২০১৯’র পুনরাবৃত্তি কি ঘটবে ভাটপাড়া এলাকায়? এই প্রশ্নই ওই এলাকার মানুষের মধ্যে ঘোরাফেরা করছে। ২০১৯ লোকসভা নির্বাচনের ভয়াবহ স্মৃতি মানুষ আজও ভুলতে পারেনি। সেই সময় তৃণমূল ও বিজেপি র মধ্যে ব্যাপক মারপিট পরবর্তীতে সাম্প্রদায়িক হানাহানির চেহারা নেয়। ঘটনায় বেশ কিছু নিরীহ মানুষের প্রাণ চলে যায়। প্রায় তিন মাস কাকিনাড়া ও জগদ্দল কার্যত অঘোষিত বন্ধের চেহারা নেয়। গরীব মানুষের ঘরবাড়ি, দোকান ভাঙচুর করে জ্বালিয়ে দেওয়া হয়। বহু মানুষ এলাকা ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হয়।
১৯শে’র স্মৃতি উসকে দিল রবিবার রাতের ঘটনা। তৃণমূল ও বিজেপি’র সংঘর্ষে রণক্ষেত্রের চেহারা নিল জগদ্দল। উভয় পক্ষের মধ্যে চলে যথেষ্ট ইটবৃষ্টি। জগদ্দল থানার সামনে এই ঘটনা ঘটে। বিজেপি নেতা অর্জুন সিং ও সুনীল সিং নিজে দাঁড়িয়ে থেকে এই মারপিট করে বলে অভিযোগ। অপরদিকে তৃণমূল নেতা সৌরভ সিং ও ভাটপাড়া পৌরসভার প্রাক্তন পৌর প্রশাসক গোপাল রাউতের দলবল মারপিট করেছে বলে অভিযোগ। এই ঘটনার পর রাতেই ভাটপাড়া বিধানসভার বিজেপি প্রার্থী পবন সিং’র বাড়ির সামনে তৃণমূলের লোকজন গুলি ও বোমা ছোড়ে বলে অভিযোগ। তৃণমূলের ছোড়া গুলিতে পবন সিং’র নিরাপত্তারক্ষী এক জওয়ান গুলিবিদ্ধ হয়। তাঁর পায়ে গুলি লাগে। তাঁকে প্রথমে জগদ্দল গোলঘর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে তাকে স্থানান্তরিত করে দেয়। বর্তমানে কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। রবিবার রাতে তল্লাশি চালিয়ে এই ঘটনায় পুলিশ তৃণমূলের পৌরপারিষদ সদস্য গোপাল রাউত সহ চার জনকে গ্রেপ্তার করে। ধৃতদের এদিন বারাকপুর আদালতে পেশ করা হয়। ধৃতদের বিরুদ্ধে ৩০৭ ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। বারাকপুর আদালতের বিচারক গোপাল রাউত সহ চার জনকে একদিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে। জগদ্দল এলাকায় আধাসেনা টহল দিচ্ছে। আতঙ্কে মানুষ ঘরবন্দী হয়ে গেছে।
ভোট গ্রহণ শুরু হবে বুধবার সকাল থেকে। এর মধ্যে অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। তৃণমূল ও বিজেপি জগদ্দল থানার সামনে মুখোমুখি মারপিট করে। ঘটনার সুত্রপাত জগদ্দল থানায় বিজেপি’র প্রার্থী ডঃ রাজেশ কুমার মুখ্যমন্ত্রীর নামে অভিযোগ দায়ের করতে গিয়েছিলেন। সেই সময় ভাটপাড়া পৌরসভার তৃণমূলের পৌরপারিষদ সদস্য গোপাল রাউত ও তৃণমূল নেতা সৌরভ সিং’র নেতৃত্বে তৃণমূলের লোকজন জগদ্দল থানার সামনে জড়ো হয়। জগদ্দলের বিজেপি প্রার্থী ডঃ রাজেশ কুমার থানা থেকে বেরিয়ে আসার পর গন্ডগোল শুরু হয়। উভয় পক্ষের মধ্যে ইটবৃষ্টি শুরু হয়। উভয় পক্ষের মধ্যে মারপিট লেগে যায়। জগদ্দল থানার পুলিশ কার্যত অসহায় হয়ে পড়ে। এরা থানার ভেতরে গিয়ে আশ্রয় নেয়। সেই সময় কোনো কেন্দ্রীয় বাহিনীর দেখা পাওয়া যায় নি। তৃণমূল ও বিজেপি দুই পক্ষই বেপরোয়াভাবে মারপিট করে। একসময় জগদ্দল থানার গেট ভেতর থেকে পুলিশ আটকে দেয়।
কাকিনাড়া ও জগদ্দল এককথায় দুষ্কৃতীদের মুক্তাঞ্চল। এখানে বোম মেসিন হাতে হাতে ঘোরে। কথায় কথায় গুলি বোম চলে। স্থানীয়দের অভিযোগ এখানে বোমা মেসিন উদ্ধার করার জন্য পুলিশ কোনো উদ্যোগ নেয় না। এখানকার দুষ্কৃতীরা কখনও তৃণমূল ও কখনও বিজেপি এই দুটো দলের ছত্রছায়ায় আশ্রয়ে থাকে। এদেরকে ধরার জন্য পুলিশ কোনো উদ্যোগ নেয় না। বারাকপুরের তৃণমূলের সাংসদ পার্থ ভৌমিক গুন্ডারাজ খতম করার কথা বলেছিলেন। বারাকপুর শিল্পাঞ্চলের দুষ্কৃতীরা এই শাসকদলের ছত্রছায়ায় কেউ কেউ নেতা হয়ে গেছে। এরাই তৃণমূল ও বিজেপি’র ভোট ম্যানেজার। অর্জুন সিং চারবার দলবদল করে এখন বিজেপি’র নেতা। একসময় এই অর্জুন সিং তৃণমূলের বিধায়ক, পৌর প্রধান ছিলেন। মমতা ব্যানার্জি’র হয়ে বিধানসভা ভাঙচুর করে। গত ২০২১ এর পরেও অভিষেক ব্যানার্জির হাত থেকে তৃণমূলের পতাকা নিয়েছিলেন। আবার ২০২৪ সালে বিজেপিতে চলে যায়। এই দলবদলু নেতা এবারে নোয়াপাড়া বিধানসভায় বিজেপি’র প্রার্থী হয়েছে। আতঙ্কে ভুগছেন মানুষ।
Jagatdal
জগদ্দলে তৃণমূল-বিজেপি সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ জওয়ান, আতঙ্কে মানুষ
×
Comments :0