West Bengal Weather

পুজোয় বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই রাজ্যে

রাজ্য

এবারের দুর্গাপুজোয় বৃষ্টি থাকবে না বলে জানালো আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর। হাওয়া অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, অক্টোবরের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকেই রাজ্যে বর্ষা বিদায় নিতে পারে। উত্তর ভারতের বেশিরভাগ অংশ থেকে বর্ষা বিদায় নিতে শুরু করেছে এবং আবহাওয়া দ্রুত বদলাচ্ছে। সকাল ও সন্ধ্যায় হালকা শীতের অনুভূতি বাড়তে শুরু করেছে, কিন্তু এরই মধ্যে, ভারতীয় আবহাওয়া বিভাগ ৮ এবং ১৪ অক্টোবর একাধিক রাজ্যে ভারী বৃষ্টি এবং প্রবল ঝড়ের সতর্কতা জারি করেছে। আবহাওয়া বিভাগের মতে, উত্তর প্রদেশ, বিহার, ঝাড়খণ্ড, দিল্লি, রাজস্থান, পাঞ্জাব, হিমাচল প্রদেশ, উত্তরাখণ্ড, জম্মু ও কাশ্মীর, ওড়িশা, পশ্চিমবঙ্গ, মধ্যপ্রদেশ, তামিলনাড়ু এবং কেরালায় বৃষ্টি ও বজ্রঝড়ের সম্ভাবনা রয়েছে। আবহাওয়া বিভাগের মতে, বৃষ্টির সময় কিছু এলাকায় ঝড়ের গতিবেগ ঘণ্টায় ৬৫ থেকে ৭০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। পাহাড়ি রাজ্যগুলিতে ভারী বৃষ্টির সাথে ভূমিধসেরও আশঙ্কা রয়েছে। পূর্ব ভারতের অনেক অংশে বজ্রপাত ও বজ্রবিদ্যুতের সম্ভাবনা রয়েছে। 
আবহাওয়ার এই পরিবর্তনের পেছনে বেশ কয়েকটি আবহাওয়া ব্যবস্থা সক্রিয় রয়েছে। কেরালার উপকূলের কাছে দক্ষিণ-পূর্ব আরব সাগরে একটি ঊর্ধ্ব বায়ু ঘূর্ণিঝড় সঞ্চালন বিরাজ করছে। দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর এবং সিকিম ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকাতেও একটি ঘূর্ণিঝড় সঞ্চালন সক্রিয় রয়েছে। এই ব্যবস্থাগুলোর প্রভাবে পূর্ব ও দক্ষিণ ভারতে বৃষ্টি এবং প্রবল বাতাস বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বেশ কয়েকটি রাজ্যে শিলাবৃষ্টিও হতে পারে। উত্তরপ্রদেশের মিরাট, গাজিয়াবাদ, গোরখপুর, আগ্রা, মথুরা, কানপুর, সিদ্ধার নগর, শ্রী বস্তি, সীতাপুর, বলরামপুর, সন্ত কবির নগর, মৌ, প্রয়াগরাজ, মহারাজগঞ্জ এবং কুশী নগরে রবিবার মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো বাতাস বইবে বলে জানিয়েছে ভারতীয় আবহাওয়া বিভাগ। রাজধানী দিল্লিতে বৃষ্টি সঙ্গে ঝোড়ো হাওয়া বইবে পারে। বিহারের বেশ কয়েকটি জেলায় ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করেছে আবহাওয়া বিভাগ। রবিবার পূর্ব ও পশ্চিম চম্পারণ, সিওয়ান, সারণ, গয়া, পাটনা, গোপালগঞ্জ, বৈশালী, সমস্তিপুর, দারভাঙ্গা, মধুবনী, আরারিয়া, কাটিহার, পূর্ণিয়া, কিষাণগঞ্জ, সুপাউল, সহর্ষা, বেগুসরাই এবং ভাগলপুরে বৃষ্টি ও বজ্রঝড়ের সতর্কতা জারি করা হয়েছে। সেই সঙ্গে ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে বাতাস বইতে পারে।
রবিবার রাঁচি, জামশেদপুর, চাতরা, দেওঘর, বোকারো, গুমলা, হাজারিবাগ, গোড্ডা, পশ্চিম সিংভূম এবং পালামু সহ ঝাড়খণ্ডের বেশ কয়েকটি জেলায় বৃষ্টি ও বজ্রঝড়ের সম্ভাবনা রয়েছে। কিছু কিছু জায়গায় বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। রবিবার রাঁচিতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ২৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াস থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে বর্ষা বিদায় নেওয়ার আগে রবিবার কয়েকটি এলাকায় হালকা বৃষ্টি হতে পারে। সোমবার থেকে বৃষ্টি কমতে পারে। উপকূলীয় জেলায় কোনও কোনও দিন বিক্ষিপ্ত হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে। উত্তর ও দক্ষিণ, দুই অংশেই বৃষ্টি স্বাভাবিকের চেয়ে কম হওয়ার সম্ভাবনা। দার্জিলিঙ, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার ও জলপাইগুড়িতে বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। রবিবার বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার ও কালিম্পংয়ে। আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে  ৮ থেকে ১৫ অক্টোবর দক্ষিণবঙ্গে মূলত শুষ্ক আবহাওয়া থাকবে।
আলিপুর আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস চলতি সপ্তাহে বৃষ্টির সম্ভবনা নেই উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গে। আবাহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী আপাতত ভারী বৃষ্টির সম্ভবনা নেই রাজ্যে। যদিও রবিবার সকাল থেকেই একাধিক জেলায় শুরু হয়েছে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি সঙ্গে বজ্রপাত। 
রবিবার সারাদিন আংশিক মেঘলা থাকবে কলকাতার আকাশ। বেলার দিকে হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই বলে আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে। বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির সম্ভাবনাও আরও কমবে আগামী সপ্তাহ থেকে। বাতাসে জলীয় বাষ্প বেশি থাকায় আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তি বাড়তে পারে। এদিন দুপুরে বৃষ্টি নামে কলকাতায়। মুহুর্মুহু বাজও পড়েছে। রবিবার কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৭.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের থেকে ১.৮ ডিগ্রি সেলসিসায় বেশি। সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩২.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের থেকে ০.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস কম।

Comments :0

Login to leave a comment