Leaps and Bounds

লিপ্স এন্ড বাউন্ডসের একাধিক তথ্য চাইলো ইডি

রাজ্য

লিপ্স এন্ড বাউন্ডস কোম্পানির সব ব্যাঙ্ক অ্যা কাউন্টের নথি চাইলো ইডি। প্রাথমিকে নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় নাম জড়িয়েছে অভিষেক ব্যানার্জির এই সংস্থার। গতকাল নিয়োগ দুর্নীতি কান্ডে অভিষেক ব্যানার্জিকে দীর্ঘ সময় জেরা করে ইডি। নিয়োগ দুর্নীতি কাণ্ডে একাধিক সংস্থার নাম সামনে এসেছে। একাধিক সংস্থার মাধ্যমে স্বাধীনতার পরবর্তীতে পশ্চিমবঙ্গের বুকে সব থেকে বড় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী নিয়োগ কেলেঙ্কারিতে টাকা পাচার হয়েছে। ধৃত পার্থ চ্যাটার্জি ও অর্পিতা মুখার্জির যৌথ সংস্থা ‘এপিএ ইউটিলিটি সার্ভিসেস’ থেকে কালীঘাটের কাকুর ‘এসডি কনসালটেন্সি প্রাইভেট লিমিটেড’ নামক সংস্থার নামও এসেছে চার্জশিটে।
‘লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস’ সামনে আসতেই নিয়োগ কাণ্ডে মানি লন্ডারিংয়ের তদন্ত একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ মোড় নিতে শুরু করেছে।
ইডি’র একটির সূত্রের দাবি কয়লা পাচার থেকে নিয়োগ কাণ্ড বারেবারে সামনে এসেছে এই সংস্থা। এছাড়াও জন্মলগ্ন থেকেই এই সংস্থার একাধিক লেনদেন নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে, খাতায় কলমে থাকলেও বাস্তবে অস্তিত্ব নেই এমন সব সংস্থাকে ‘পরিষেবা’, ‘পরামর্শ’ দেওয়ার নামে লিপস অ্যান্ড বাউন্ডসে ঢুকেছে কোটি কোটি টাকা যা আসলে আধুনিক তোলাবাজিরই নামান্তর!
আর সেই সূত্রেই সামনে এসেছে লিপস অ্যান্ড বাউন্ডসের জন্মের পরেই একটি সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেনের ঘটনা।
২০০৯ সালে ঘটেছিল ভাঙড় লাগোয়া বেদিক ভিলেজ কাণ্ড। মমতা ব্যানার্জি তখন রেলমন্ত্রী। বেদিক ভিলেজকাণ্ডে রাজারহাটের শিখরপুরে সামান্য ফুটবল খেলা থেকে বচসা এবং তার পরিণতিতে মাটি মাফিয়া গফফ্‌রের নেতৃত্বে গুলি, মৃত্যুর ঘটনায় রীতিমতো হইচই শুরু হয়েছিল রাজনৈতিক মহলে। 
সেই ঘটনায় জমি লুট, জমি মাফিয়া কারবার, বেদিক ভিলেজে অস্ত্র রাখা, হামলা চালানোসহ একাধিক অভিযোগে সে সময় এমনকি রাজকিশোর মোদীর বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় সংস্থা এনআইএ তদন্তের দাবি জানিয়েছিলেন মমতা। তখন কথায় কথায় সিবিআই, এনআইএ তদন্তের দাবি তুলতেন মমতা ব্যানার্জি। সেসময়তেই বেদিক ভিলেজ কাণ্ডে রাজকিশোর মোদীকে গ্রেপ্তার এবং তদন্তের দাবি জানিয়েছিলেন মমতা ব্যানার্জি। বামফ্রন্ট সরকার রাজকিশোর মোদীকে গ্রেপ্তার করে, তাঁর বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করা হয়, পরে জামিন পান।
কে এই রাজকিশোর মোদী? ২০০৬ সালের ১৫ ডিসেম্বর বেদিক ভিলেজের মালিক রাজকিশোর মোদী এই সংস্থার ডিরেক্টর হন। বেদিক ভিলেজকাণ্ডে অন্যতম ‘অভিযুক্ত’, বামফ্রন্ট সরকারের সময়তেই জেল খাটা এই রাজকিশোর মোদীর রিয়েল এস্টেট সংস্থা থেকেও ‘বিনিয়োগের’ নামে বেমালুম কমিশন হিসাবে ১ কোটি ১৫ লক্ষ টাকা চলে গিয়েছিল অভিষেক ব্যানার্জির পারিবারিক সংস্থা লিপস অ্যান্ড বাউন্ডসে। তখনও অভিষেক ব্যানার্জি ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস’-র বোর্ড অফ ডিরেক্টরসের অন্যতম সদস্য। খোদ কোম্পানি বিশেষজ্ঞদের আরও বিস্ময়, আরওসি-র তালিকা অনুযায়ী যে সংস্থা ২০১২ সালের এপ্রিল মাসে ইনকর্পোরেটেড হয়েছে সেই সংস্থাই ওই আর্থিক বছরেই সওয়া এক কোটি টাকা কমিশন পেয়ে গেল?

Comments :0

Login to leave a comment