বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বাজার অনেক আগে থেকেই উত্তপ্ত বানারহাটের রাজনৈতিক ময়দান। বর্তমানে বানারহাটের রাজনৈতিক মানচিত্র কার্যত লাল পতাকায় মোড়া। চা বাগান থেকে বাজার, সর্বত্রই বামফ্রন্ট মনোনীত প্রার্থীর সমর্থনে উপচে পড়া ভিড় স্পষ্ট বুঝিয়ে দিচ্ছে, এই লড়াই স্রেফ ব্যালট বাক্সের নয়, বরং মানুষের অস্তিত্ব রক্ষার।
তৃণমূলের অপশাসন আর বিজেপির জনবিরোধী নীতির যাঁতাকলে পিষ্ট সাধারণ মানুষ এখন বিকল্পের খোঁজে। প্রচারের প্রতিটি মোড়ে উঠে আসছে কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও চা বাগানে ন্যায্য মজুরি বৃদ্ধির দাবি। বিশেষত, গত কয়েক বছরে বানারহাট এলাকার যুবকদের ভিন রাজ্যে পরিযায়ী শ্রমিক হতে বাধ্য করার যে সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে, তা নিয়ে ভোটারদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ। বাম নেতৃত্বের সাফ কথা, এবারের লড়াই দুর্নীতিগ্রস্তদের বিদায় দিয়ে যোগ্যদের হাতে নিয়োগপত্র তুলে দেওয়ার।
শনিবার বিকেলে বানারহাট তরুণ সংঘে বানারহাট ১ গ্রাম পঞ্চায়েতের সিপিআই(এম) সদস্যদের নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী কর্মী সভা হয়। সভার পর বাজারে জোরদার প্রচার চালান বামফ্রন্ট মনোনীত সিপিআই (এম) প্রার্থী নিরঞ্জন রায়। লাল ঝাণ্ডা হাতে মিছিলে শামিল হন শয়ে শয়ে সাধারণ মানুষ। জনসংযোগ চলাকালীন নিরঞ্জন রায় বলেন, ‘‘তৃণমূলের পাহাড়প্রমাণ দুর্নীতি আর বিজেপির সাম্প্রদায়িক মেরুকরণ আসলে একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। মানুষের সঙ্গে চলা এই দীর্ঘস্থায়ী ভাওতাবাজির জবাব দিতে বানারহাটের অলিগলিতে এখন একটাই ধ্বনি- রুটিরুজি ও অধিকারের প্রশ্নে কাস্তে-হাতুড়ি-তারার বিকল্প নেই।’’
এলাকার চা-বলয়ে বামেদের প্রচারের মূল ভিত্তি এখন শ্রমিকদের দৈনন্দিন জ্বলন্ত সমস্যা। একদিকে বন্ধ হওয়া বাগান, অন্যদিকে ন্যূনতম মজুরি থেকে বঞ্চিত শ্রমিক। শ্রমিকদের অভিযোগ, শাসক ও বিরোধী উভয় দলই ভোটের আগে গালভরা প্রতিশ্রুতি দিলেও আদতে কাজের কাজ কিছুই করেনি।
শনিবার বিকেলের এই জনজোয়ার জানান দিচ্ছে, শাসকের চোখরাঙানি উপেক্ষা করে লাল ঝাণ্ডার হাত ধরেই পরিবর্তনের নতুন সূর্য উঠবে বানারহাটে। আসন্ন নির্বাচনে মানুষের রায় যে দুর্নীতি ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধেই যাবে, তার আগাম আভাস মিলল বানারহাটের রাজপথে।
Election 2026 Banarhat
বানারহাটে লাল ঝাণ্ডার গর্জনে দিশেহারা শাসক-বিরোধী দুই শিবির
×
Comments :0