2022 FOOTBALL FINAL

৩৬ বছর পর বিশ্বকাপ আর্জেন্টিনার, স্বপ্ন সফল মেসির

খেলা

FIFA QATAR 2022 WORLD CUP FOOTBALL

টাইব্রেকারে জিতল মেসির আর্জেন্টিনা। দু’টি মিস করে ফ্রান্স। ৩৬ বছর পর জয় আর্জেন্টিনার। ৩৬ বছর আগে মেক্সিকোয় দিয়াগো মারাদোনার নেতৃত্বে জিতেছিল নীল-সাদা জার্সি। শেষ পর্যন্ত মেসির হাতে উঠল বিশ্বকাপ।

আবার পেনাল্টিতে গোল করলেন কিলিয়ান এমবাপে। মেসির গোলে অতিরিক্ত সময়ে এগিয়ে গিয়েছিল আর্জেন্টিনা। কিন্তু হ্যাটট্রিক করে সমতা ফেরালেন এমবাপ্পেই।

তার আগে এমবাপেরই ঝটকায় ফ্রান্স সমতা ফেরালো। দ্বিতীয় গোল করলেন এমবাপে। ফলাফল ২-২। নির্ধারিত সময়ের দশ মিনিট আগে বদলে গেল ম্যাচের রঙ। পাঁচ মিনিটের একটি স্পেল, এবং সারা বিশ্বের ক্রীড়া সাংবাদিকদের নিজেদের কপি বদলাতে বাধ্য করল ফ্রান্স। বাধ্য করলেন বিশ্ব ফুটবলের ‘ওয়ান্ডার কিড’ কিলিয়ান এমবাপ্পে। 

প্রথমার্ধে ২-০ গোলে এগিয়ে ছিল আর্জেন্টিনা। দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকে আর্জেন্টাইনরা যেন ধরেই নিয়েছিলেন, ম্যাচ পকেটে। ৫০-৬০ মিনিটের মাথা থেকে ধীর গতিতে ম্যাচে ফিরতে শুরু করে ফ্রান্স। আস্তে আস্তে বাড়তে থাকে তাঁদের বল দখলের হারও। গোটা প্রথমার্ধ জুড়ে আর্জেন্টিনার বাঁ প্রান্তকে সচল রেখেছিলেন ডি’মারিয়া। তাঁর এবং মেসির যুগলবন্দীতেই গোলদুটি হয়। ৭০ মিনিটের ঘরে ডি’মারিয়াকে তুলে নেন আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি। হয়ত তিনি ভেবেছিলেন, ম্যাচ জয় সময়ের অপেক্ষা। তাই বৃদ্ধ ডি’মারিয়াকে বিশ্রামে পাঠানো যেতেই পারে। 

এই সিদ্ধান্ত যে কতটা ভুল ছিল, তা ফ্রান্সের ম্যাচে ফিরে আসা থেকেই প্রমাণিত। ডি‘মারিয়া উঠে যাওয়ায় আর্জেন্টিনার মাঝমাঠ গতিহীনতায় ভুগতে থাকে। মেসিও এদিন দ্বিতীয়ার্ধে অনেকটাই ম্রিয়মান ছিলেন। আর্জেন্টিনার গা ছাড়া মনোভাবকে কাজে লাগিয়ে ম্যাচে ফেরার কৌশল নেয় ফ্রান্স। ফরাসী কোচ দিদিয়েঁ দেঁশও গ্রিজম্যান এবং জিরুকে তুলে মাঝমাঠে আনেন রাবিও’কে। তারফলে হঠাৎ গতি বেড়ে যায় ফ্রান্সের খেলার। তারফলেই ৭৯ মিনিটের মাথায় পেনাল্টি পায় ফ্রান্স। গোল করে দলকে সমতার কাছে পৌঁছে দেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। 

এর ঠিক ১ মিনিট পরেই ফের একবার এমবাপ্পে ম্যাজিক। দ্রুত গতির ফরাসী কাউন্টার অ্যাটাক ছিটকে দেয় আর্জেন্টিনার রক্ষণকে। বক্সের মধ্যে অরক্ষিত অবস্থায় বল পান এমবাপ্পে। গোলপোস্টের ডান দিকে শট মেরে দলকে সমতায় ফেরান তিনি। 

দ্বিতীয়ার্ধের সংযুক্ত সময়ের ৪ মিনিটে মেসি’র একটি চকিতে নেওয়া শট কোনও রকমে প্রতিহত করেন ফরাসী গোলরক্ষক হুগো লরিস। তারফলে ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। বর্তমানে অতিরিক্ত সময়ের খেলা চলছে। ১০১ মিনিটে মাথায় খেলার স্কোর ২-২। 

প্রথমার্ধের খেলার নিরিখে ফ্রান্সের থেকে কয়েক যোজন এগিয়ে ছিল আর্জেন্টিনা। এদিন শুরু থেকে মাঠে ছিলেন ডি’মারিয়া। তাঁর এবং মেসির যুগলবন্দী ফ্রান্সের রক্ষণভাগে কার্যত ত্রাসের সৃষ্টি করে। চিরাচরিত লাতিন ঝলকে মাঠ মাতান আর্জেন্টাইনরা। ২-৩টে পাসে ফরাসি রক্ষণভাগের ঠাসবুনোট আলগা করে ফেলেন মেসিরা। 

এরইমাঝে ২১ মিনিটে পেনাল্টি পায় আর্জেন্টিনা। ফরাসী বক্সে ডি’মারিয়াকে ফাউল করা হয়। এবং গোল করে ২৩ মিনিটের মাথায় দলকে এগিয়ে দিলেন সেই মেসি। সেই সময় মনে করা হয়,  রূপকথা লেখার দিকে আরও একধাপ এগিয়ে গেল আর্জেন্টিনা। প্লেসমেন্টের জোরে ফরাসী গোলরক্ষক হুগো লরিসকে বোকা বানিয়ে বল জালে ঠেলেন মেসি। এই নিয়ে চলতি বিশ্বকাপে ৬ গোল করে ফেললেন মেসি। যদিও  জোড়া গোল করে মেসিকে ছাপিয়ে গিয়েছেন এমবাপ্পে। ফরাসী স্ট্রাইকারের গোল সংখ্যা পৌঁছেছে ৭-এ। 

৩৫ মিনিটে আর্জেন্টিনার  মাঝমাঠ থেকে আক্রমণ শুরু হয়। নিজের মার্কারকে এড়িয়ে মেসি ফরোয়ার্ড থ্রু বাড়ান ম্যাক অ্যালিস্টারকে লক্ষ করে। গোলের সামনে থেকে ঠান্ডা মাথায় অ্যালিস্টার স্কোয়ার পাস ঠেলেন আর্জেন্টিনার বাঁ প্রান্ত থেকে উড়ে আসা ডি’মারিয়ার দিকে। আগুয়ান ফরাসি রক্ষক হুগো লরিসকে এড়িয়ে বল জড়িয়ে যায় জালে। পেনাল্টি আদায়ের ক্ষেত্রেও মেসির ভূমিকা ছিল। ফ্রান্সের পেনাল্টি বক্সের সামনে থেকে তিনি বল বাড়ান বাঁদিকে, ডি’মারিয়ার উদ্দেশ্যে। সেই বল রিসিভ করে ফ্রান্সের পেনাল্টি বক্সে ঢোকেন ডি’মারিয়া। তখন তাঁকে ফাউল করা হয়। 

এদিন শুরু থেকেই ‘চার্জড আপ’ হয়ে মাঠে নামে আর্জেন্টিনা। জাতীয় সঙ্গীতে গলা মেলানোর সময়েই তাঁদের আগ্রাসী মনোভাব ফুটে ওঠে। সারা মাঠ জুড়েই দাপটের সঙ্গে খেলেন লাতিন আমেরিকানরা। এর তুলনায় ফ্রান্স অনেকটাই দমে রয়েছে। ফরাসীদের শরিরী ভাষাতেও আগ্রাসনের লেশমাত্র নেই। সারা টুর্নামেন্ট জুড়ে অনবদ্য ফুটবল উপহার দেওয়া গ্রিজম্যান এবং এমবাপ্পে এদিন প্রথমার্ধে বলে পা ছোঁয়াতে পারেননি। তুলনায় জিরু কিছুটা চেষ্টা করেন। ১৯ মিনিটে তাঁর হেড অল্পের জন্য লক্ষভ্রষ্ট হয়। এছাড়া ফ্রান্স বলার মতো কোনও ‘মুভমেন্ট’ গড়ে তুলতে পারেনি। যদিও গোটা চিত্রনাট্যটাই পাল্টে যায় দ্বিতীয়ার্ধে। যার নেপথ্য নায়কের নাম কিলিয়ান এমবাপ্পে। 

Comments :0

Login to leave a comment