ফলে গরমের হাত থেকে অনেকটাই নিস্তার পাওয়া গেছে বলে মনে করছেন সাধারণ মানুষ।
কিন্তু এই চিত্রই সব নয়। বর্ষার আগমনী বার্তার মধ্যেই উত্তরবঙ্গের সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলার প্রস্তুতি শুরু করল সেচ দপ্তর। সোমবার জলপাইগুড়ি সেচ ভবনে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হলো বিশেষ ফ্লাড কন্ট্রোল রুমের। বর্ষাকাল জুড়ে ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকবে এই বন্যা নিয়ন্ত্রণ কক্ষ। ভারত-ভুটান সীমান্তবর্তী নদীগুলির জলস্তর, উজানের বৃষ্টিপাত এবং সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতির উপর সর্বক্ষণ নজরদারি চালানো হবে এই কেন্দ্র থেকে।
সেচ দপ্তরের আধিকারিকরা জানিয়েছেন, ভুটানের সংশ্লিষ্ট দপ্তর, কেন্দ্রীয় বন্যা নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ, আবহাওয়া দপ্তর ও জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করবে এই কন্ট্রোল রুম। প্রয়োজনে দ্রুত সতর্কবার্তাও জারি করা হবে।
গত কয়েক বছরের অভিজ্ঞতা উত্তরবঙ্গবাসীর কাছে এখনও আতঙ্কের।
২০২৩ সালের অক্টোবরে সিকিমে লোনাক হ্রদ ভেঙে ভয়াবহ হড়পা বানে তিস্তা নদী ভয়ঙ্কর চেহারা নেয়। সিকিমের পাশাপাশি কালিম্পং, জলপাইগুড়ি ও কোচবিহারের বিস্তীর্ণ এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল। ভেসে গিয়েছিল সেতু, রাস্তা ও নানা পরিকাঠামো। এরপর ২০২৪ ও ২০২৫ সালেও অতিবৃষ্টি এবং উজানের জল বৃদ্ধির ফলে তিস্তা, জলঢাকা, তোর্সা, রায়ডাক ও কালজানি নদী সংলগ্ন বহু এলাকা প্লাবিত হয়। ক্ষতিগ্রস্ত হয় হাজার হাজার হেক্টর কৃষিজমি, গৃহহারা হন বহু মানুষ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে উত্তরবঙ্গে বৃষ্টিপাতের ধরন দ্রুত বদলাচ্ছে। দীর্ঘ সময় ধরে মাঝারি বৃষ্টির বদলে এখন স্বল্প সময়ে অতিভারী বৃষ্টির প্রবণতা বাড়ছে, যার ফলে পাহাড়ি নদীগুলিতে হঠাৎ জলস্ফীতি দেখা দিচ্ছে। অন্যদিকে সিকিম বিপর্যয়ের পর তিস্তার গতিপথ ও নদীগর্ভে পলি জমার চরিত্রও অনেকটা বদলে গিয়েছে, যা বন্যার ঝুঁকি আরও বাড়াচ্ছে।
চলতি গ্রীষ্মে যদিও উত্তরবঙ্গে তীব্র তাপপ্রবাহ দেখা যায়নি এখনও। আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী জুন মাসেই বর্ষা প্রবেশ করতে পারে। সেই কারণেই আগাম সতর্কতা হিসেবে এখন থেকেই প্রস্তুতি জোরদার করেছে সেচ দপ্তর।
Jalpaiguri Flood Control Room
হালকা বৃষ্টি জলপাইগুড়িতে, চালু বন্যা নিয়ন্ত্রণে বিশেষ কন্ট্রোল রুম
সোমবার বৃষ্টিতে ভিজল জলপাইগুড়ি।
×
Comments :0