ভবানীপুরে মমতা ব্যানার্জির বিরুদ্ধে শুভেন্দু অধিকারীর মনোনয়ন পত্র জমা দেবার সময় দিল্লি থেকে উড়ে এসেছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী তথা নরেন্দ্র মোদীর ডান হাত অমিত শাহ। জানিয়েছেন পনেরো দিন রাজ্যে মাটি কামড়ে পড়ে থাকবেন। যেভাবেই হোক বিজেপি-কে জেতাতে হবে এবং বঙ্গে ডাবল ইঞ্জিনের সরকার গড়তে হবে। কেন ডাবল ইঞ্জিন দরকার? রাজ্যে শিল্পায়নের জন্যে? কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্যে? শূণ্য পদে লোক নিয়োগের জন্য? রাজ্যে যত অস্থায়ী কর্মী আছে (সিভিক পুলিশ, পার্শ্ব-অতিথি শিক্ষক সহ) তাদের স্থায়ী করার জন্য? শিক্ষা ব্যবস্থাকে আধুনিক পরিকাঠামোয় ঢেলে সাজানোর জন্য, সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে উন্নত করে সাধারণ মানুষকে বিনামূল্যে পরিষেবা দেবার জন্য? মোটেই না। যদি তেমন কোনও লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য বিজেপি’র থাকতো তাহলে ইতিমধ্যে যে সব রাজ্যে ডাবল ইঞ্জিনের সরকার তৈরি হয়েছে এবং অনেক বছর ধরে চলছে সেখানে এই সমস্যাগুলি থাকতো না। অনেক আগেই সমাধান হয়ে যেত। কিন্তু কিছুই হয়নি। পশ্চিমবঙ্গের মানুষ তৃণমূলের লুটেরা শাসনের ফলে যে সব সম্যায় জর্জরিত কমবেশি সব ডাবল ইঞ্জিনের রাজ্যের মানুষও সেই একই সমস্যায় জর্জরিত। উলটে গোদের উপর বিষফোঁড়ার মতো সেখানে পদে সংখ্যালঘু মুসলিম, দলিত, আদিবাসী এবং বিশেষ করে মহিলারা নির্যাতন, আক্রমণের শিক্ষার। মহিলাদের বিরুদ্ধে অপরাধে এরাজ্য থেকে কোনও ডাবল ইঞ্জিনের রাজ্য পিছিয়ে নেই। ধর্মীয় ও সাম্প্রদায়িক বিভাজনের আড়ালে চলছে ঘনিষ্ঠ বিত্তবান তোষণ। সর্বত্র হুহু করে বাড়ছে আয় ও সম্পদের বৈষম্য। মনুবাদী আদর্শকে ভিত্তি করে চলে হিন্দুত্বরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার অভিযান। কেন্দ্রে ও সব বিজেপি শাসিত রাজ্যে লক্ষ লক্ষ পদ বছরের পর বছর শূন্য পড়ে আছে। নিয়োগের কোনও প্রয়াস নেই। মানুষের রুজি বৃদ্ধির কোনও পরিকল্পনা নেই।
এহেন বিজেপি পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতা চাইছে তৃণমূলের দুঃশাসনের অবসান ঘটানোর জন্য। ভূতের মুখে রাম নামের মতো। আরএসএস’র এ টিম চাইছে বি-টিমকে সরাতে। যদি সত্যি সত্যি মোদীরা তৃণমূলের দুর্নীতির বিরুদ্ধে পদক্ষেপ চাইতো তাহলে এতদিনে তৃণমূল বেশিরভাগ নেতা-মন্ত্রীর ঠিকানা হতো জেল। কিন্তু কিছুই হয়নি। যারা নিজেদের শাসিত রাজ্যেই দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে দুর্নীতিকে মদত দেয় তারা তৃণমূলের দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা লোক হাসাচ্ছে। তাই তৃণমূলের বিকল্প আর যাই হোক বিজেপি নয়। তাছাড়া বিজেপি যাদের নিয়ে ক্ষমতা দখলের লড়াই করছে তাদের বেশিরভাগই একদা তৃণমূলী। তাই তৃণমূলের জায়গায় বিজেপি সরকার হলে আদতে সাইনবোর্ডটা বদলাবে, সরকার যেমন ছিল তেমনই থাকবে। যদি সত্যি সত্যি রাজ্যকে চুরি-দুর্নীতি-লুটতরাজ থেকে বাঁচাতে হয় তাহলে বাম বিকল্পই একমাত্র বিকল্প।
পশ্চিমবঙ্গ সহ পাঁচ রাজ্যে যখন ভোট হতে যাচ্ছে তখন গোটা দেশ ভয়াবহ জ্বালানি সঙ্কটে। বিশেষ করে রান্নার গ্যাসের জন্য দেশের প্রতিটি পরিবারের রাতের ঘুম ছুটে গেছে। কেউ জানে না এর সমাধান কবে কীভাবে হবে। একদিকে বিশ্ববাজারে তেলের দাম দ্বিগুণের কাছাকাছি বেড়ে গেছে অন্য দিকে তেল-গ্যাস আমদানি কঠিন হয়ে গেছে। ইতিমধ্যে বিমানের জ্বালানি, প্রাকৃতিক গ্যাস, বাণিজ্যিক এলপিজি দাম বাড়ানো হয়েছে। ভোট বিপর্যয়ের আশঙ্কায় গার্হস্থ এলপিজি, ডিজেল, পেট্রোলের দাম বাড়ানো হয়নি। ভোট মিটলেই জ্বালানির দাম অনেক বাড়বে। পরিবহণ ব্যয়, জিনিসের দাম বাড়বে অস্বাভাবিক হারে। এখন ভোটারদের খুশি রাখতে কিছুদিনের জন্য বহু ক্ষেত্রে কর বা শুল্ক ছাড় দেওয়া হয়েছে। ভোটের পর সেগুলি দ্বিগুণ হয়ে ফিরবে। অতএব ভোটটা দিতে হবে ভেবে চিন্তে।
editorial
ভোট পেরোলেই
×
Comments :0