ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমেরিকার নাকের ডগা দিয়ে দু’লক্ষ টন অশোধিত তেল নিয়ে রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনের পাঠানো জাহাজটি নোঙর করেছে কিউবার বন্দরে। বিশ্ব জুড়ে আপন সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠায় মশগুল উদ্ধত ট্রাম্পের সাহস হয়নি সেই জাহাজের পথ আটকানোর। অথচ এই ট্রাম্পই কিউবার বিরুদ্ধে তেল অবরোধ ঘোষণা করে গত জানুয়ারি মাস থেকে কিউবায় যে কোনও ধরনের জ্বালানি সরবরাহ নিষিদ্ধ করেছে। অর্থাৎ কোনও দেশ বা সংস্থায় কিউবায় তেল পাঠালে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবে আমেরিকা। ট্রাম্পের ঘোষিত নিষেধাজ্ঞার ফলে গত তিন মাসের মধ্যে তেল নিয়ে কোনও দেশের জাহাজ কিউবার বন্দরে ভেড়ার দুঃসাহস দেখায়নি। ফলে কিউবা কার্যত জ্বালানি শূন্য হয়ে পড়ে। কিউবাবকে তাদের চাহিদার অর্ধেকর বেশি জ্বালানি বাইরে থেকে আমদানি করতে হয়। মূলত ভেনেজুয়েলা এবং মেক্সিকো থেকে তেল আসত কিউবায়। জানুয়ারি মাসেই দস্যুর মতো ভেনেজুয়েলায় গভীর রাতে সামরিক অভিযান চালিয়ে নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মাদুরোকে সস্ত্রীক রাষ্ট্রপতি ভবন থেকে তুলে এনে মার্কিন কারাগানে বন্দি করেন ট্রাম্প। সমস্ত ধরনের আন্তর্জাতিক নিয়মকানুনকে ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে কেবলমাত্র ক্ষমতার জোরে দস্যুবৃত্তি করলেন ট্রাম্প। তারপর দখল নিলেন বিশ্বের বৃহত্তম তেল ভাণ্ডারের। স্বাভাবিকভাবেই ভেনেজুয়েলা থেকে কিউবায় তেল আসা বন্ধ হয়ে যায়। একইভাবে মেক্সিকোকে কঠোর শাস্তির হুমকি দিয়ে তেল পাঠানো বন্ধ করে ট্রাম্প। তেল, জ্বালানির অভাবে কার্যত ব্ল্যাক আউড শুরু হয় কিউবায়। রাস্তায় যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। বিদ্যুৎ উৎপাদন অর্ধেক কমে যায়। খাদ্যের ভয়াবহ সঙ্কট দেখা দেয়। চিকিৎসা ক্ষেত্রেও বিপর্যয়ের মুখোমুখি হয় কিউবা।
এমন এক মানবিক বিপর্যয়ের মুখে ট্রাম্পের হুমকি ও নিষেধাজ্ঞা তোয়াক্কা না করে ৬ লক্ষ টন তেল নিয়ে জাহাজ পাঠায় রাশিয়া। ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের টানাপোড়েনের মধ্যে রীতিমতো চাপে থাকা ট্রাম্প রুশ জাহাজকে আটকানোর সাহস দেখাতে পারেননি। নিদেনপক্ষে কড়া প্রতিক্রিয়া বা হুঙ্কার দেবার কথাও ভাবেননি। আসলে রুশ জাহাজকে আটকাতে গেলে রাশিয়ার সঙ্গে সরাসরি সঙ্ঘাতে জড়াতে হবে। ট্রাম্প নিজেকে যত শক্তিশালীই ভাবুন না কেন রাশিয়ার সঙ্গে সরাসরি সামরিক সঙ্ঘাতে তিনি যাবেন না। তাছাড়া ইরান যুদ্ধের মধ্যে দ্বিতীয় আর একটি ফ্রন্টে যুদ্ধে নামার দম আমেরিকার নেই। বিশেষ করে প্রতিদ্বন্দ্বী যদি হয় রাশিয়া আর রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার অর্থ মূল্যহীন। কারণ, রাশিয়া ইতিমধ্যেই সব ধরনের মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় রয়েছে।
এই অবস্থায় মুখ রক্ষার জন্য আমতা আমতা করে ট্রাম্প প্রশাসন বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছে মানবতার খাতিয়ে তারা রুশ তেলবাহী জাহাজকে ছাড় দিয়েছে। প্রসঙ্গত, ইরান যুদ্ধের জেরে যখন বিশ্বজুড়ে তেলের দাম হুহু করে বাড়ছে এবং সরবরাহ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে তখন আন্তর্জাতিক চাপের কাছে মাথা নত করে ট্রাম্প রুশ তেলের উপর এমনকি ইরানের তেলের উপর থেকেও নিষেধাজ্ঞা সামকিয়ভাবে প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয়েছেন। ফলে গত ছয়-সাত বছর ধরে যারা ইরানের তেল কিনতে পারছিল না তারা কেনার সুযোগ পেয়েছে। বিপুল বেড়েছে রুশ তেলের চাহিদা। ট্রাম্প ইরানে আটকে থাকায় ইউক্রেনে রুশ অভিযানের মাত্রা বেড়ে গেছে। আবার বারবার আবেদন ও হুমকি সত্ত্বেও কোনও মিত্র দেশ ট্রাম্পকে সাহায্য করতে এগিয়ে আসেনি। ট্রাম্প এখন সত্যিই একা, নিঃসঙ্গ।
Trump Iran War
একা কুম্ভ ট্রাম্প
×
Comments :0