মুক্তাঝরা
সুকান্ত মন্ডল
জানালার ধারে চুপটি করে
বসে আছি এই বেলা,
চোখের সামনে দেখছি বসে
মেঘ-মুক্তার খেলা।
আকাশের বুক চিরে নেমে আসে
মুক্তার ওই কণা,
সবুজ পাতার কোল ঘেঁষে চলে
তাদেরই আনাগোনা।
হঠাৎ এক ফোঁটা ঝোড়ো বাতাস
এসে লাগে যখন গায়,
সঙ্গী হারানো মুক্তাকণারা
মাটিতে লুটায়।
হৃদয়ের মাঝে যখন আমি
প্রদীপখানি জ্বেলে,
দূরের আকাশে চেয়ে দেখি
দু’টি চোখ মেলে—
মেঘের গগনে মিশে গেছে ওই
সাত রাঙা রামধনু,
অপরূপ তার রূপ যে ভারী—
ছড়ালো সে রেণু!
তুলি দিয়ে আঁকা ছোট্ট কনা
সাদা নীল লাল,
তারি যেনো বন্ধু সেজেছে
সুন্দর এই সকাল।
ধোঁয়াশায় ভরা শূন্যের বুকে
ভেসে চলে মেঘের পাল,
রূপের ছটায় মাতাল করেছে
এই শ্রাবণের সকাল।
বাতাসের দোলায় সেই মুক্তারা
ছুঁয়ে যায় যখন মোরে,
শীতল পরশ এসে কানে কানে বলে
আমি যে বন্ধু তোমারে।
হৃদয় মেলে দেখো চেয়ে তুমি
আমরা যে পর নই,
তোমারই মনের চেনা আঙিনায়
চুপিচুপি কথা কই।
দূরের ওই বাঁশগাছ যখন
মাথা দোলে হাওয়ার তালে,
বৃষ্টি-মুক্তারা নেমে আসে তখন
মেঘের আঁচল ঢালে।
তালপাতার বুকে আছড়ে পড়ে
তারা খুশিতে আত্মহারা,
টুপটাপ শব্দে কথা কয়ে যায় যেন
সেই মুক্তাধারা।
দিঘির পাড়ে চেয়ে দেখি যখন
অবাক দু'টি চোখে,
মাছগুলি সব মেতেছে আজ
ডাঙার মাটির বুকে।
নতুন কোনো ঠিকানাতে তারা
দল বেঁধে সব ধায়,
মুক্তা ছুঁয়ে লেজ নাড়িয়ে
শরীরখানি দোলায়।
ওরা তো বোঝে না অবুঝের মতো
সব সুখ যে সুখ নয়,
কিছু আনন্দের আড়ালে থাকে
প্রাণেরই পরাজয়!
Comments :0