PROBANDHYA / SOURAV DUTTA / “Blessed Hope”— 2026 / NATUNPATA / 1 JANUARY 2026 / 3rd YEAR

প্রবন্ধ | সৌরভ দত্ত | মুছে যাক গ্লানি, ঘুচে যাক জরা' | মুক্তধারা | ২০২৬ জানুয়ারি ১ | বর্ষ ৩

নতুনপাতা/মুক্তধারা

PROBANDHYA  SOURAV DUTTA  Blessed Hope 2026  NATUNPATA  1 JANUARY 2026  3rd YEAR

প্রবন্ধ 

মুক্তধারা 

মুছে যাক গ্লানি, ঘুচে যাক জরা' 

সৌরভ দত্ত

২০২৬ জানুয়ারি ১ | বর্ষ ৩
 

 

জীবনে যাপনে চেতনার আঙ্গিকে রবীন্দ্রনাথই অন্তিম সঞ্জীবনী। প্রতিবাদের হাতিয়ার। প্রান্তিক কাব্যগ্রন্থের ১৮ তম কবিতায় কবি লিখেছিলেন সামাজিক,রাষ্ট্রীক অবক্ষয়ের চিরন্তন খসড়া--"নাগিনীরা চারি দিকে ফেলিতেছে বিষাক্ত নিশ্বাস,
শান্তির ললিত বাণী শোনাইবে ব্যর্থ পরিহাস—
বিদায় নেবার আগে তাই ডাক দিয়ে যাই
দানবের সাথে যারা সংগ্রামের তরে প্রস্তুত হতেছে ঘরে ঘরে।" আজ বছর শেষের সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে রবীন্দ্রনাথের বেশকিছু পঙক্তি অস্থির কালবেলার আলোর দিশারী। মহাবিশ্বের রহস্যময় জীবন ও অস্তিত্বের সংঘাত এবং মহত্তম দার্শনিকতায় তিনি বলেছিলেন--"প্রথম দিনের সূর্য / প্রশ্ন করেছিল / সত্তার নূতন আবির্ভাবে— / কে তুমি? / মেলে নি উত্তর। / বৎসর বৎসর চলে গেল। / দিবসের শেষ সূর্য / শেষ প্রশ্ন উচ্চারিল / পশ্চিম-সাগরতীরে / নিস্তব্ধ সন্ধ্যায়— / কে তুমি? / পেল না উত্তর।" প্রথম ও শেষ সূর্য।এ কবিতাছত্র প্রতিক্ষণে বোধের অন্তরালে নবতর বোধিসত্ত্বের চিহ্নি বহন করে।একটা বছর ঘড়ির কাঁটার সাথে অদ্ভুত পরিক্রমায় রণক্লান্ত, বিধ্বস্ত। ভেঙে যাওয়া বিশ্বাস এর মিথ। ফ্যাসিবাদী উন্নাসিকতার জয়ল্লাস সবটাই ব্যাথাতুর।অভয়া, তামান্নারা পায়নি বিচার। বঙ্গবন্ধুর প্রাণের বাংলাদেশ জ্বলছে।জাতিগত, ধর্মীয় মৌলবাদী ফতোয়া।দীপু দাস এর দাউদাউ লাশ। স্বদেশে বাংলা ভাষার উপর আঘাত। কবিগুরুর--“আমার সোনার বাংলা,আমি তোমায় ভালোবাসি "--গানের উপর ফতোয়া। মন্দির-মসজিদের ঢক্কানিনাদে মানবতার বন্ধন চূর্ণ বিচূর্ণ। রবীন্দ্র-নজরুলের স্মৃতি বিজড়িত বাঙালির সংস্কৃতি ধূলিসাৎ ছায়ানট।হাদি হত্যার জবাব নেই। ভালো নেই এপাড় বাংলার মানুষজন।চাকরি লুটে এগিয়ে বাংলা।লক্ষ কন্ঠে ধর্মগ্রন্থ পাঠের হিড়িক। আবার কোথাও টাকার পাহাড় জমছে উপাসনালয় নির্মাণে। সন্ত্রাসীদের নির্লজ্জ পাহেলগাঁও হত্যাকাণ্ড তার পরিপ্রেক্ষিতে কাউন্টার অ্যাটাক অপরেশন সিন্দুর। যুদ্ধ-যুদ্ধ খেলায় মত্ত রাষ্ট্রযন্ত্র।ঋণে জর্জরিত দেশ।ব্যাঙ্ক,বীমা,রেল বেসরকারিকরণ। কর্পোরেট পুঁজির ছোঁয়ায় নিত্যপণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি।দিকে,দিকে ভণ্ড ধর্মগুরুদের উত্থান।শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সংস্কৃতির অন্তর্জলি  যাওয়া বাংলাকে বাঁচানোর জন্য জন সুরক্ষার তাগিদে সমবেত মানুষের বাঙলা বাঁচাও যাত্রা। তবুও একটুকরো আশার আলো মহিলাদলের ক্রিকেট বিশ্বকাপ জয়।একটা বছরকে ফ্ল্যাশব্যাকে দেখতে গিয়ে মনভার করা অনেক ঘটনা উঁকি দেয়। নতুন বছরের সূর্যালোক যেন নিষ্কলুষ হয়। দুই বাংলায় কুচক্রীদের অপশাসনের অবসান হোক। নতুন বছরের সূচনায় কবিগুরুর ভাষায় প্রার্থনা করি--“যতটুকু আলো আছে কাল নিবে যায় পাছে,/অন্ধকারে ঢেকে যায় গেহ–/আজ এসো নববর্ষদিনে/যতটুকু আছে তাই দেহ।

Comments :0

Login to leave a comment