Essential Commodities Act

গ্যাসের সঙ্কটে অত্যাবশ্যকীয় পণ্য আইন প্রয়োগ কেন্দ্রের

জাতীয়

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের জেরে প্রাকৃতিক গ্যাসের সরবরাহ বজায় রাখতে মঙ্গলবার ১৯৫৫ সালের অত্যাবশ্যকীয় পণ্য আইন প্রয়োগের সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্র।
এই আইন প্রয়োগের নির্দেশিকা অনুযায়ী বিশেষ কিছু ক্ষেত্রকে নির্দিষ্ট করা হয়েছে যেখানে প্রাকৃতিক গ্যাসের সরবরাহকে অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করা হবে। 
এই ক্ষেত্রগুলির মধ্যে রয়েছে গার্হস্থ্য রান্নার কাজে পাইপের মাধ্যমে প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ, পরিবহণের জন্য সিএনজি, এলপিজি উৎপাদন সহ পাইপলাইনেরই মাধ্যমে যেখানে গ্যাস সরবরাহ করা হয় এমন ক্ষেত্রও অগ্রাধিকার পাবে।
ভারতে প্রায় ৩৩ কোটি ২০ লক্ষ এলপিজি গ্যাসের উপভোক্তা রয়েছেন। সরকারের তরফে অত্যাবশ্যকীয় পণ্য আইন, ১৯৫৫ প্রয়োগের মাধ্যমে তাদের পরিষেবা বজায় রাখার চেষ্টা করা হবে। মুম্বাই, বেঙ্গালোর, চেন্নাইয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলিতে বাণিজ্যিক এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডারের ঘাটতির কারণে হোটেল ব্যবসায়ীরা সরব হয়েছেন। এর পর অত্যাবশ্যকীয় পণ্য আইনে গ্যাস সরবরাহের সিদ্ধান্ত জানানো হয়। 
যে সব পণ্যের সরবরাহ বিঘ্নিত হলে নাগরিকদের দৈনন্দিন জীবনে প্রভাব পড়তে পারে, সেই সব পণ্যের সরবরাহ বজায় রাখার জন্যই এই অত্যাবশ্যকীয় পণ্য আইন চালু হয়েছিল। 
বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম এলপিজি আমদানিকারী দেশ ভারত। গোটা দেশে গত বছর ৩ কোটি ৩১ লক্ষ মেট্রিক টনের বেশি এলপিজি ব্যবহার করা হয়। আমদানি করার মাধ্যমেই এলপিজির এই বিপুল চাহিদা মেটানো হয়। তার ৮০ শতাংশই হরমুজ প্রণালীর মধ্য দিয়ে ভারতে আমদানি করা হতো। ইরানের ওপর আমেরিকা এবং ইজরায়েলের আক্রমণের কারণে হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাণিজ্য এখন প্রায় বন্ধ। 
এদিকে মুম্বাই, বেঙ্গালুরু এবং চেন্নাই সহ দেশের প্রধান শহরগুলি বাণিজ্যিক এলপিজি সিলিন্ডার সরবরাহে ঘাটতির সম্মুখীন হচ্ছে। ফলে, ওই শহরগুলিতে বাণিজ্যিক এলপিজি সিলিন্ডার পেতে হিমশিম খেতে হচ্ছে হোটেল সহ খাবারের দোকানের মালিকদের।
অত্যাবশ্যকীয় পণ্য আইনের আওতায় কোনও পণ্যকে আনা হলে তার উৎপাদন এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রগুলিতে সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে সরকার। কালোবাজারি বন্ধেও ব্যবস্থা নিতে পারে। মজুত এবং ব্যবহারের ওপরও নিয়ন্ত্রণ চালু করতে পারে। যাতে মজুতদারি করে চাহিদা কৃত্রিমভাবে বাড়ানো না হয়।

Comments :0

Login to leave a comment